শনিবার, ২১ এপ্রিল ২০১৮, ৮ বৈশাখ ১৪২৫
logo
 
  • হোম
  • আদালত
  • ‘প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করতেই মিথ্যা স্বীকারোক্তি দেয়ানো হয়’
২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা

‘প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করতেই মিথ্যা স্বীকারোক্তি দেয়ানো হয়’

‘প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করতেই মিথ্যা স্বীকারোক্তি দেয়ানো হয়’

ঢাকা, ১৩ ডিসেম্বর, এবিনিউজ : ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্বকে হত্যার উদ্দেশ্যে পরিচালিত ভয়াবহ গ্রেনেড হামলায় প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করতেই নিরিহ জজ মিয়াকে দিয়ে মিথ্যা স্বীকারোক্তি আদায় করা হয়।

আজ বুধবার রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান কৌঁসুলী সৈয়দ রেজাউর রহমান ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় ২০তম দিনের মতো যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে এ কথা বলেন।

এসময় তিনি বলেন, খেটে খাওয়া নিরিহ জজ মিয়াকে দিয়ে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট হামলার ঘটনায় মিথ্যা সাজানো স্বীকারোক্তি আদায় করা ছিল একটি জঘন্য ঘটনা।

তৎকালীন সরকার ও প্রশাসনের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের দ্বারা এ অপকর্ম করানো হয়েছে। এটি অনেকটা রক্ষক হয়ে ভক্ষক হওয়ার মতো। ২১ আগস্ট হামলা পরিকল্পনায় প্রশাসনিক সহায়তার আশ্বাস বাস্তবায়নে এ অপকর্ম আইনের শাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করা।

জজ মিয়ার জবানবন্দি তুলে ধরে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে বলা হয়, জজ মিয়াকে ভয়-ভীতি, প্রলোভন দেখিয়ে মিথ্যা-বানোয়াট স্বীকারোক্তি আদায় করা হয়। শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্বকে হত্যা, দেশ জঙ্গিবাদের বিস্তৃতি ঘটাতে প্রকৃত জড়িতদের আড়াল করতে জজ মিয়াকে দিয়ে মিথ্যে স্বীকারোক্তির নাটক তৈরীর অপচেষ্টা চালানো হয়।

জজ মিয়া এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষি হিসেবে ৭ জন আসামীকে সম্পৃক্ত করে আদালতে জবানবন্দি পেশ করেন। আসামীরা হচ্ছেন-সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, সাবেক আইজিপি শহুদুল হক, আশরাফুল হুদা ও খোদা বকস চৌধুরী, মামলার সাবেক তিন তদন্ত কর্মকর্তা- সিআইডি’র সাবেক এসপি রুহুল আমিন, সিআইডি’র সাবেক এএসপি আতিকুর রহমান ও আবদুর রশিদ।

রাজধানীর পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডে পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারের পাশে স্থাপিত ঢাকার ১ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিনের আদালতে এ মামলার বিচার চলছে। মামলার কার্যক্রম আগামীক ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত মুলতবি করা হয়েছে। আদালতের আদেশে বলা হয়-আগামী ১৮, ১৯ ও ২০ ডিসেম্বর মামলার কার্যক্রম যথারীতি চলবে।

প্রধান কোঁসুলিকে যুক্তিতর্ক পেশে আরো সহায়তা করছেন আইনজীবী আকরাম উদ্দিন শ্যামল ও ফারহানা রেজা। এ ছাড়াও রাষ্ট্রপক্ষে আবুল কালাম আজাদ, মো. আমিনুর রহমান, আবুল হাসনাত, ইমানুর রহমান ও আশরাফ হোসেন তিতাস উপস্থিত ছিলেন। অপরদিকে আসামিপক্ষে আইনজীবী আব্দুল সোবহান তরফদারসহ অন্যান্যরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় গত ২৩ অক্টোবর থেকে রাষ্ট্রপক্ষে যুক্তিতর্ক শুরু হয়েছে।

আজ রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষি (পিডব্লিও) ১০২ থেকে ১২০ নং সাক্ষ্যের আলোকে জবানবন্দি তুলে ধরা হয। এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে মোট ৫১১ জনকে সাক্ষি করা হয়েছে। এর মধ্যে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা (আইও) সিআইডির জ্যেষ্ঠ বিশেষ পুলিশ সুপার আব্দুল কাহার আকন্দসহ ২২৫ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। আসামীপক্ষেও ২০ জন সাফাই সাক্ষ্য দিয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষ এসব সাক্ষ্য জেরা করেছে।

২১ আগষ্টের ওই নৃশংস হামলায় পৃথক দুটি মামলায় মোট আসামী ৫২ জন। মামলার আসামী বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, বিএনপি নেতা সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুসহ ২৩ জন কারাগারে রয়েছে। এ মামলায় পুলিশের সাবেক আইজি আশরাফুল হুদা, শহুদুল হক ও খোদাবক্স চৌধুরী, লে.কমান্ডার (অব:) সাইফুল ইসলাম ডিউক এবং মামলার সাবেক তিন তদন্ত কর্মকর্তা- সিআইডি’র সাবেক এসপি রুহুল আমিন, সিআইডি’র সাবেক এএসপি আতিকুর রহমান ও আবদুর রশিদসহ মোট ৮ জন জামিনে রয়েছে। তারেক রহমান, বিএনপি নেতা হারিছ চৌধুরী, শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, মেজর জেনারেল (এলপিআর) এটিএম আমিন, লে.কর্নেল (অব.) সাইফুল ইসলাম জোয়ার্দারসহ ১৮ জন এখনো পলাতক। এছাড়া ৩ জন আসামী জামায়াত নেতা আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, মুফতি হান্নান ও শরীফ সাইদুল আলম বিপুলের অন্য মামলায় মৃত্যুদন্ড কার্যকর হওয়ায় এ মামলা থেকে তাকে অব্যাহতি দেয়া হয়। পলাতক আসামীদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী রয়েছেন।

বিএনপি-জামায়াতের জোট সরকারের আমলে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের এক সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটে। ওই নৃশংস হামলায় ২৪ জন নিহত ও নেতকর্মী-আইনজীবী-সাংবাদিকসহ পাঁচ শতাধিক লোক আহত হয়। নিহতদের মধ্যে ছিলেন তৎকালীন মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের পত্নী আইভি রহমান। তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগের প্রথম সারির অন্যান্য নেতা এই গ্রেনেড হামলা থেকে অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান। শেখ হাসিনা প্রাণে বেঁচে গেলেও গ্রেনেডের প্রচন্ড শব্দে তার শ্রবণশক্তি আঘাতপ্রাপ্ত হয়।

এবিএন/জনি/জসিম/জেডি

প্রধান শিরোনাম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত