logo
মঙ্গলবার, ২১ নভেম্বর ২০১৭
 
  • হোম
  • জাতীয়
  • ‘রোহিঙ্গাদের প্রতি বাংলাদেশের মানবিকতা বিশ্বের ইতিহাসে উদাহরণ’
উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে জর্ডানের রানি রানিয়া আল আব্দুল্লাহ

‘রোহিঙ্গাদের প্রতি বাংলাদেশের মানবিকতা বিশ্বের ইতিহাসে উদাহরণ’

‘রোহিঙ্গাদের প্রতি বাংলাদেশের মানবিকতা বিশ্বের ইতিহাসে উদাহরণ’

কক্সবাজার, ২৩ অক্টোবর, এবিনিউজ : মিয়ানমারে রোহিঙ্গা নির্যাতনকে বিশ্বের সবচেয়ে জঘন্যতম ঘটনা বলে আখ্যায়িত করেছেন জর্ডানের রানি রানিয়া আল আব্দুল্লাহ। তিনি মিয়ানমারে গণহত্যার বিরুদ্ধে বিশ্ববাসীকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান।

রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের প্রশংসা করে রানি রানিয়া বলেন, বাংলাদেশ সরকার ও এ দেশের জনগণ রোহিঙ্গাদের প্রতি যে মানবিকতা দেখিয়েছে তা বিশ্বের ইতিহাসে উদাহরণ হয়ে থাকবে।

জর্ডানের রানি রানিয়া আল আব্দুল্লাহ সোমবার দুপুরে উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করে সাংবাদিকদের কাছে এ কথা বলেন।

জর্ডানের রানী রানিয়া আল আবদুল্লাহ বলেছেন, নিজ দেশে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে যা ঘটেছে তা অমানবিক। নির্যাতনের বর্ণনা মতে এটি আইয়ামে জাহেলিয়াকেও হার মানায়। তাই ন্যায়বিচারের স্বার্থে বিশ্ববাসীর উচিত রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়ান। জর্ডান নিপীড়িত রোহিঙ্গাদের পাশে রয়েছে এটি জানাতে আমি এখানে এসেছি।
‘রোহিঙ্গাদের প্রতি বাংলাদেশের মানবিকতা বিশ্বের ইতিহাসে উদাহরণ’
তিনি আরও বলেন, তথ্যমতে কক্সবাজারের এ এলাকায় এখন স্থানীদের চেয়ে আশ্রিতদের সংখ্যা দ্বিগুণ। এতে বোঝা যায় নিজেদের নানা দিকে ক্ষতির পরও নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছে বাংলাদেশ, যা বিশ্ব দরবারে প্রশংসা কুড়িয়েছে।

জর্ডানের রানি বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী জাস্টিস অব ল’ প্রতিষ্ঠা হলেও মিয়ানমার কোনো কিছুতেই তা মানছে না। মিয়ানমারের ওপর চাপ প্রয়োগ করে রোহিঙ্গাদের নির্যাতন বন্ধ ও তাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠাতে বাধ্য করতে এখনই ব্যবস্থা নিতে বিশ্ব নেতাদের প্রতি তিনি আহ্বান জানিয়েছেন।

এর আগে দুপুর ১২টার দিকে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এসে ইউএনএইচসিআর পরিচালিত প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। এরপর তিনি রোহিঙ্গা শিশুদের স্কুল পরিদর্শনে যান। এ সময় তিনি পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলেন।

পরিদর্শনকালে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি, সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল, আশেক উল্লাহ রফিকসহ জর্দান দূতাবাস ও আন্তর্জাতিক সংস্থার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পরিদর্শন শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে রানী রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকারের ভূয়শী প্রশংসা করেন এবং বিশ্ববাসীকে রোহিঙ্গাদের পাশে থাকার জন্য অনুরোধ জানান।

এর আগে বেলা ১১টার দিকে রানী রানিয়া আল আবদুল্লাহর নেতৃত্বে ১৬ সদস্যের প্রতিনিধি দল জর্দানের রাজধানী আম্মান থেকে সরাসরি কক্সবাজার বিমানবন্দরে পৌঁছান। এরপর তার গাড়িবহর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের উদ্দেশে রওনা দেয়।

তার আগমন উপলক্ষে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ, বিজিবি ও র‌্যাবসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য। ফলে কক্সবাজার শহর ও কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে। একই অবস্থা ছিল মেরিন ড্রাইভ সড়কেও।

কক্সবাজার জেলা পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আফরুজুল হক টুটুল জানান, জর্ডানের রানীর কক্সবাজার আগমন উপলক্ষে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। পুলিশ, বিজিবির পাশাপাশি সাদা পোশাকেও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছিল।

রানী রানিয়া আল আব্দুল্লাহ কুতুপালং ক্যাম্পে পৌঁছে রোহিঙ্গাদের অবস্থা পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি জাতিসংঘের একাধিক সংস্থাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ত্রাণ কার্যক্রম পরিদর্শন করেন।

উল্লেখ্য, জর্ডানের রানী রানিয়া আবদুল্লাহ ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটির (আইআরসি) বোর্ড সদস্য। একই সঙ্গে তিনি জাতিসংঘের মানবিক সংস্থাগুলোর পরামর্শক।

এবিএন/জনি/জসিম/জেডি

প্রধান শিরোনাম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত