মঙ্গলবার, ২৪ এপ্রিল ২০১৮, ১১ বৈশাখ ১৪২৫
logo
 
  • হোম
  • সারাদেশ
  • পীরগঞ্জে অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় মহিলা সদস্যকে মারধর

পীরগঞ্জে অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় মহিলা সদস্যকে মারধর

পীরগঞ্জে অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় মহিলা সদস্যকে মারধর

পীরগঞ্জ(ঠাকুরগাও) , ১৩ ডিসেম্বর, এবিনিউজ : ঠাকুরগাওয়ের পীরগঞ্জে অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় মহিলা সদস্যকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে ডাকু মেম্বারের বিরুদ্ধে। এ নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের বৈঠক বসলে সেখানে প্রকাশ্যে ঐ মহিলা সদস্য সহ আরো ১ সদস্যকে মারধর করা হয়। এ ঘটনায় ইউপি সদস্য আলী হোসেন ডাকুর বিরুদ্ধে পরিষদ সভায় সর্ব সম্মভাবে অনাস্তা প্রস্তাব গৃহীত হয়। স্থানীয় সরকার আইন ২০০৯ এর ৩৯ ধারা অনুযায়ী ইউনিয়ন পরিষদ কতৃক ঐ সদস্যের বিরুদ্ধে গৃহীত অনাস্তা প্রস্তাব প্রয়োজনীয় ব্যবস্তা গ্রহনের জন্য গত রোববার উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট প্রেরণ করা হয়েছে।

ভোমরাদহ ইউনিয়ন পরিষদ ও এলাকাবাসী সুত্রে জানা যায়, ঐ ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ড সদস্য আলী হোসেন ডাকু একই ইউনিয়নের ৪,৫ও ৬ নং ওয়াডের সংরতি মহিলা সদস্য মিনু বেগমকে নানা কৌশলে ফাঁদে ফেলে তার সাথে অসামাজিক কাজে লিপ্ত হতে বাধ্য করে এবং তার মোবাইলে অশীল ভাষায় বার্তা প্রদান করে এবং বিভিন্ন প্রকার হুমকি ধামকি দেয়। এমন অভিযোগে গত ৩০ নভেম্বর বিকালে ইউনিয়ন পরিষদের সভাকক্ষে পরিষদের এক সভা ডাকা হয়। সভায় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিটলার হক, পরিষদের ৩ জন মহিলা সদস্য সহ আরো ৯ জন সাধারণ সদস্য উপস্তি ছিলেন। সভায় মিনু বেগমের দায়ের করা ঐ অভিযোগ বিষয়ে সদস্য আলী হোসেন ডাকুর নিকট জানতে চাওয়া হয়। এসময় অভিযোগ অস্বীকার করে আলী হোসেন ক্ষিপ্ত হয়ে সভাকক্ষে উপস্থিত মিনু বেগমকে মারধর শুরু করে এবং তার মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় মিনু বেগমের পাশে বসা সদস্য মোজাম্মেল হক সহ অন্যান্য সদস্যরা আলী হোসেনকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে। কিন্ত আলী হোসেন কোন কথা না শুনে মিনু বেগমকে মারধর করতে থাকে। এক পর্যায়ে সদস্য মোজাম্মেল ঐ মহিলা সদস্যকে বাচাতে এগিয়ে এলে তার বুকে আঘাত করে আলী হোসেন। এতে মোজাম্মেল জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। অবস্তা বেগতিক দেখে অন্যান্য সদস্যদের ধাক্কা মেরে দ্রুত সটকে পড়ে আলী হোসেন। পরে বুকে চাপ দিয়ে ও মালিশ করে মোজাম্মেলের জ্ঞান ফিরানো হয়। এরপর মোজাম্মেল ও মিনুকে পীরগঞ্জ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এ ঘটনায় ইউনিয়ন পরিষদের ঐ সভায় আলী হোসেনের এমন আচরণ ও কর্মকান্ডে তার বিরুদ্ধে স্থানীয় সরকার আইন ২০০৯ এর ৩৯ ধারা অনুযায়ী ইউনিয়ন পরিষদ কতৃক অনাস্তা প্রস্তাব গৃহীত হয়। এদিকে মিনু বেগম ইউপি সদস্য আলী হোসেনের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানীর অভিযোগ এনে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পীরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ বরাবরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার ঐ দরখাস্ত থানায় প্রেরণ করেছেন। তবে পুলিশ তা এখন মামলা হিসেবে রুজু করেনি। এ বিষয়ে পীরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ আমিরুজ্জামান বলেন, উপজেলা পরিষদ থেকে দরখাস্ত থানায় এসেছে। তদন্তের জন্য দেওয়া হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ ডব্লিউ এম রায়হান শাহ বলেন, মিনু বেগমের একটি দরখাস্ত থানায় পাঠানো হয়েছে আর আলী হোসেনের বিরুদ্ধে ইউনিয়ন পরিষদের অনাস্তা প্রস্তাবের কপি পেয়েছি। দেখি বিধি বিধান দেখে ব্যবস্তা নিবো।

এবিএন/ বিষ্ণু পদ রায়/জসিম/নির্ঝর

প্রধান শিরোনাম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত