logo
বৃহস্পতিবার, ১৮ জানুয়ারি ২০১৮
 
  • হোম
  • সারাদেশ
  • গোবিন্দগঞ্জে শিক্ষা অফিসারের অপসারণের দাবীতে মানববন্ধন
উপজেলা প্রাথমিক

গোবিন্দগঞ্জে শিক্ষা অফিসারের অপসারণের দাবীতে মানববন্ধন

গোবিন্দগঞ্জে শিক্ষা অফিসারের অপসারণের দাবীতে মানববন্ধন

গোবিন্দগঞ্জ (গাইবান্ধা), ১৩ ডিসেম্বর, এবিনিউজ : গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ শিক্ষা অফিসে ব্যাপক অনিয়ম দুর্নীতি স্বেচ্ছাচারিতার সহ শিক্ষক সমাজ অতিষ্টে হয়ে সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন কতৃপক্ষের নিকট প্রতিকার না পেয়ে অফিসার রওনাক আখতারের অপসরনের দাবীতে সচেতন মহল মানববন্ধন করেছে। আজ বুধবার বিকাল ৩ টায় গোবিন্দগঞ্জ ঘোড়াঘাট সড়কের রিপোর্টার্স ফোরাম কার্যালয়ের সামনে  মানববন্ধন অনুষ্টিত হয়। দূর্নীতিবাজ শিক্ষা অফিসার রওনাক আখতারের অপসরনের দাবীতে এ মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের ওর্য়াকার্স পার্টির উপজেলা সম্পাদক ও নাগরিক কমিটির আহবায়ক এম এ মতিন মোল্লা, বাসদ কেন্দ্রীয় নেতা ও উপজেলা আহবায়ক কমরেড রফিকুল ইসলাম রফিক, শাহ আলম সরকার ও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেক শিক্ষক।    

বক্তারা বলেন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রওনাক আখতার পূর্বের কর্মস্থল পলাশ বাড়ী উপজেলা থেকে বিভিন্ন অপর্কমের কারনে শিক্ষকদের হাতে লাঞ্চিত হয়ে বদলি নিয়ে গোবিন্দগঞ্জে শিক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করার পর হতেই তার দপ্তরে আসা শিক্ষকদের সঙ্গে কারণে অকারনে অসৌজন্যমূলক আচরন করেন। তিনি কর্মস্থলে না থেকে ৪০ কিঃমিঃ দূরে বগুড়ার আলিসান বাসা থেকে অনিয়মিত ভাবে যাতায়াত করেন। শিক্ষা কর্মকর্তা রওনাক আখতার ২০১৫-১৬ ও ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে ২৬৮ বিদ্যালয়ে বরাদ্দকৃত প্রতিটি বিদ্যালয়ের ৪০ হাজার করে স্লীপ এর টাকা প্রধান শিক্ষকের নিকট থেকে ৬ হাজার টাকা ঘুষ বাবদ কর্ত্তন করে নেয়। প্রাক প্রাথমিক শ্রেনী (শিশু শ্রেনী) বরাদ্দ ৫ হাজার টাকার মধ্যে এক হাজার টাকা ঘুষ গ্রহন করেন। শিক্ষকদের স্লীপের ট্রেনিং বাবদ বরাদ্দকৃত ২৫০ টাকার মধ্যে ৮৪ টাকা করে ঘুষ বাণিজ্য করেছেন। সামজিক মূল্যায়ন কমিটির বাবদ বরাদ্দকৃত ৫ হাজার টাকার মধ্যে প্রতিটি স্কুলে এক হাজার টাকা কর্ত্তন করে নেয়।

এদিকে শিক্ষকদের বদলী সংক্রান্ত বিষয়ে ২০ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা উৎকোচ গ্রহন করেন। ২য় ধাপের শিক্ষকদের এরিয়া বিল করণ বাবদ প্রতি শিক্ষকের নিকট হতে ১০ হাজার টাকা উৎকোচ গ্রহন করেন। টাইম স্কেল করণ বাবদ প্রতি শিক্ষকের নিকট হতে এক হাজার টাকা উৎকোচ গ্রহন করেন। ২য় ও ৩য় ধাপে বিদ্যালয় গুলি জাতীয় করণের নিমিত্তে প্রতিটি স্কুলের জন্য ৫০ হাজার টাকা থেকে লক্ষাধিক টাকা করে উৎকোচ গ্রহন করেন। অপদিকে শিক্ষা কর্মকর্তা ২য ও ৩য় ধাপে প্রতিটি স্কুলে দপ্তরীকাম প্রহরীপদে নিয়োগে প্রতিজনের নিকট হতে প্রায় ৪ লক্ষ টাকা করে উৎকোচ গ্রহন করেন। সদ্য ২০১৭ ইং সালের শিক্ষার্থীদের জন্য পাঠানো সরকারী বই (এক ট্রাক ) রাতের আধারে বিকক্রি করে । যাহার আনুমানিক মূল্য দুই লক্ষাধিক টাকা আতœসাত করার অভিযোগ উঠেছে।

  এদিকে শিক্ষকগণ অফিসিয়াল কাজে শিক্ষা অফিসে আসলে তাদের সঙ্গে কারণে অকারণে অসৌজন্যমূলক আচরন,দুর্ব্যবহার ও অকথ্য ভাষায় গালি গালাজ করেন। তিনি অবসর প্রাপ্ত শিক্ষকদের নিকট থেকে পেনশন,গ্যাইচুটি,পেনশন এল,পি,আর কল্যান ভাতা ইত্যাদি বাবদ শিক্ষদের নিকট হতে ৫ হাজার হতে ১০ হাজার টাকা উৎকোচ গ্রহন করেন। বিগত চার বৎসর যাবত শিক্ষা কর্মকর্তা ছাত্র/ছাত্রীদের পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের লভাংশের সিংহভাগ টাকা যেমন প্রতি বছররে ৪ লাক্ষ টাকা হতে ৫ লাক্ষ টাকা আতœসাত করেছেন। উপজেলা শিক্ষকদের বরাদ্দকৃত আপ্যায়নের এক লক্ষ্য টাকা আতœসাত করেছেন।

অপর দিকে এই শিক্ষা কর্মকর্তা শিক্ষকদের  পি টি আই প্রশিক্ষনে পাঠানোর জন্য শিক্ষক প্রতি ২৫/৩০ হাজার  টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। প্রতিটি বিদ্যালয় থেকে প্রতি ৬ মাস পরপর বিদ্যুৎ বিল শিক্ষা অফিসে জমা হলেও জমা কৃত টাকা সংশ্লিষ্ট খাতে জমা না দিয়ে আনুমানিক চার থেকে ৫ লক্ষাধিক টাকা আতœসাত করেছেন। এমন কি বার্ষিক ক্রীড়া ও বই পরিবহনে বরাদ্দ কৃত প্রতিজনের জন্য ২৪ শত টাকার মধ্যে ৩শত টাকা কর্ত্তন করে আনুমানিক ৮০ হাজার টাকা আতœসাৎ করেছেন।

এদিকে শিক্ষা কর্মকর্তা অনুমোদন বিহীন নতুন করে বিদ্যালয় করার জন্য তদবীরের নামে প্রতিটি স্কুলের জন্য ৫০ হাজার টাকা করে উৎকোচ গ্রহন করেন এবং বই বিতরন করেছেন। সেই সকল বিদ্যালয়ের অনুমোদন বা অস্তিত্ব নেই। তার এইসব কর্মকান্ড শিক্ষা অফিসের হিসাব রক্ষক আব্দুর রহিম এর মাধ্যমে করে থাকে বলে জানাগেছে। শিক্ষা অফিসার রওনক আখতার সরকারী নিয়ম নীতি উপেক্ষা করে চার বছর যাবৎ একই উপজেলায় চাকরী করে আসছেন।

 এবিএন/তাজুল ইসলাম প্রধান/জসিম/তোহা

প্রধান শিরোনাম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত