logo
মঙ্গলবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৭
bijoy
‘যুদ্ধাপরাধের মতো’ ঘটনা ঘটেছে: মার্কিন প্রতিনিধি দল

মিয়ানমারকে তাদের নাগরিকদের ফিরিয়ে নিতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

মিয়ানমারকে তাদের নাগরিকদের ফিরিয়ে নিতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা, ১৯ নভেম্বর, এবিনিউজ : গণহত্যা ও নির্যাতনের মুখে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা নাগরিকদের মিয়ানমার ফিরিয়ে নেবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, ‘মিয়ানমার আমাদের নিকট প্রতিবেশী। আমরা চাই তারা তাদের নাগরিকদের ফিরিয়ে নেবে।’

জেফ ম্যার্কলির নেতৃত্বে সফররত মার্কিন সিনেটররা আজ রবিবার গণভবনে সাক্ষাৎ করতে গেলে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
মিয়ানমারকে তাদের নাগরিকদের ফিরিয়ে নিতে হবে: প্রধানমন্ত্রী
মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গা গ্রামগুলোতে ব্যাপক নৃশংসতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের কোনো ঘটনা ঘটেনি বলে দেশটির সেনাবাহিনী দাবি করলেও বাংলাদেশ সফরে আসা যুক্তরাষ্ট্রের আইনপ্রণেতাদের একটি প্রতিনিধি দল মনে করে, সেখানে ‘যুদ্ধাপরাধের মতো’ ঘটনা ঘটেছে।

প্রতিনিধি দলে সিনেটর রিচার্ড ডার্বিন, কংগ্রেসওম্যান বেটি ম্যাককলাম, জ্যান সাকোস্কি, কংগ্রেসম্যান ডেভিড এন সিসিলিন ছাড়াও ছিলেন বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট, ডেপুটি চিফ অব মিশন জোয়েল রেইফম্যান, সিনেটর মার্কলের এমএলএ লরা আপডেগ্রোভ, মার্কলের লেজিসলেটিভ ডিরেক্টর জেরিমিয়াহ বাউম্যান এবং সিনেটর ডারবিনের এমএলএ রব লিওনার্ড।

এসময় প্রধানমন্ত্রী জানান, রোহিঙ্গাদের শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। পাঁচ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী তাদের পরিচয়পত্র দিয়েছে।
মিয়ানমারকে তাদের নাগরিকদের ফিরিয়ে নিতে হবে: প্রধানমন্ত্রী
শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর হাতে নির্মম নিপীড়নের শিকার হয়ে জীবন বাঁচাতে বাংলাদেশের লাখ লাখ মানুষের ভারতে আশ্রয় নেয়ার কথা স্মরণ করে মানবিক কারণে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নৃশংসতার শিকার নাগরিকদের আশ্রয় দিয়েছে বাংলাদেশ।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর ও তাঁর বোন শেখ রেহানার ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুর নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর ভারতে আশ্রয় নেয়ার স্মৃতিও স্মরণ করেন।
মিয়ানমারকে তাদের নাগরিকদের ফিরিয়ে নিতে হবে: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তাঁর সরকারের প্রচেষ্টায় পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যা সমাধানের কথা উল্লেখ করে বলেন, ওই সমস্যায় ৬০ হাজারেরও বেশি নাগরিক ভারতে আশ্রয় নিয়েছিল এবং বাংলাদেশ তার নাগরিকদের ফিরিয়ে এনে তাদেরকে পুনর্বাসনের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা দিয়েছে।

বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।
মিয়ানমারকে তাদের নাগরিকদের ফিরিয়ে নিতে হবে: প্রধানমন্ত্রী
প্রেস সচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে কফি আনান কমিশনের রিপোর্টের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

মার্কিন সিনেটররা বলেন, প্রত্যেক দেশের এই অপরাধ ও জাতিগত নিধনের নিন্দা জানানো উচিত। এই সংকটের সমাধান ও উদ্বাস্তুদের তাদের নিজ দেশে ফেরাতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও সোচ্চার হতে হবে।

তারা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদার সহযোগিতার প্রশংসা করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র উদ্বাস্তু সমস্যা সমাধানে সবধরনের সহায়তা দিতে প্রস্তুত রয়েছে। তারা বলেন, উদ্বাস্তুরা তাদের আশ্রয় দেয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রতি খুবই সন্তুষ্ট।
মিয়ানমারকে তাদের নাগরিকদের ফিরিয়ে নিতে হবে: প্রধানমন্ত্রী
মিয়ানমার সেনাবাহিনীর ভয়ঙ্কর নিপীড়নের বর্ণনা দিয়ে জেফ ম্যার্কলি বলেন, তারা কক্সবাজারের শরণার্থী শিবিরে নির্যাতিতদের কাছ থেকে সরাসরি নিপীড়নের তথ্য সংগ্রহ করেছেন।

ইহসানুল করিম বলেন, মার্কিন সিনেট প্রতিনিধিদল বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির প্রশংসা করে বলেন, এটা হচ্ছে বাংলাদেশের মানুষের কঠোর পরিশ্রমের সাক্ষর। তারা নারীর ক্ষমতায়নেরও প্রশংসা করেন।

সিনেটররা জলবায়ু ইস্যু নিয়েও আলোচনা করেন এবং এ বিষয়ে বাংলাদেশের অগ্রণী ভূমিকার প্রশংসা করেন।

মার্কিন সিনেটর রিচার্ড ডারবিন, কংগ্রেসওম্যান বেট্টি ম্যাক কল্লাম ও জন সেহকোশি এবং কংগ্রেসম্যান ডেভিড সিসিল্লিন অন্যান্যের মধ্যে এই প্রতিনিধি দলে রয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী ও মুখ্য সচিব ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

এবিএন/জনি/জসিম/জেডি

প্রধান শিরোনাম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত