logo
শনিবার, ২০ জানুয়ারি ২০১৮
 
  • হোম
  • সারাদেশ
  • নাসিরনগরে মন্দিরে হামলা: ২২৮ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

নাসিরনগরে মন্দিরে হামলা: ২২৮ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

নাসিরনগরে মন্দিরে হামলা: ২২৮ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট
ব্রাহ্মণবাড়িয়া , ১০ ডিসেম্বর, এবিনিউজ : ব্রাহ্মণবাড়িয়া নাসিরনগরে হিন্দুদের মন্দির ও বাড়িঘরে তাণ্ডবের সময় গৌর মন্দিরে হামলার ঘটনায় ২২৮ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেছে পুলিশ। আজ রবিবার বেলা পৌনে তিনটার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের পুলিশ পরিদর্শক মো. মাহবুবুর রহমানের কাছে এ চার্জশিট জমা দেন নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবু জাফর।
 
এ বিষয়টি নিশ্চিত করে পরিদর্শক মাহবুবুর রহমান জানান, আগের সব নথিপত্র দেখে চার্জশিট ঠিক আছে কি-না তা পরীক্ষা করা হচ্ছে। আশা করা হচ্ছে, আগামীকাল সোমবার সংশ্লিষ্ট আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হবে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
 
এ ব্যাপারে নাসিরনগর থানার ওসি মো. আবু জাফর জানান, চার্জশিটে ২২৮ জনকে আসামি করা হয়েছে। অভিযুক্তরা কেউ সরাসরি হামলায় অংশ নেয় কেউ বা নেপথ্যে থেকে কাজ করেছেন। তাদের বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণের যথেষ্ট প্রমাণ রয়েছে। চার্জশিটে ১৪৩, ৪৪৭, ৩২৩, ৩৮০, ২৯৫, ২৯৫ (ক), ৪৪৭ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।   
 
পুলিশের নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, চার্জশিটে উল্লেখ থাকা আসামিদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন- নাসিরনগর সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ প্রচার সম্পাদক মো. আবুল হাসেম, হরিপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাময়িক বরখাস্তকৃত চেয়ারম্যান দেওয়ান আতিকুর রহমান আঁখি, হরিপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি (বহিস্কারের সুপারিশকৃত) ফারুক মিয়া, চাপরতলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি (বহিস্কারের সুপারিশকৃত) সুরুজ আলী, উপজেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক মো. আব্দুল হান্নান, যুগ্ম-সাধারন সম্পাদক আমিরুল ইসলাম চকদার, হরিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. জামাল, হরিপুর গ্রামের কাপ্তান মিয়া, বিল্লাল হোসেন, মো. জাহাঙ্গীর আলম, মাওলানা মুখলেছুর রহমান, মো. জাকির হোসেন। এর মধ্যে আবুল হাসেম ও আব্দুল হান্নান ছাড়া বাকিরা গ্রেপ্তার হন। তবে তাঁরা সবাই বর্তমানে জামিনে আছেন।  
 
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, হামলার ঘটনায় গৌর মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক নির্মল চৌধুরী বাদী হয়ে নাসিরনগর থানায় দায়ের করেছিলেন। মামলার তদন্ত করেন নাসিরনগর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. শওকত আলী। দীর্ঘ প্রায় এক বছরের বেশি সময় তদন্তের পর তিনি মামলার অভিযোগপত্র তৈরি করেছেন।  
 
প্রসঙ্গত, নাসিরনগর উপজেলার হরিণবেড় গ্রামের রসরাজ দাস নামে জেলে পরিবারের এক যুবক ফেসবুকে ধর্ম অবমাননাকর ছবি পোস্ট করেছে-এ অভিযোগ তুলে ২০১৬ সালের ২৯ অক্টোবর তাকে পিটিয়ে পুলিশে দেয় একদল যুবক। এ ঘটনার পরদিন এলাকায় মাইকিং করে নাসিরনগর উপজেলা সদরে পৃথক দুইটি প্রতিবাদ সমাবেশ আহ্বান করা হয়। ওইসব সমাবেশে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরাও অংশ নিয়েছিলেন বলে অভিযোগ উঠে। সমাবেশে অংশগ্রহণকারিরা নাসিরনগর সদরে হিন্দুদের মন্দির ও বাড়িঘরে হামলায় চালায়। পরবর্তীতে ওই এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যেও হিন্দুদের একাধিক বাড়িতে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় নাসিরনগর থানায় মোট আটটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলাগুলো ‘স্পর্শকাতর’ হওয়ায় ও জড়িত হিসেবে অনেক রাজনৈতিক নেতার নাম উঠে আসায় ধীর গতিতে এগোয় পুলিশ। তবে রসরাজের মোবাইল ফোন থেকে ধর্ম অবমাননার ছবিটি পোস্ট করা হয়েছিল কি-না সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট হওয়া যায়নি।    
 
এবিএন/মমিন/জসিম

প্রধান শিরোনাম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত