logo
সোমবার, ২২ জানুয়ারি ২০১৮
 
  • হোম
  • সারাদেশ
  • জগন্নাথপুর-শিবগঞ্জ সড়কের সেতুর এ্যাপ্রোচ বিধ্বস্ত: যান চলাচল বন্ধ

জগন্নাথপুর-শিবগঞ্জ সড়কের সেতুর এ্যাপ্রোচ বিধ্বস্ত: যান চলাচল বন্ধ

জগন্নাথপুর-শিবগঞ্জ সড়কের সেতুর এ্যাপ্রোচ বিধ্বস্ত: যান চলাচল বন্ধ

জগন্নাথপুর (সুনামগঞ্জ), ১১ ডিসেম্বর, এবিনিউজ : জগন্নাথপুর-শিবগঞ্জ-পাইলগাঁও -বেগমপুর সড়কের নলজুর নদীর উপর নির্মিত ঘোষগাঁও সেতুর এ্যাপ্রোচ বিধ্বস্ত হওয়ায় বুধবার থেকে উপজেলা সদরের সাথে ৩টি ইউনিয়নের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। প্রায় বছর খানেক ধরে সেতুটির পূর্ব পাড়ে প্রায় ৫০ফুট এলাকা জুড়ে এ্যাপ্রোচের মাটি ধ্বসে গিয়ে নদী গর্ভে বিলিন হয়ে যায়। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর এলজিইডির কর্তৃক প্রাথমিক ভাবে এ্যাপ্রোচ সংস্কার করা হলে হালকা যানবাহন চলাচল শুরু হয়। এক বছরে ৪র্থ বার এ্যাপ্রোচের বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনা ঘটে। আজ সোমবার সরেজমিন ঘোষগাঁও সেতুর এলাকা ঘুরে দেখা গেছে এ্যাপ্রোচের প্রায় ৫০ফুট এলাকা ধ্বসে যাওয়া অংশের এক পাশে প্রায় ২/৩ ফুট পরিমান স্থান দিয়ে লোকজন বিপদজনক অবস্থায় পায়ে হেঁটে সেতু পাড় হচ্ছেন।

আবার অনেক লোকজন ভয়ে সেতুর পরিবর্তে নৌকা দিয়ে নদী পাড় হচ্ছেন। খবর পেয়ে জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ মাসুম বিল্লাহ দ্রুত সেতুটির ধ্বসে যাওয়া এ্যাপ্রোচ স্থানটি পরিদর্শন করেন এবং লোকজনদের সতর্ক অবস্থায় যাতায়াতের পরামর্শ দিয়েছেন। এ্যাপ্রোচ ধ্বসে যাওয়ার খবরটি দ্রুত স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর এলজিইডিতে পৌছলে এলজিইডির জগন্নাথপুর উপজেলা প্রকৌশলী গোলাম সরোয়ারসহ একটি প্রতিনিধিদল ঘোষগাঁও সেতুর ধ্বসে এ্যাপ্রোচ স্থানটি পরিদর্শন করেছেন। এবং বিপদ সংকেতের লাল পতাকা টানানো হয়েছে।  অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নানের প্রচেষ্টায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) কর্তৃক ২০১৩ সালে ১৩কোটি টাকা ব্যায়ে ১৩৯দশমিক ১৫ মিটার দৈর্ঘ্যের গার্ডার সেতুটি নির্মান করা হয়।

সেতুটি নির্মিত হওয়ায় জগন্নাথপুর উপজেলার দক্ষিনাঞ্চল আশারকান্দি, পাইলগাঁও ও রানীগঞ্জ ইউনিয়নের যোগাযোগ ব্যবস্থায় উন্নিত হওয়ার পাশাপাশি সুনামগঞ্জ জেলা শহর থেকে ঘোষগাঁও সেতু দিয়ে ওসমানী নগর উপজেলার বেগমপুর হয়ে রাজধানী ঢাকায় কম সময়ে যাতায়াত সহজ হয়। ঘোষগাঁও সেতুটি নির্মিত হওয়ার পর জনসাধারন উপকৃত হলেও সেতুটির পূর্বপাড়ের এ্যাপ্রোচের মাটি ধ্বসে নদী গর্ভে বিলীন হওয়া ছাড়াও সেতুটির পশ্চিম পাড়ের সংযোগ সড়কের ভুমি অধিগ্রহন না হওয়ায় যাত্রীবাহি বাস এবং মালামাল বহনকারী যানবাহন চলাচল শুরু হয়নি। সেতুটির পশ্চিম পাড়ের এ্যাপ্রোচ থেকে বাদাউড়া নদীর পাড় ঘেসে বিকল্প সংযোগ সড়ক  দিয়ে বিপদজনক ভাবে হালকা যানবাহন এবং লোকজন পায়ে হেঁটে যাতায়াত করছেন।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক ঘোষগাঁও এলাকার বাসিন্দা রেজাউল করিম রিজু জানান, অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নানের প্রচেষ্টায় বিশাল সেতুটি নির্মিত হওয়ার ৪ বছর পেরিয়ে গেলেও সেতু দিয়ে যাত্রিবাহি এবং মালবাহি ভারী কোন যানবাহন এখনও চলাচল করতে পারেনি। সেতুটির নির্মানের পর পূর্ব পাড়ে এ পর্যন্ত ৪বার এ্যাপ্রোচ বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ বুধবার এ্যাপ্রোচের অবশিষ্ট বিধবস্ত হওয়ায় দক্ষিনাঞ্চের সাথে উপজেলা সদরের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। ফলে স্কুল, কলেজগামি শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি জনসাধারন যাতায়াতে চরম দূর্ভোগে পড়েছেন। এলজিইডির জগন্নাথপুর উপজেলা প্রকৌশলী গোলাম সারোয়ার জানান, সেতুটির ধ্বসে যাওয়া এ্যাপ্রোচ সংস্কারে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

এবিএন/রিয়াজ রহমান/জসিম/তোহা

প্রধান শিরোনাম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত