logo
রবিবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৭
bijoy

‘তুমি জানো কী বলতে হবে, মনে যা আসে তাই বলবে’

‘তুমি জানো কী বলতে হবে, মনে যা আসে তাই বলবে’

ঢাকা, ১৮ নভেম্বর, এবিনিউজ : বঙ্গবন্ধুর সাতই মার্চের ভাষণ লিখিত না হওয়ার পেছনে বেগম মুজিবের পরামর্শ ভূমিকা রেখেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যাওয়ার আগে বঙ্গবন্ধুকে বেগম মুজিব বলেছিলেন, ‘তুমি জানো কী বলতে হবে। তোমার মনে যা আসে তাই বলবে।’

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একাত্তরের ৭ মার্চের ভাষণকে ইউনেস্কোর ঐতিহাসিক স্বীকৃতি উদযাপন উপলক্ষে আজ শনিবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নাগরিক সমাবেশে এ কথা বলেন তিনি।

ইমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের সভাপতিত্বে নাগরিক কমিটি আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সাতই মার্চের ভাষণের দিনের স্মৃতিচারণা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যেদিন রেসকোর্সের ময়দানে বঙ্গবন্ধু ভাষণ দিতে আসবেন, ঠিক ভাষণ দেবার কিছুক্ষণ আগে আমার মা বাবাকে তার শোবার ঘরে নিয়ে বলেছিলেন ‘তুমি অন্তত ১০ থেকে ১৫ মিনিট একটু বিশ্রাম নাও।’ কারণ অনেকেই অনেক পরামর্শ দিচ্ছিলেন, অনেককেই অনেক লিখিত সিদ্ধান্ত জানাচ্ছিলেন। কী বলতে হবে না বলতে হবে নানা পরামর্শ আসছিল। অনেক লিখিত বক্তব্য আমার বাবার হাতে দেয়া হয়েছিল। আমার মা যখন তাকে ঘরে নিয়ে যান তখন আমি উপস্থিত ছিলাম। আমি তার মাথার কাছে বসেছিলাম। বসে বসে তার মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছিলাম।’

‘মা বাবাকে বলছিলেন, তুমি সেই কথাই বলবে যে কথা তোমার মনে আছে। তোমার মনে যে কথা আসবে তুমি শুধু সেই কথাই বলবে। ‍তুমিই জানো কী বলতে হবে।’ বঙ্গবন্ধু সেদিন কোনো লিখিত ভাষণ দেননি। লাখো জনতার সামনে তিনি বজ্রকণ্ঠে মন্ত্রমুগ্ধ করা স্বাধীনতার ডাক দিলেন তিনি।

সাতই মার্চের ভাষণের মধ্য বাঙালি জাতির মুক্তি রচনা হয়েছিল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পৃথিবীর বহু ভাষণ শ্রেষ্ঠত্বের স্বীকৃতি পেয়েছে। কিন্তু সেগুলো ছিল লিখিত। বঙ্গবন্ধুর ভাষণ লিখিত ছিল না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুর ভাষণের ঐতিহাসিক স্বীকৃতির মাধ্যমে বাঙালি জাতি সারা বিশ্বে সম্মানিত হয়েছে। বাঙালি জাতি আজ বিশ্বে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত।  বাংলাদেশে এগিয়ে যাচ্ছে। এগিয়ে যাবে। আজকে যে সম্মান অর্জন করেছে সেই সম্মান নিয়ে এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ।

জাতির পিতার ডাকে বাংলার মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল। সাতই মার্চ লক্ষ লক্ষ মানুষ জমায়েত হয়েছে। মানুষ বৈঠা হাতে নিয়ে স্বাধীনতার চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে এসেছিল। তিনি একটি জাতিকে স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে।

এবিএন/জনি/জসিম/জেডি

প্রধান শিরোনাম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত