logo
বৃহস্পতিবার, ১৮ জানুয়ারি ২০১৮
 

আমরা আবারও বিজয়ী হব ইনশাআল্লাহ : প্রধানমন্ত্রী

আমরা আবারও বিজয়ী হব ইনশাআল্লাহ : প্রধানমন্ত্রী
ঢাকা, ১৩ ডিসেম্বর, এবিনিউজ : আগামী জাতীয় নির্বাচনে বিজয় নিশ্চিত করতে দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দলকে শক্তিশালী করতে ব্যক্তিগত ত্যাগ স্বীকারের মাধ্যমেই দলের সর্বস্তরে ঐক্য প্রতিষ্ঠা করতে হবে। নেতাদের মধ্যকার বিভক্তির কারণে ষড়যন্ত্রকারীরা সুযোগ পেয়ে যেতে পারে। ঐক্যবদ্ধ থাকলে তা কখনই সম্ভব হবে না। সামনে নির্বাচন, আমরা আবারও বিজয়ী হবো ইনশাআল্লাহ এবং বাংলাদেশের উন্নয়নের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখব।
 
প্যারিসের ইন্টারকন্টিনেন্টাল প্যারিস লা গ্রান্ড হোটেলে ফ্রান্স আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক নাগরিক সংবর্ধনায় মঙ্গলবার এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
 
তিনি বলেন, ‘লোকজন যেহেতু আমাদের পক্ষে আছে। তাই আমরাই আগামী নির্বাচনে জিতব। মানুষ আমাদের ভোট দেওয়ার জন্য প্রস্তুত আছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কেউ যেন কোনো ষড়যন্ত্র করতে না পারে সে ব্যাপারে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।’
 
স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি যাতে আর কখনো ক্ষমতায় আসতে না পারে সে জন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ সৃষ্টিকারীরা যেন ক্ষমতায় এসে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা ব্যাহত করতে না পারে। সে জন্য প্রত্যেককে সজাগ থাকতে হবে। লুটপাট ও দুর্নীতির বিষয়েও মানুষকে সজাগ করতে হবে।’
 
শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ ৪৬ বছর আগে স্বাধীন হয়েছে কিন্তু ৩০ বছর ধরে দেশটি শাসন করেছে স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর দেশের মানুষ প্রকৃত উন্নয়নের স্বাদ পেয়েছে।’ 
 
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি বলে, তারা বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রচলন করেছে। কিন্তু আসলে তারা স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির পুনর্বাসন করেছে। তারা ভোট কারচুপির মাধ্যমে নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে ক্ষমতায় এসেছিল কিন্তু আওয়ামী লীগ জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়।’
 
২০০১ সালের নির্বাচনের পর বিএনপি সরকারের সময়ে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ওপর ‘রাজনৈতিক নিপীড়নের’ কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘তারা আসা মানেই দেশের মানুষের জন্য বিড়ম্বনা ঘটা, মানুষ খুন করা, আবার পুড়িয়ে মানুষ মারা।’
 
নির্বাচনের আগে এই সময়ে আওয়ামী লীগকে সাংগঠনিকভাবে আরও শক্তিশালী করার ওপর জোর দেন দলীয় সভানেত্রী।
 
তিনি বলেন, ‘যারা দলের জন্য এতটুকু ত্যাগ স্বীকার করতে পারে না, তারা আবার নেতৃত্ব দেবে কী?... সবাই বসে আলোচনার মাধ্যমে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।’
 
প্রবাসীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘প্রবাসী বাংলাদেশিদেরও তাদের নিজের আচরণের ক্ষেত্রে সংযত থাকতে হবে। আপনারা একটা বিষয় লক্ষ্য রাখবেন, তা হলো দেশের সম্মান। এ সম্মান যেন কোনোভাবেই ক্ষুণ্ন না হয়। এ ব্যাপারে সবাই সতর্ক থাকবেন। এটাই আমার অনুরোধ।’
 
রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন পাওয়ার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রত্যেকের সমর্থন পেয়েছি আমরা। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় আমরা সারা বিশ্বের মানুষের সমর্থন পেয়েছি। আর এ ঘটনায় পৃথিবীর প্রায় সব দেশই বাংলাদেশকে সমর্থন দিচ্ছে।’ 
 
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহামুদ আলী ও প্যারিসে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত কাজী ইমতিয়াজ হোসাইনসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা আওয়ামী লীগ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
 
সোমবার প্যারিসে পৌঁছানোর পর প্রধানমন্ত্রী মঙ্গলবার সকালে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন। দুপুরে ফরাসি প্রেসিডেন্টের দেওয়া মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন এবং বিকালে ‘ওয়ান প্ল্যানেট সামিটে’ যোগ দেন।
 
বুধবার ব্যবসায়ীদের নিয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। এদিনই রওনা হয়ে বৃহস্পতিবার তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে।
 
এবিএন/সাদিক/জসিম/এসএ

প্রধান শিরোনাম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত