শনিবার, ২১ এপ্রিল ২০১৮, ৮ বৈশাখ ১৪২৫
logo
 

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে জাতিসংঘ মহাসচিবের ৫ সুপারিশ

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে জাতিসংঘ মহাসচিবের ৫ সুপারিশ

ঢাকা, ১৩ ডিসেম্বর, এবিনিউজ : চলমান রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান ও বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদে ৫ দফা সুপারিশ দিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস।

নিউইয়র্কে মঙ্গলবার নিরাপত্তা পরিষদের এক বৈঠকে মহাসচিবের পক্ষে এসব সুপারিশ উপস্থাপন করেন জাতিসংঘের রাজনীতিবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল জেফ্রি ফেল্টম্যান।

গত ৬ নভেম্বর মিয়ানমার পরিস্থিতির ওপর প্রেসিডেন্সিয়াল স্টেটমেন্ট গ্রহণ করে ৩০ দিনের মধ্যে এ বিষয়ে বিবৃতি দিতে জাতিসংঘ মহাসচিবকে অনুরোধ জানিয়েছিল নিরাপত্তা পরিষদ।

মঙ্গলবারের বৈঠকে মহাসচিবের সেই বিবৃতি তুলে ধরতে গিয়ে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রশ্নে ওই ৫ সুপারিশ উপস্থাপন করা হয় সেগুলো হলো-

১. রাখাইন স্টেটের অ্যাডভাইজরি কমিশনের সুপারিশমালাকে ভিত্তি ধরে শান্তিপূর্ণ ও স্থায়ীভাবে বাস্তুচ্যুতদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে

২. প্রত্যাবাসন হতে হবে উচ্ছেদকৃতদের মূল ভূমিতে বা পছন্দনীয় কাছাকাছি কোনো স্থানে

৩. অবাধ চলাফেরার স্বাধীনতা থাকতে হবে যাতে তারা জীবন ধারণের মৌলিক প্রয়োজনগুলো সংস্থান করতে পারে

৪. প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে যোগ্যতার মানদণ্ড উদারভিত্তিক হতে হবে

৫. সব প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় জাতিসংঘের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে হবে।

নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য দেশগুলোর প্রতিনিধিদের পাশাপাশি অন্যদের মধ্যে বৈঠকে বক্তৃতা করেন ‘সংঘাতময় এলাকায় যৌন সহিংসতা বিষয়ক’ জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ প্রতিনিধি প্রমীলা প্যাটেন।

সাম্প্রতিক সফরে বাংলাদেশের উদ্বাস্তু ক্যাম্পগুলোয় আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা নারী ও শিশুদের ওপর রাখাইনে যে ভয়াবহ যৌন সহিংসতা হয়েছে, নির্যাতিত নারী ও শিশুদের কাছ থেকে শোনা সেই নির্যাতনের বর্ণনা তিনি বৈঠকে তুলে ধরেন।

প্যাটেন বলেন, ‘যারা এখনো যৌন সহিংসতার ক্ষতচিহ্ন নিয়ে বেঁচে আছেন এবং যারা নিষ্ঠুরতম এই যৌন সহিংসতার দৃশ্য নিজ চোখে দেখেছেন, তাদের সকলেই আমাকে বলেছেন, নারকীয়ভাবে মিয়ানমারের সেনা সদস্যরা ধর্ষণ, গণধর্ষণ এবং সেনাক্যাম্পে আটক রেখে দিনের পর দিন যৌনদাসত্বে বাধ্য করার মত জঘন্য কাজ করেছে।’

তিনি সহিংসতার শিকার এমন অনেক নারীর উদাহরণ দেন, যাদের কেউ কেউ টানা ৪৫ দিন সেনা ক্যাম্পে ধারাবাহিক যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।

প্যাটেন জানান, অনেক মেয়েকে তার স্বামী অথবা বাবার সামনে ন্গ্ন করে ধর্ষণ করা হয়েছে। অনেক মায়ের সন্তানদের গ্রামের জলকূপে ডুবিয়ে মারা হয়েছে। শিশুকে কেড়ে নিয়ে শিশুর সামনে মাকে ধর্ষণ করা হয়েছে; এবং ধর্ষণ শেষে শিশুটিকে আগুনের মধ্যে নিক্ষেপ করা হয়েছে।

এমনই সব মানবাধিকার লঙ্ঘনের কথা জানিয়ে প্যাটেন দ্রুততম সময়ে এই সহিংসতার সমাধানে নিরাপত্তা পরিষদকে সর্বক্ষমতা প্রয়োগের আহ্বান জানান।

নিরাপত্তা পরিষদের ডিসেম্বর মাসের সভাপতি জাপানের সভাপতিত্বে এ সভায় পরিষদের সদস্য দেশগুলোর বাইরে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারকেও বক্তব্য রাখার সুযোগ দেওয়া হয়। বাংলাদেশের পক্ষে বক্তব্য দেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন।

গত ১৬ নভেম্বর মিয়ানমারের মানবাধিকার পরিস্থিতির ওপর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের থার্ড কমিটি উন্মুক্ত ভোটের মাধ্যমে একটি প্রস্তাব গ্রহণ করে। থার্ড কমিটির ওই প্রস্তাব শিগগিরই সাধারণ পরিষদের প্লেনারিতে উপস্থাপন করার কথা রয়েছে।

এ ছাড়া গত ৫ ডিসেম্বর জেনেভায় মানবাধিকার কাউন্সিলে মিয়ানমারের মানবিক পরিস্থিতির ওপর একটি বিশেষ বৈঠক হয়; সেখানেও এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়।

গত ২৫ অগাস্ট রাখাইনে নতুন করে সেনা অভিযান শুরুর পর এ পর্যন্ত ৬ লাখের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। মিয়ানমারে নিপীড়নের মুখে গত কয়েক দশকে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়ে আছে আরও প্রায় ৪ লাখ রোহিঙ্গা।

এবিএন/সাদিক/জসিম/এসএ

প্রধান শিরোনাম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত