logo
রবিবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৭
bijoy

কৃত্রিম আলোর দূষণে হারিয়ে যাচ্ছে রাতের আঁধার

কৃত্রিম আলোর দূষণে হারিয়ে যাচ্ছে রাতের আঁধার

ঢাকা, ২৩ নভেম্বর, এবিনিউজ: সারা পৃথিবীতে কৃত্রিম আলোর ব্যবহার বাড়ার কারণে রাত হারিয়ে যেতে বসেছে বলে বলছেন বিজ্ঞানীরা। রাতের পৃথিবীর বেশ কিছু ছবি গবেষণার পর তারা এই চিত্র দেখতে পেয়েছেন।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, ২০১২ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে প্রতি বছরে কৃত্রিম আলোর পরিধি বেড়েছে দুই শতাংশ। রাতের এই হারিয়ে যাওয়ার ফলে মানুষ ও প্রাণীজগতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে তাদের আশংকা।

এই গবেষণায় মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র নাসার স্যাটেলাইট রেডিওমিটারের চিত্র ব্যবহার করা হয়েছে, যেটি রাত্রিকালীন আলোর তীব্রতা পরিমাপ করতে পারে। সায়েন্স অ্যাডভান্স নামের একটি জার্নালে এই সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, সময় ও দেশভেদে আলোর তীব্রতা কমে বা বাড়ে। বিশ্বের সবচেয়ে আলোকিত দুটি দেশ স্পেন ও যুক্তরাষ্ট্রে আলোর তীব্রতা আগের মতোই আছে। তবে দক্ষিণ আমেরিকা, আফ্রিকা ও এশিয়াতে এটি ক্রমশ বাড়ছে। তবে যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়া ও ইয়েমেনে আলোর তীব্রতা কমেছে।

রাতের স্যাটেলাইট চিত্রে পৃথিবীকে উজ্জ্বল সমুদ্রতীর ও মাকড়সার জালের মতো আলোক সুন্দর দেখালেও এটি মানুষের স্বাস্থ্য ও পরিবেশের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলবে।

২০১৬ সালেই আমেরিকার মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন আনুষ্ঠানিকভাবে উচ্চ-তীব্রতা সম্পন্ন এলইডি লাইটের ক্ষতিকর দিকগুলো তুলে ধরে। যাতে বলা হয় এলইডিতে নীল আলোর বিচ্ছুরন বেশি হয়।

আরেকটি জার্নাল নেচারের সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, কৃত্রিম আলো পরাগযোগ কমিয়ে আনছে, যা রাতজাগা পোকামাকড়ের কার্যক্রম কমিয়ে আনছে। জার্মান রিসার্চ সেন্টারের জিওসায়েন্সের প্রধান গবেষক ক্রিস্টোফার কিবা বলেন, কৃত্রিম আলোর ফলে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে নাটকীয় পরিবর্তন নিয়ে আসে যার প্রভাব পড়েছে প্রকৃতিতে।

কিবা ও তার সহকর্মীরা আশা করেন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানীর মতো ধনী দেশগুলোতে কৃত্রিম আলো কমে আসছে।

বর্তমানে ইউরোপের যে কোনো জায়গায় প্রাকৃতিক রাতের আকাশ পাওয়া দুষ্কর। কৃত্রিম আলোয় উজ্জ্বল রাতের আকাশের সাথে মানিয়ে নিয়েছে মানুষ। অধ্যাপক গ্যাস্টন বলেন, 'পরিবেশের সাথে মানুষের সংঘাত সবসময় বিপর্যয় নিয়ে আসে, আলোর দূষণ তেমনই একটি ঘটনা, এটি ঠিক করা বা পাল্টে ফেলা বেশ কঠিন'।
আলো যেখানে প্রয়োজন সেখানেই ব্যবহার করা উচিত, অপ্রয়োজনীয় আলোই ক্ষতির কারণ হয়ে দাড়াচ্ছে।' বলছেন অধ্যাপক গ্যাস্টন।

ড. কিবা বলেন, যদি শহরে আলো কমিয়ে আনা হয় তবেও আমাদের দৃষ্টিতে প্রভাব ফেলবে না, কারণ মানুষের দৃষ্টি নির্ভর করে আলো-আঁধারির তারতম্যের ওপর, আলোর পরিমাণের ওপর নয়।

খুব উজ্জ্বল আলো বা সাজসজ্জার কাজে ব্যবহৃত বড় বাতি যদি কমিয়ে আনা যায় তবে কম আলোতে ভালো দৃষ্টি তৈরি করা সম্ভব হবে। এতে শক্তির অপচয়ও কমে আসবে, তবে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক তথ্য-উপাত্ত বলছে পৃথিবী সম্পূর্ণ উল্টোপথে হাটছে। সূত্র: বিবিসি বাংলা।
 

এবিএন/মমিন/জসিম

প্রধান শিরোনাম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত