মঙ্গলবার, ২৪ এপ্রিল ২০১৮, ১১ বৈশাখ ১৪২৫
logo
 
থামছেনা মৃত্যুর মিছিল

এখনও অরক্ষিত রয়ে গেলো লাকসামের রেলক্রসিংগুলো

এখনও অরক্ষিত রয়ে গেলো লাকসামের রেলক্রসিংগুলো

লাকসাম (কুমিল্লা), ১১ ডিসেম্বর, এবিনিউজ : থামছেনা মৃত্যুর মিছিল। একের পর এক র্দূঘটনা ঘটেই চলছে। তার পরও এখনও অরক্ষিত রয়ে গেলো কুমিল্লার লাকসাম রেলওয়ে জংশন এলাকাধীন ঢাকা-লাকসাম-সিলেট-চট্টগ্রাম-চাঁদপুর-নোয়াখালী রেললাইনের বিভিন্ন রেলক্রসিংগুলো। মৃত্যুর মিছিলে ওই রেলক্রসিংগুলো এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। গত কয়েক বছরে ওইসব রেলক্রসিংগুলোতে বিভিন্ন দুর্ঘটনায় কমপক্ষে শতাধিক লোকের প্রানহানিসহ বহু যানবাহন দুর্ঘটনায় কবলিত হয়েছে। সম্প্রতি গত ১৭ অক্টোবর দুপুরে চট্রগ্রাম-ঢাকা-সিলেট লাইনের লালমাই উপজেলার বিজয়পুর এলাকার জেলখানা বাড়ি রোডের শ্রীনিবাস রেলক্রসিংয়ে সিলেটগামী আন্তঃনগর পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ট্রেনের সঙ্গে মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংর্ঘষে তিন জন নিহত হয়।

এদিকে গত দেড় বছরে ঢাকা-লাকসাম-সিলেট-চট্টগ্রাম রেলপথের কুমিল্লা ধর্মপুর, বিজয়পুর, হরিশ্চর, উত্তর লাকসাম, সাতবাড়িয়া, লাকসাম-নোয়াখালী রেলপথের বিপুলাসারসহ বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ ও অরক্ষিত লেভেলক্রসিংয় পারাপারের সময় কমপক্ষে শতাধিক লোকের প্রানহানিসহ বহু যানবাহন দুর্ঘটনায় কবলিত হয়েছে। এনিয়ে বিভিন্ন সংবাদপত্রে একাধিক সচিত্র সংবাদ প্রকাশিত হলেও টনক নড়েনি সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের। এতে ক্ষোভে ফুঁসে উঠছে এলাকার মানুষ। রেলওয়ের একটি সূত্রে জানা যায়, রেলওয়ে সংশ্লিষ্টদের তদারকির অভাব, গেটম্যান না থাকা, আর রেললাইন সংলগ্ন রেলওয়ের ভূমি অবৈধ দখলে নেয়ায় মরণফাঁদে পরিনত হয়েছে ওইসব রেলক্রসিংগুলো।

লাকসাম রেলওয়ে জংশনের আওতাধীন ঢাকা-লাকসাম-চট্টগ্রাম রেলপথে ৬৮টি, লাকসাম-চাঁদপুর রেলপথের আউটার সিগন্যাল পর্যন্ত ১টি এবং লাকসাম-নোয়াখালী রেলপথে ৪৮টিসহ ১১৭টি রেলক্রসিং রয়েছে। যা স্থানীয়দের তথ্য মতে প্রায় দুই শতাধিক। এর মধ্যে ৩৪টি রেলক্রসিংয়ে গেইট ও গেটম্যান থাকলেও বাকিগুলো রয়েছে অরক্ষিত। ফলে গত কয়েক বছরে ওইসব রেলক্রসিংয়ে বিভিন্ন দুর্ঘটনায় কমপক্ষে শতাধিক লোকের প্রানহানিসহ বহু যানবাহন দুর্ঘটনায় কবলিত হয়েছে।

আর তদারকির অভাবে অরক্ষিত কয়েকটি রেলক্রসিংয়ে সতর্কবার্তা সাইন বোর্ড দিলেও থেমে থাকেনি দূর্ঘটনা। একশ্রেণির অসাধূ ব্যাক্তি রেললাইনের রেলক্রসিং সংলগ্ন রেলওয়ের ভূমি অবৈধ ভাবে দখল করে বাড়ি-ঘর, দোকানপাট নির্মাণ ও গাছ গাছালি রোপন করার কারনে পথচারী বা যানবাহন চালকদের ট্রেন চলাচল চোখে পড়ছেনা। এ কারনে রেলক্রসিং দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে পথচারী বা যানবাহন চালকরা প্রতিনিয়ত প্রান হারাচ্ছেন। লাকসাম রেলওয়ে থানার ওসি স্বপন কান্তি বড়–য়া জানান, লাকসাম রেলওয়ে থানার অধীনে ১১৭টি রেলক্রসিং রয়েছে।

এর মধ্যে ৩৩টি রেলক্রসিং রয়েছে বৈধ। বাকিগুলো অবৈধ রেলক্রসিং হিসেবে রেলওয়ে কতৃপক্ষ নিজ দায়িত্বে পারাপারের জন্য সতর্কবার্তা লিখে সাইন বোর্ড ঝুলিয়ে রেখেছেন। আর নিজেদের অসাবধানতার জন্য অবৈধ রেলক্রসিং গুলোতে প্রতিনিয়তই প্রানহানিসহ বিভিন্ন যানবাহন দূর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে।

এবিএন/ইকবাল হোসেন মিন্টু/জসিম/তোহা

প্রধান শিরোনাম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত