logo
সোমবার, ২২ জানুয়ারি ২০১৮
 

বেরোবিতে নীল দল থেকে শিক্ষকদের গণপদত্যাগের গুঞ্জন

বেরোবিতে নীল দল থেকে শিক্ষকদের গণপদত্যাগের গুঞ্জন

বেরোবি, ১১ ডিসেম্বর, এবিনিউজ : শিক্ষক সমিতির নির্বাচন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও একাডেমিক পদ দখল ও ক্ষমতায়ন এবং প্রকাশ্যে কোন্দলের জন্য বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যমে খবরের উপজীব্য হয়েছে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজেদেরকে আওয়ামী সমর্থিত হিসেবে দাবি করা শিক্ষকদের দুই সংগঠন প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ এবং নীল দল। এবার নীল দল থেকে বেশকিছু শিক্ষকদের গণপদত্যাগের সুর ভেসে উঠেছে। গত কয়েকদিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অন্যতম সংগঠন নীলদল থেকে ১২ জনেরও অধিক শিক্ষক পদত্যাগ করেছেন বলে জানা গেছে।

গত কয়েক দিনে যে সকল শিক্ষক দলটি থেকে পদত্যাগ করেছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে তাদের মধ্যে রযেছেন- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. মোঃ এমদাদুল হক, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক বকুল কুমার চক্রবর্তী, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক মোঃ গোলাম রব্বানী সরকার, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক মোছাঃ রাজিয়া সুলতানা, রসায়ন বিভাগের প্রভাষক নুরুজ্জামান খান, অবিনাশ চন্দ্র সরকার, ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক মহুয়া শবনম, মার্কেটিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান শেখ মাজেদুল হক, পরিসংখ্যান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মোঃ রশীদুল ইসলাম, প্রভাষক মোঃ বিপুল হোসেন, সুকান্ত দাস। এর আগে একই বিভাগের অপর প্রভাষক অতুল চন্দ্র সিংহ কিছুদিন আগে দল থেকে পদত্যাগ করে শিক্ষা ছুটি নিয়ে দেশের বাইরে গেছেন।

জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর ২০১১ সালে শিক্ষকদের নিয়ে প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ নামে শিক্ষকদের প্রথম একটি সংগঠন আত্মপ্রকাশ করে। এরপর ২০১৪ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. একেএম নূর-উন-নবীর আমলে নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকদের সমন্বয়ে আত্মপ্রকাশ করে নীলদল।

শিক্ষকদের এই দুই সংগঠন তাদেরকে বরাবরই আওয়ামী সরকার সমর্থিত দল হিসেবে দাবি করে। প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ নিজেদেরকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, প্রগতিশীলমনা ও আওয়ামী সমর্থিত অপরদিকে নীল দল নিজেদেরকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের চেতনা, আদর্শ ও মূল্যবোধে উজ্জ্বীবিত এবং আওয়ামী লীগ সরকার সমর্থিত ও অনুসারী বলে দাবি করে আসছে। এই দুই সংগঠনের মধ্যে শিক্ষক সমিতি গঠনের পর থেকে সমিতির নেতৃত্বে ছিল প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ। সর্বশেষ ২০১৭ সালের নির্বাচনে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ বেশক’টি পদ দখল করে নীল দল।

দেখা গেছে, দুই দলেই নিজেদের আওয়ামী সরকার অনুসারী দাবি করলেও বিভিন্ন সময়ে নানান কারণে নিজেদের মধ্যে কোন্দলে জড়িয়ে পড়ে। উপাচার্য পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গেই পরিবর্তন আসে ক্ষমতার পালাবদলে। দুই দলের মধ্যে অনেকটা চলে পদ ও কর্তৃত্ব দখলের লড়াই। বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. একেএম নূর-উন-নবীর আমলে নীল দলের দখলে ছিলো বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিভিন্ন পদ। এরপর বর্তমান উপাচার্য  অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ যোগদানের পরপরই অনেকটা অলক্ষ্যে ছায়ার মত প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের দখলে আসে বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ পদ ও কর্তৃত্ব।

পদত্যাগ করার বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক বলেন, সাবেক উপাচার্যের আমলে জোর করে নীল দলের সদস্যপদ দেয়া হয়েছিলো। তাই ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেছি।

এদিকে একটি সূত্র জানিয়েছে, ক্ষমতার পালাবদলে প্রগতিশীলের অনুকূলে থাকতেই গণপদত্যাগের ঘটনা ঘটছে। এমনকি আসন্ন জানুয়ারি মাসে শিক্ষক সমিতির অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনকে ঘিরে পদত্যাগকারী অনেকেই প্রগতিশীলে যোগ দিচ্ছেন বলে জানা গেছে।

নীল দল থেকে শিক্ষকদের গণপদত্যাগের বিষয়ে দলটির সভাপতি ড. শফিক আশরাফের সঙ্গে আজ সোমবার সন্ধ্যায় যোগাযোগ করলে বলেন, তিনজনের পদত্যাগ পত্র আজ হাতে পেয়েছি। ১৫ জনের মত শিক্ষকের পদত্যাগের যে বিষয়টি বলা হচ্ছে তা আসলে ঠিক নয়। বিভিন্ন সময়ে বেশকয়েকজন শিক্ষক পদত্যাগ করলেও সংখ্যাটি আদৌ এত নয়।

কি কারণে পদত্যাগ করছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দলে থাকতে না চাইলে যে কেউ পদত্যাগ করতে পারে। সবাই ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেছে। তবে সংগঠনের সভাপতি হিসেবে বলবো, নীল দল জাতির পিতা বঙ্গবন্ধ শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ ধারণ করে। তাই কেউ বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ধারণ করতে না চাইলে কিংবা অন্য কোনো আদর্শ ধারণ করলে অথবা বঙ্গবন্ধুর আদর্শের বিরোধীতা করলে এখান থেকে যেতে পারে।

এবিএন/তপন কুমার রায়/জসিম/এমসি

প্রধান শিরোনাম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত