logo
শনিবার, ২৫ নভেম্বর ২০১৭
 

আওয়ামী লীগ নিজেদের কোন্দল থামাতে পারবে?

আওয়ামী লীগ নিজেদের কোন্দল থামাতে পারবে?

ফজলুল হক, ১৩ নভেম্বর, এবিনিউজ : মাঝে মাঝে মনে হয় আমাদের জীবনটা একটা লড়াই– আমরা লড়াইয়ের মাঠে আছি, মুক্ত মানুষ হওয়ার লড়াই, মুক্ত সমাজের জন্য লড়াই। মুক্ত মানুষ হওয়ার স্বপ্ন আমি দেখেছিলাম, মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়ার মাধ্যমে। মুক্তিযুদ্ধ বাঙালিকে বড় স্বপ্ন দেখার ক্ষমতা ও সুযোগ করে দিয়েছিল। যেখানে যত বৈষম্য দেখেছি, যত নিপীড়ন দেখেছি, তার উপর আঘাত করার ক্ষমতা আমাদেরকে দিয়েছিল– মুক্তিযুদ্ধ। নতুন আলোর দিশা পেয়েছিলাম। নতুন সমাজ গড়ার সুযোগ পেয়েছিলাম। মানুষ– সংঘাত, ঘৃণা বিদ্বেষে জর্জরিত। বস্তুগত সম্পদের জন্য সে পাগল। ভুল রাস্তায় চলতে চলতে আমরা বিভ্রান্ত। আমার নিজেকে এখন মনে হয়, আমি ক্ষুদ্র। নিজের গন্ডীতে আমি বন্দী হয়ে আছি। আমাদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ছে স্বার্থের দ্বন্দ্ব লোভের যুদ্ধ, সন্ত্রাস, মানবতা বিরোধী চরম পন্থার বিস্তার। কিছু মানুষ বেশী খাচ্ছে, কিছু উপোষ করছে। অনেক অনেক মানুষ দুর্দশাগ্রস্ত। দখল, লুণ্ঠন, আগ্রাসন চলছে। আমরা সবাই এখন অস্তিত্বের সংকটে। আমরা মার খাচ্ছি, লুটেরাদের হাতে।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রতি আমি অনুগত। আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছে। আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধুর দল। আওয়ামী লীগের কাছে জনগণের অনেক প্রত্যাশা। আওয়ামী লীগ মানুষের প্রত্যাশা পুরণ করুক, এটা আমি চাই। কিন্তু আপনি চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগের ভেতরকার অন্তঃ কোন্দল দেখলে, আপনার মনে প্রশ্ন জাগবে– এ দল ভবিষ্যতে নির্বাচনের মাঠে দাঁড়াবে কি ভাবে? এত কোন্দল? মানুষ সুশাসন চায়। আওয়ামী লীগ তা দিতে পারছে? নিজ দলের ভেতরে হানাহানি থামাতে পারবে? হানাহানি কেন করেন? কোন্দলমুক্ত আওয়ামী লীগ দেখে যেতে পারব?

আওয়ামী লীগের জন্য চ্যালেঞ্জ হচ্ছে, দলটি একটি আধা সামন্তবাদী, অবিকশিত পুঁজিবাদী কাঠামোর দেশ পেয়েছিল ৭১/৭২ সালে। আওয়ামী লীগ আমাদের সমাজের ও অর্থনীতির মৌলিক পরিবর্তনের চেষ্টা করেছে, কোন কোন ক্ষেত্রে সফল ও হয়েছে। কিন্তু মনে রাখতে হবে– ১৯৭২ সালে দেশটি ছিল যুদ্ধ বিধ্বস্ত, অর্থনীতি ছিল অপরিপক্ক নবজাত শিশু, সমাজ কাঠামো ছিল পশ্চাৎপদ– পুঁজিবাদী ধাঁচের অবিকশিত পর্যায়গুলো আওয়ামী লীগের জন্য বাধা ছিল। আমরা আওয়ামী লীগের কাছ থেকে কি আশা করতাম? আশা করতাম, সব নাগরিকের জন্য পুর্ণ কর্মসংস্থান, আমরা মুক্তিযোদ্ধারা ঘোরাঘুরি করছিলাম– আমরা চাকরি চাই। কাজ চাই, জীবনের নিরাপত্তা চাই। সকলের জন্য চিকিৎসা সুবিধা চাই। সবার জন্য থাকার ঘর চাই। নারীর আরো বেশী অধিকার চাই। নারীকে তুলে নিয়ে ধর্ষন করবে– ধর্ষকের ফাঁসী চাই। শুধু ফাঁসী নয়, ধর্ষণের ঘটনা প্রমাণিত হওয়ার সাথে সাথে যাতে ধর্ষককে গুলি করে মেরে ফেলা যায়, সে রকম আইন চাই। যে হোটেলে, যে বাসে বা যার সাহায্যে ধর্ষণ করা হবে, তাকেও শাস্তি দেয়ার মতো আইন চাই। উন্নয়নের আগে নির্যাতন বন্ধের উদ্যোগ চাই, ধর্ষকের কঠোরতম শাস্তি চাই। গার্হস্থ্য শৃংখলে নারী বন্দী হয়ে আছে, তার মুক্তির আইনগত উপায় বের করুন, এটা চাই। এজন্য প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ চাই। উচ্চ শিক্ষায় নারীর প্রবেশাধিকার চাই। গরীবের প্রবেশাধিকার চাই। শিক্ষা নিয়ে যারা বাণিজ্য করে তাদের শাস্তি চাই। আওয়ামী লীগ এসব দাবি পূরণের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করলে, আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় যেতে পারবে। আমলাতান্ত্রিকতা ও কর্তৃত্ববাদী ব্যবস্থা আওয়ামী লীগের জন্য সুফল বয়ে আনবেনা। উপরের সামাজিক সুবিচারের দাবী পুরণ করার চেষ্টা আওয়ামী লীগকে করতে হবে।

আমরা আশা করি, আওয়ামী লীগ দেশকে সুশাসন উপহার দেবে। সে দিতে পারবে। সুশাসন থাকলে দেশ আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরিণত হবে। আওয়ামী লীগ বিরোধী একজন অধ্যাপক আমাকে বল্লেন কোন কারণ ছাড়াই আপনারা আওয়ামী লীগের পক্ষে লিখে যাচ্ছেন। যে দলে এত কোন্দল, সে দল সুশাসন আনবে কি করে? বড় দলে কোন্দল থাকবেই, এই কথা বলে, আওয়ামী লীগের নেতারা পার পেতে চায়। অন্যের কাছ থেকে শুনে শুনে আওয়ামী লীগ নেতারা কথা বলেন। বেশীর ভাগই “লেখাপড়া” জানেন না। উনাকে রাগিয়ে দেয়ার জন্য আমি বল্লাম, আপনিতো ভাল লেখা পড়া জানেন। আপনি কেন কোন একটি দলের পাতি নেতার পেছন পেছন হাঁটেন? কোন পেশাজীবীর পলিটিক্যাল সাপোর্ট এবং ব্যাকিংয়ের দরকার হবে কেন? আপনি নিজের দিকে তাকান। অন্যের সমালোচনা করুন। কিন্তু আওয়ামী লীগ নেতাদের অশিক্ষিত বলছেন কেন? তিনি একটু নরম হয়ে বললেন বড় দলে কোন্দল থাকবেই, কিন্তু কনফ্লিক্ট ম্যানেজমেন্ট একটি সাংগঠনিক প্রক্রিয়া। কিন্তু আওয়ামী লীগ কি তাদের দলে কনফ্লিক্ট ম্যানেজ করতে অক্ষম নয়? আওয়ামী লীগ অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে ক্ষত বিক্ষত একটি দল। নিজেদের ভেতরে মারামারি করে– আপনার পছন্দের দল আওয়ামী লীগ অতীতে ক্ষমতা হারিয়েছে।

আমি বল্লাম, রাজনীতির বা ক্ষমতার অন্দর মহলে এমন সব অলৌকিক, ম্যাগনিফিশিয়েন্ট ট্রিক্‌স্‌, কোন্দল, দলাদলি আছে যা নিয়ন্ত্রণ করতে বড় মাপের নেতারাও হিমশিম খেয়েছেন। আসলে ভাই অধ্যাপক সাহেব, আপনাকে বলি, আপনি কন্‌ফিক্ট্ল হ্যান্ডলিং বিষয়ে কিছু কেস স্টাডি ঘেঁটে দেখুন। কনফ্লিক্ট হ্যান্ডলিং বিষয়ে আপনি মুখরোচক কথা বলেছেন। শুনে শ্রোতা হয়ত খুশীতে হাত তালি দেবে, কিন্তু আপনি বুঝে কথা বলেননি, আওয়ামী লীগকে ঘায়েল করার জন্য বলেছেন। বলেন তো, কাক– কোকিলের বাসায় ডিম পাড়ে? না কোকিল কাকের কাকের বাসায় ডিম পাড়ে? উনি হেসে বল্লেন, ওবায়দুল কাদের সাহেব বলেছেন, “কাউয়া” কোকিলের বাসায় ঢোকে। আসলে কোকিল কাকের বাসায় ডিম পাড়ে। ভদ্র লোক হাসেন। দ্বন্দ্ব সংঘাত কোথায় নেই? বল্লেন, আসলেই কোন্দল নিষ্পত্তি করা সহজ কাজ নয়। অনেকে ঘর সামলাতে পারেনা, দল সামলাবে কি? জওয়াহের লাল নেহেরু উপমহাদেশের একজন বিখ্যাত নেতা ও স্ট্‌েটসম্যান, যিনি গণতান্ত্রিক ভারতকে নির্মাণ করার জন্য পরিশ্রম করেছেন। ইন্দিরা গান্ধী নেহেরুর মেয়ে। ইন্দিরা এক বিখ্যাত নারী– যাকে গণতান্ত্রিক ভারত কখনো ভুলবেনা। নেহেরুর জীবনী পড়ে জানা যায়, ইন্দিরা ফিরোজকে বিয়ে করতে চেয়েছিলেন। নেহেরুকে রাজী করাতে ইন্দিরাকে গান্ধীজীর শরণাপন্ন হতে হয়েছিল। কিন্তু বাপ–বেটির মধ্যে কোন্দল তৈরি হয়েছিল, সেটা শোনা যায়নি। কিছু দ্বন্দ্ব হয়েছিল। কিন্তু ইন্দিরার দুই পুত্রবধু, সোনিয়া মাইনো এবং মনেকাকে নিয়ে ইন্দিরা পারিবারিক এবং রাজনৈতিক কোন্দলে পড়েছিলেন। শিখ মেয়ে মানেকা ২১ বছর বয়সে স্বামী সঞ্জয়কে হারান। ঠিক এই বয়সে ইন্দিরা বাবা নেহেরুর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে ফিরোজকে বিবাহ করেন। ৪১ বছর পর ইন্দিরা কেবল কোন্দল নয়– প্রচন্ড বিদ্রোহের মুখোমুখি হলেন, শিখ সেনা কর্মকর্তার মেয়ে মানেকা বয়সে তরুণ (তরুণী) কিন্তু প্রচন্ড উদ্যেমী ও উচ্চভিলাষী। স্বামী সঞ্জয়ের কাছ থেকে ক্ষমতার স্বাদ সম্পর্কে ধারণা পেয়েছেন। মানেকা ভারতের ক্ষমতার কেন্দ্র বিন্দু থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করতে রাজি ছিলেন না। হয়ত আশা ছিল, আজীবন রাজনৈতিক আবহে মানেকা বাস করবেন। মানেকা ও ইন্দিরার মাঝে দ্বন্দ্ব, কোন্দল কোন্‌ পর্যায়ে ছিল? মানেকা, তার মা এবং তার বোন অম্বিকা এক জোট হয়ে প্রধানমন্ত্রীকে হেয় করার চেষ্টা করছেন বলে সরকারের ধারনা তৈরি হয়। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস এর সম্পাদক খুশবন্ত শিং কে ইন্দিরা জানান, তিনি যেন মানেকাকে জিজ্ঞেস করেন, মানেকা কেন প্রধানমন্ত্রীর জন্য সমস্যা তৈরি করেন? খুশবন্ত সিং যখন মানেকার কাছে এই প্রশ্ন তোলেন, মানেকা উত্তর দেন, এই বুড়ো বদমেজাজী মহিলা তার সঙ্গে “নোংরা” আচরণ করেছেন।

আপনারা বলুন, ভারতের গণতন্ত্রের নির্মাতা ইন্দিরা গোটা বিশ্বকে দেখিয়েছেন, এত বিশাল এক রাষ্ট্র শাসন করা তার কাছে কঠিন ব্যাপার নয়। তিনি কি উনার ঘরের কোন্দল সামাল দিতে পেরেছিলেন? আমরা প্রণব মুখার্জির আত্মজীবনী পড়ে ইন্দিরা পরিবারের কিছু তথ্য পাই। (আপনারা দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকায় এর উপর ধারাবাহিকভাবে ছাপা প্রবন্ধ দেখতে পারেন, যেমন, ৫ নভেম্বর “ইন্দিরা পরিবারের অন্তঃ কলহ” লেখক সোহরাব হাসান– পড়ে দেখতে পারেন।) ইন্দিরা গান্ধীর জীবনীকার ক্যাথরিন ফ্রাংক এবং পিপলু জয়াকারের লেখা থেকে পারিবারিক কোন্দলের অনেক তথ্য আপনি জানতে পারবেন।

ইন্দিরা গান্ধী একজন লৌহ মানবী হলেও, তিনি একজন মা। একজন মা চাইবেন তার সন্তানদের বিয়ে শাদী দিয়ে সুখী পরিবারে থাকতে। ১৯৬৪ সালে ইন্দিরা যখন লন্ডন সফর করছিলেন, তখন জানতে পারেন যে উনার বড় ছেলে রাজীব ইতালীর মেয়ে সোনিয়া মাইনোকে ভালবাসে। সোনিয়া মৃদুভাষী ও ভদ্র। ১৯৬৮ সালে রাজীবের সাথে সোনিয়ার বিবাহ হয়। ছোট ছেলে সঞ্জয়ের জন্য কাশ্মিরী সুন্দরী মেয়ে খুঁজছিলেন ইন্দিরা। ১৯৭৪ সালে ইন্দিরা জানলেন, সঞ্জয় বিয়ে করতে চায়, শিখ সেনা কর্মকর্তার মেয়েকে। নাম মানেকা। ইন্দিরা গান্ধী মুষড়ে পড়েন। ১৭ বছর বয়সী মানেকা ভারতের সব চাইতে ক্ষমতাশালী নারী প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরার ঘরে আসে। শুরু থেকে ইন্দিরার সাথে মানেকার খটমট লেগে থাকে। মানেকার মা আমতেশ্বর আনন্দ উচ্চাভিলাষী মহিলা, শাশুড়ি চাইতেন জামাতা সঞ্জয় যে অবস্থানে আছে মানেকা সে অবস্থানে থাক। ১ সফদরজং রোডে মানেকার পুত্র ফিরোজ বরুন– দাদী ইন্দিরার সাথে থাকত। বরুন রাতে ইন্দিরার সাথে ঘুমাত। তারপরও ইন্দিরার উদ্দেশ্যে মানেকার মন্তব্য ছিল– “বাঘের পিঠে দুর্গা উঠেছে।” সৌদি রাজ পরিবারের অন্দর মহলের কাহিনী নয়, মোগল হেরেমের কিস্‌সা নয়, বিভিন্ন গ্রন্থ থেকে আমরা জানতে পারছি, গণতান্ত্রিক ভারতের গণতন্ত্রের মানস কন্যা গণতন্ত্রের মানসপুত্রদের ভেতরের কাহিনী। ইন্দিরা কি “কনফ্লিক্ট ম্যানেজমেন্ট” সামাল দেয়ার মতো বুদ্ধি রাখতেন না? সব সময়, সব ক্ষেত্রে নেতা নেত্রীরা কোন্দল, দ্বন্দ্ব ম্যানেজ করতে পেরেছিলেন?

আওয়ামী লীগে কোন্দল আছে, বিএনপি, জাতীয় পার্টিতে কোন্দল নাই, এটা সত্য নয়। আমাদের দেশের মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ রাজনীতিকে ঘিরে আছে। মধ্যবিত্তের চাওয়া পাওয়া বদলাচ্ছে। তিনজন মানুষ মিলে একটা রাজনৈতিক দল গঠন করলে এক মাসের মধ্যে তা তিন ভাগে বিভক্ত হবে। কোন্দলের ভাইরাস আকাশে বাতাসে ঘুরছে। ভাইরাসে আক্রান্ত আমাদের রাজনীতি। এই ভাইরাস এন্টিবায়োটিক রেসিন্টেন্ট হয়ে গেছে। কোন চিকিৎসা– বাংলাদেশী রাজনীতির জল হাওয়া থেকে সংক্রামন তাড়াতে পারবেনা। বড় দলে কোন্দল হয়, ছোট দলে কোন্দল হয়না। বাংলাদেশে তা মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। কোন্দলে আক্রান্ত রাজনীতির ভেতরেই এই দেশের ভবিষ্যত শান্তি খুঁজতে হবে।

আমি মহিউদ্দিন ভাই ও নাছিরকে অনুরোধ করব, প্লিজ ফর গড্‌স সেক কোন্দল করবেন না, উনারা একথা শুনবেন? যা ইন্দিরাজী পারেননি, তা আমরা শেখ হাসিনাকে করতে বলি। আওয়ামী লীগ নেতারা বোঝেন না, কোন্দল মীরজাফর, মোশতাক সৃষ্টি করে। করেনা? কোন্দল হতাশা তৈরি করে। কোন্দল থেকে বেরিয়ে আসার উপায় আমাদের জানা নেই।

লেখক : সাহিত্যিক, শিক্ষাবিদ। অধ্যক্ষ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ
(সংগৃহীত)

প্রধান শিরোনাম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত