মঙ্গলবার, ২৪ এপ্রিল ২০১৮, ১১ বৈশাখ ১৪২৫
logo
 
  • হোম
  • সাক্ষাৎকার
  • সমাজে দুর্নীতিবিরোধী সংস্কৃতি প্রোথিত করতে হবে : ইকবাল মাহমুদ

সমাজে দুর্নীতিবিরোধী সংস্কৃতি প্রোথিত করতে হবে : ইকবাল মাহমুদ

সমাজে দুর্নীতিবিরোধী সংস্কৃতি প্রোথিত করতে হবে : ইকবাল মাহমুদ

ঢাকা, ১০ ডিসেম্বর, এবিনিউজ : ইকবাল মাহমুদ দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সাবেক জ্যেষ্ঠ সচিব। বিসিএস ১৯৮১ ব্যাচের কর্মকর্তা। প্রশাসনে দীর্ঘ কর্মজীবন তার। ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব থাকা অবস্থায় ২০০৮ সালের জুনে পদোন্নতি পেয়ে সচিব হন তিনি। ২০০৯ সালে তাকে সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ের (বর্তমান জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়) সচিব করা হয়। এর পর ২০১২ সালে সরকার ‘সিনিয়র সচিব’ নামে নতুন পদ সৃষ্টি করলে আরও সাতজনের সঙ্গে তিনি সংশ্লিষ্ট পদ পান। সে সময় তিনি ছিলেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব। ওই বছর নভেম্বরে তিনি এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (এডিবি) বিকল্প নির্বাহী পরিচালকের দায়িত্ব পান। ২০১৪ সালে ডিসেম্বরে তার ওই দায়িত্বের মেয়াদ শেষ হয় এবং তিনি অবসরোত্তর ছুটিতে যান। দেশে-বিদেশে ২৪টি দফতরে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা নিয়ে ২০১৬ সালের ১৩ মার্চ নিয়োগ পান দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান হিসেবে। ১৪ মার্চ যোগ দেন দুদকে। দুর্নীতি ও তৎসংশ্লিষ্ট নানা বিষয় নিয়ে একটি দৈনিকের সঙ্গে তার কথা হয়। সাক্ষাৎকার অংশটি হুবহু তুলে ধরা হলো-

দুর্নীতি প্রতিরোধে আপনার প্রতিষ্ঠান কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে। দুদকের দুর্নীতি প্রতিরোধ বিষয়ে আপনাদের উদ্যোগগুলো যদি জানাতেন...

দুর্নীতি দমন কমিশন আইনে কমিশনের ১১টি কার্যক্রমের মধ্যে ছয়টিই দুর্নীতি প্রতিরোধের আওতাভুক্ত। এছাড়া দুদক আইনের ১৭(ট) ধারায় বলা হয়েছে, দুর্নীতি প্রতিরোধের জন্য প্রয়োজনীয় বিবেচিত অন্য যেকোনো কার্য কমিশন সম্পাদন করতে পারবে। অর্থাৎ দুর্নীতি দমন কমিশন দুর্নীতি প্রতিরোধে যেকোনো ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণে আইনিভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত। তাই কমিশন দুর্নীতি প্রতিরোধে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। কমিশন জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন, নগর ও মহানগর পর্যায়ে গঠিত দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গঠিত ‘সততা সংঘ’-এর মাধ্যমে দুর্নীতি প্রতিরোধ ও গণসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে বহুমুখী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। সরকারি কর্মকর্তাদের নিয়ে নিয়মিত গণশুনানি করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে এক প্রকারের জবাবদিহিতা সৃষ্টি হচ্ছে। জনগণ তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হচ্ছে। এছাড়া সততা সংঘের সদস্যদের নিয়ে নিয়মিত বিতর্ক প্রতিযোগিতা, রচনা প্রতিযোগিতা, কার্টুন প্রতিযোগিতা, মানববন্ধন, আলোচনা সভা ইত্যাদি আয়োজন করা হচ্ছে। ছাত্রছাত্রীদের মাঝে উত্তম চর্চার বিকাশে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গঠন করা হচ্ছে সততা স্টোর। এ পর্যন্ত ৬৩৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সততা স্টোর গঠন করা হয়েছে।

কমিশন এসব প্রতিরোধমূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে চায়।

দুর্নীতি দমনে দুদকের ভূমিকা নিয়ে নানা সমালোচনা রয়েছে। এ বিষয়ে আপনার মত কী? দুদককে একসময় নখদন্তহীন বাঘ হিসেবে অভিহিত করা হতো। এ ধারণা পরিবর্তন হয়েছে কি?

দুর্নীতি দমনে দুদকের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনাকে আমরা সাধুবাদ জানাই। গঠনমূলক সমালোচনাই হতে পারে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির উপায়। আমরা ক্রমাগত কমিশনের কার্যক্রমের পর্যালোচনা করছি। প্রতিষ্ঠানটিকে সব বিতর্কের ঊর্ধ্বে রাখার চেষ্টা করছি। অভিযোগ গ্রহণ প্রক্রিয়ায় পক্ষপাতিত্বের সুযোগ বন্ধ করা হয়েছে। আমরা কমিশনের নিরপেক্ষতা ও স্বাধীনতার প্রশ্নে কোনো আপস করব না। দুদক একটি জনবান্ধব প্রতিষ্ঠান। তাই প্রতিষ্ঠানটিকে হিংস্র কোনো প্রাণীর সঙ্গে তুলনা করতে চাই না। মানুষের ধারণা পরিবর্তন হয়েছে, এ বিষয়ে আমাদের কাছে গবেষণালব্ধ কোনো তথ্য নেই। তবে গণমাধ্যমসহ অন্যান্য সামাজিক মাধ্যমে মানুষের মতামত আমরা পর্যবেক্ষণ করি, তাতে কমিশনের প্রতি মানুষের আস্থা বৃদ্ধির ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতির খবর প্রায়ই গণমাধ্যমে প্রকাশ হচ্ছে। এটি প্রতিরোধে দুদক কী ভূমিকা রাখছে?

দুর্নীতির খবর শুধু গণমাধ্যম নয়, অন্য যেকোনো মাধ্যমে পেলেই কমিশন তাত্ক্ষণিকভাবে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করে। কমিশন দ্রুত সময়াবদ্ধ সময়ে প্রতিটি কার্যক্রম বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে। দেখুন, আমরা অনেক কিছুই প্রচার করি না। তার পরও কিছু বিষয় আপনাদের জানিয়ে রাখি। গণমাধ্যম ও কমিশনের অভিযোগ কেন্দ্রের হট লাইন ১০৬-এ অভিযোগ পেয়েই কমিশনের একাধিক দল প্রায় প্রতিদিনই দুর্নীতিপ্রবণ বিভিন্ন দপ্তরে যাচ্ছে। কমিশনের উপস্থিতির কারণে ওইসব দপ্তরে সেবা প্রদান প্রক্রিয়া আরো স্বচ্ছ হচ্ছে। এ পর্যন্ত হটলাইন ১০৬-এ অভিযোগ পেয়ে পাঁচজন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে ফাঁদ পেতে গ্রেফতার করা হয়েছে। ১২টি দপ্তরে কমিশনের বিশেষ টিমের সদস্যরা অভিযান চালিয়েছে। দুর্নীতি প্রতিরোধে কমিশনের এসব প্রচেষ্টা অবশ্যই নতুন মাত্রা সংযোজন করছে।

আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোয় সংঘটিত দুর্নীতি রোধে দুদকের উল্লে­খযোগ্য সাফল্য আছে কি?

আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোয় দুর্নীতির অভিযোগে কমিশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত তদন্তকারী কর্মকর্তারা গত দুই বছরে শতাধিক ব্যাংক কর্মকর্তা ও বেশকিছু ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছেন। অধিকাংশ আত্মসাতের ঘটনায় মামলা হয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তদন্ত চলমান রয়েছে। এক্ষেত্রে আমাদের বক্তব্য স্পষ্ট, ব্যাংক তাদের বিধিবিধান পরিচালনা করে অবশ্যই ঋণ দেবে। এক্ষেত্রে দুদকের কোনো ভূমিকা নেই। তবে কেউ যদি জালজালিয়াতি করে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে ঋণ নেন বা ঋণ দেন, তাহলে অবশ্যই তাদের আইনের মুখোমুখি হতে হবে। ব্যাংকিং খাতে দুর্নীতির ক্ষেত্রে কমিশন শূন্য সহিষ্ণুতা নীতি অবলম্বন করছে।

বেসিক ব্যাংকের আলোচিত দুর্নীতি নিয়ে আপনার মন্তব্য কী?

বেসিক ব্যাংকের দুর্নীতি নিয়ে ৫৬টি মামলা করা হয়েছে। প্রতিটি মামলা তদন্ত করা হচ্ছে। কমিশনের তদন্তকারী কর্মকর্তারা স্বাধীনভাবে তদন্ত করেন। তার পরও তাদের কমিশন থেকে বিশেষ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে, যদি তারা মনে করেন যে মামলাগুলো তদন্তের স্বার্থে বেসিক ব্যাংকের তৎকালীন পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যানসহ বোর্ডের অন্য সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন, তাহলে অবশ্যই তাদের আইনানুগ প্রক্রিয়ায় জিজ্ঞাসাবাদ করবেন। অর্থাৎ কমিশন থেকে বলা হয়েছে, তদন্তের স্বার্থে কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না।

হলমার্ক দুর্নীতি নিয়ে আপনাদের সর্বশেষ অবস্থা কী?

বিচারিক আদালতে হলমার্ক দুর্নীতি নিয়ে কমিশনের বেশকিছু মামলার বিচার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এ মামলার গুরুত্বপূর্ণ অনেক আসামি কারাগারে রয়েছেন।

দুদককে দায়মুক্তির প্রতিষ্ঠান বলা হতো একসময়। আপনি এ ধারণা রোধে কী কাজ করছেন?

আমাদের সব কার্যক্রমই প্রতিষ্ঠানটিকে কার্যকর, বিশ্বাসযোগ্য, নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টামাত্র। দেখুন, কমিশনের বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণের কারণেই এ প্রতিষ্ঠানের প্রতি জনগণের আস্থা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০১৫ থেকে ২০১৭ সালে কমিশনে অভিযোগপ্রাপ্তি বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ৬০ শতাংশ। এ বছরের শুরুতেই কমিশন থেকে বলা হয়েছিল, ২০১৭ সাল হবে ঘুষ গ্রহণকারী কর্মকর্তাদের আতঙ্কের বছর। আমরা আমাদের কথা রাখার চেষ্টা করেছি। আজ পর্যন্ত ২৩টি ফাঁদ মামলা পরিচালনা করে ঘুষখোর কর্মকর্তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। এখন প্রকাশ্যে ঘুষ খাওয়ার প্রবণতা নেই। ঘুষ এখন গোপন বিষয়ে পরিণত হয়েছে। তাছাড়া কমিশনের প্রসিকিউশনে বিভিন্ন সংস্কার করা হয়েছে। ২০১৭ সালে মামলার সাজার হার বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ৭০ শতাংশে উপনীত হযেছে। আমরা চেষ্টা করছি প্রায় শতভাগ মামলার সাজার বিষয়ে প্রসিকিউটিং এজেন্সি হিসেবে সঠিক দায়িত্ব পালন করতে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দুর্নীতি প্রতিরোধে নেয়া উদ্যোগ কাজে লাগবে বলে কি মনে করেন?

এক্ষেত্রে আমাদের চাওয়া একটিই। তা হলো, শ্রেণীকক্ষের শিক্ষা শ্রেণীকক্ষে ফিরিয়ে আনা। এক্ষেত্রে দুদক, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও শিক্ষকরা সমন্বিতভাবে কাজ করলেই আমাদের এ উদ্যোগ সফল হবে। এছাড়া আমরা চিন্তা করছি, ২০১৮ সালে কমিশন শিক্ষাক্ষেত্রে দুর্নীতি দমনে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবে। আমরা দেশ ও জাতির স্বার্থে কোচিংয়ের নামে ‘ক্যাপসুল’ শিক্ষা চাই না।

দুদকের সক্ষমতা ও ক্ষমতা বাড়াতে নেয়া উদ্যোগগুলো যদি তুলে ধরতেন। সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলা করার আগে বিভাগীয় অনুমতি নিতে হয়। এতে দুদকের কাজে কোনো প্রতিবন্ধক তৈরি হয়েছে কি?

দুদকের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য কর্মকর্তাদের দেশ-বিদেশে প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। মানি লন্ডারিং, সাইবার ক্রাইমের মতো অভিযোগ তদন্তে আমরা কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছি। কমিশনের নিজস্ব হাজতখানা, সশস্ত্র পুলিশ, গোয়েন্দা ইউনিট, অবকাঠামো নির্মাণসহ অনেক উদ্যোগই বাস্তবায়ন করা হয়েছে। সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলা করার ক্ষেত্রে কমিশনের কোনো অনুমতির প্রয়োজন নেই।

আপনার কমিশনের উল্লেখযোগ্য অর্জনগুলোর বিষয়ে কিছু বলুন

কমিশনের সব কার্যক্রম একটি চলমান প্রক্রিয়া। প্রতিটি কমিশনের অর্জন রয়েছে। তবে বর্তমান কমিশন চায় পদ্ধতিগত উন্নয়ন, যাতে ব্যক্তির চেয়ে পদ্ধতি বেশি গুরুত্ব পায়। বর্তমান কমিশন মোটা দাগে কিছু কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে, যেমন— অভিযোগের অনুসন্ধান বা তদন্তের গুণগত পরিবর্তন, প্রসিকিউশনে পদ্ধতিগত পরিবর্তন, প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ দুর্নীতি নির্মূল, গণশুনানিসহ জনবান্ধব কর্মসূচির মাধ্যমে দুর্নীতি প্রতিরোধে জনগণকে সম্পৃক্ত করা ইত্যাদি। কমিশনের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ, দুদকের নিজস্ব সশস্ত্র পুলিশ ইউনিট গঠন, হাজতখানা নির্মাণ, গোয়েন্দা ইউনিট গঠন, সম্পদ পুনরুদ্ধার ইউনিট গঠন, অভিযোগ গ্রহণে গ্রেডিং সিস্টেম প্রবর্তন, ২৫টি প্রাতিষ্ঠানিক টিম গঠনের মাধ্যমে ওইসব প্রতিষ্ঠানের দুর্নীতি প্রতিরোধ করা ইত্যাদি।

দুর্নীতি প্রতিরোধে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে অর্থায়ন একটি বড় বিষয়। সরকার থেকে যে বরাদ্দ দেয়া হয়, সেটি কি যথেষ্ট?

কমিশনের বাজেটে কোনো ঘাটতি নেই। আমরা যা বরাদ্দ চাই, সরকার তা-ই দেয়। দুর্নীতি প্রতিরোধে অর্থায়ন কোনো সমস্যা নয়।

দুদকের বেশকিছু কর্মকর্তার নামে ঘুষ, দুর্নীতির মাধ্যমে অভিযুক্তকে ছেড়ে দেয়ার অভিযোগ রয়েছে। এমনকি দুর্বল চার্জশিট দেয়ার কারণেও অনেক সময় অভিযুক্তরা পার পেয়ে যায়। এটি রোধে আপনার কর্মপরিকল্পনা কী?

দুর্নীতি দমন কমিশন আইনে কোনো একক ব্যক্তির অভিপ্রায় অনুসারে কাউকে অভিযুক্ত করা কিংবা কাউকে অব্যাহতি দেয়ার সুযোগ সীমিত। তার পরও বিচ্ছিন্ন দু-একটি ঘটনা ঘটতে পারে। বর্তমান কমিশন প্রতিটি তদন্ত প্রতিবেদন নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করে। এছাড়া প্রতিটি তদন্তে অভিযোগসংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ফৌজদারি দায়বদ্ধতা নির্ধারণ করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তদন্তে ফাঁকফোকর রাখার সুযোগ বন্ধ করা হয়েছে। এছাড়া এ-জাতীয় ঘটনা কমিশনের গোচরীভূত হলে কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। গত দুই বছরে সাত কর্মকর্তা-কর্মচারীকে গুরুদণ্ড দেয়া হয়েছে। পাঁচ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

দুদকের অনেক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অসততার অভিযোগ রয়েছে। এটি রোধে নৈতিকতার চর্চা জোরদার ও শাস্তিমূলক কোনো ব্যবস্থা নিয়েছেন কি?

দেখুন, দুর্নীতি দমন কমিশনে যে বা যারা কাজ করেন, তারা সবাই এ সমাজেরই মানুষ। সারা দেশ যদি মরুভূমি হয় আর দুদক মরূদ্যান হবে, সেটা ভাবা মনে হয় ঠিক হবে না। দুদক ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য হলো, কমিশনের কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যদি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আসে, তাহলে কমিশন তা তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়। গত দুই বছরে সাত কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বিভাগীয় দণ্ড দেয়া হয়েছে। শুধু এ বছরেই পাঁচ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বিভিন্ন অভিযোগে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়েছে। তবে এটাও সবাইকে মনে রাখতে হবে যে, দুদক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আসা কিন্তু অস্বাভাবিক নয়। কারণ এখানে স্বার্থের দ্বন্দ্ব রয়েছে। তবে কমিশন এসব ঘটনা রোধে শূন্য সহিষ্ণুতা নীতি অবলম্বন করছে।

দুর্নীতিতে বাংলাদেশ বিশ্বের প্রথম সারির কয়েকটি দেশের একটি। এখান থেকে আমাদের উত্তরণ ঘটছে না কেন?

দুর্নীতি এমন একটি সমস্যা, যা রাতারাতি নির্মূল করা সম্ভব নয়। উত্তরাধিকার সূত্রে অনেক দুর্নীতির উদ্ভব ঘটেছে। তবে আশার কথা, গত বছর টিআইএর জরিপে বাংলাদেশ ২ পয়েন্ট বেশি পেয়েছে। দুর্নীতির নিম্নমুখী প্রবণতা হয়েছে, এটি একটি আশার খবর। এখান থেকে উত্তরণে সমন্বিত প্রয়াস প্রয়োজন।

সরকারি চাকরি পেতে ঘুষ দেয়ার ঘটনা বাড়ছে। এটি প্রতিরোধ করা যাচ্ছে না কেন? এক্ষেত্রে দুদক কী ভূমিকা নিতে পারে?

নিয়োগ দুর্নীতি হচ্ছে দুর্নীতির প্রজননক্ষেত্র। এক্ষেত্রে কমিশনে যেসব অভিযোগ এসেছে, সেগুলোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। নিয়োগ দুর্নীতির ক্ষেত্রে কমিশন ন্যূনতম ছাড় দেবে না। নিয়োগ দুর্নীতি প্রতিরোধ পদ্ধতিগত উন্নয়ন ছাড়া সম্ভব নয়।

দুর্নীতি প্রতিরোধে করণীয় কী?

দুর্নীতি ঘটার আগেই প্রতিরোধের উপায় বের করতে হবে। দুর্নীতির কোনো ঘটনা ঘটলে দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। সমাজে দুর্নীতিবিরোধী সংস্কৃতি প্রোথিত করতে হবে। সমাজের প্রতিটি শ্রেণী-পেশার মানুষকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে স্ব স্ব অবস্থান থেকে সোচ্চার হতে হবে। এক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে মিডিয়া। মিডিয়াই দুর্নীতির বিরুদ্ধে নিরবচ্ছিন্নভাবে জনমত গড়তে পারে। (সৌজন্যে : বণিক বার্তা)

এবিএন/সাদিক/জসিম/এসএ

প্রধান শিরোনাম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত