logo
বৃহস্পতিবার, ২৩ নভেম্বর ২০১৭
 

ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতি: ১২ জনকে কারাদণ্ড, ৩ জন সিআইডিতে

ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতি: ১২ জনকে কারাদণ্ড, ৩ জন সিআইডিতে

ঢাকা, ২০ অক্টোবর, এবিনিউজ : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় প্রক্সি ও ডিজিটাল জালিয়াতির মূল হোতা ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নেতাসহ তিনজনকে সিআইডিতে হস্তান্তর এবং ১২ জনকে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

আজ শুক্রবার পরীক্ষা শেষে ঢাকা জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত আটক ব্যক্তিদের প্রত্যেককে এক মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন।

১৫ জনের মধ্যে ১৪ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে এক ছাত্রলীগ নেতাসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী রয়েছেন। তারা জালিয়াত চক্রের অন্যতম হোতা।

‘ক’ ইউনিট ভর্তি পরীক্ষার আগে থেকে তাদের খুঁজছিল সিআইডি। তারা হলেন- পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ও ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসম্পাদক মহিউদ্দিন রানা এবং ফলিত রসায়ন বিভাগের আব্দুল্লাহ আল মামুন।
ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতি: ১২ জনকে কারাদণ্ড, ৩ জন সিআইডিতে
বাকি ১২ ভর্তিচ্ছু হলেন- নুর মোহাম্মাদ মাহবুব, ফরহাদুল আলম রানা, ইশরাক হোসেন রাফি, আব্দুল্লাহ আল মুকিম, রিশাদ কবির, আসাদুজ্জামান মিনারুল, ইশতিয়াক আহমেদ, জয় কুমার সাহা, রেজওয়ানা শেখ শোভা, মাশুকা নাসরীন, তারিকুল ইসলাম ও নাসিরুল হক নাহিদ।

ঢাকা জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তৌহীদ এলাহী গণমাধ্যমকে জানান, দণ্ড প্রদানকারীদের মাস্টার কার্ডের মতো ইলেকট্রনিক ডিভাইসে সিমকার্ড ঢুকিয়ে কেন্দ্রের বাইরে যোগাযোগ করে উত্তর সংগ্রহের সময় ধরা হয়। তাদের কান থেকে অতিক্ষুদ্র তারবিহীন হেডফোন পাওয়া যায়। পরে আদালতের কাছে দোষ স্বীকার করলে আটক ব্যক্তিদের প্রত্যেককে এক মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে, একটি বিশেষ কমিউনিকেশনস ডিভাইসের মাধ্যমে প্রশ্নের সমাধান দেওয়ার জন্য ৫ লাখ টাকার চুক্তি করেন পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের ২০১১-২০১২ সেশনের শিক্ষার্থী মহিউদ্দিন রানা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত রসায়নের ২০১৪-২০১৫ সেশনের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ মামুন।

পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) বিশেষ পুলিশ সুপার (এসএস) মোল্লা নজরুল ইসলাম জানান, জালিয়াতির ঘটনায় আটকের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা বিষয়টি স্বীকার করেছেন।

শুক্রবার বিকেল তিনটায় সিআইডি সদরদপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।

সিআইডি জানায়, শিক্ষার্থীরা আধুনিক ও অতি ক্ষুদ্র একটি কমিউনিকেশনস ডিভাইস (মাস্টার কার্ড সদৃশ) ব্যবহার করে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রশ্নের উত্তর বলে দিত।
ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতি: ১২ জনকে কারাদণ্ড, ৩ জন সিআইডিতে
শিক্ষার্থীরা মাস্টার কার্ড সদৃশ ওই ডিভাইস মানিব্যাগে রেখে কানে হেডফোন দিয়ে অপর প্রান্তে যোগাযোগ করত। পরীক্ষার্থীরা প্রশ্ন পেয়ে সেট নম্বর বললেই অন্য প্রান্ত থেকে উত্তর বলে দিত আটকরা।

সংবাদ সম্মেলনে সিআইডি জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এই চক্রের সদস্যরা অভিনব এই পদ্ধতিতে বিভিন্ন কোচিং সেন্টার এবং ছাত্রাবাসের শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করে ঢাবি, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়সহ (জাবি) অন্যান্য ভর্তি পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা করে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার কথা জানিয়েছে।

আটকদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে সিআইডি। এছাড়া চক্রের অন্যান্য সদস্যদের ধরতে অভিযান চালাচ্ছে বলেও জানান মোল্লা নজরুল।

এই তিনজন ছাড়াও জালিয়াতি ও অসদুপায় অবলম্বনের কারণে আরও ১২ পরীক্ষার্থীকে শুক্রবার আটক করে বিভিন্ন মেয়াদের সাজা দিয়েছে ঢাকা জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত।

উল্লেখ্য, এবার ঢাবির ‘ঘ’ ইউনিটের এক হাজার ৬১০টি (বিজ্ঞানে-১১৪৭, বিজনেস স্টাডিজে-৪১০, মানবিকে  ৫৩টি) আসনের বিপরীতে ভর্তিচ্ছু আবেদনকারীর সংখ্যা ছিল ৯৮ হাজার ৫৪ জন। অর্থাৎ প্রতি আসনের বিপরীতে আবেদনকারীর সংখ্যা ৬১ জন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ৫৩ ও ক্যাম্পাসের বাইরে ৩৩টি স্কুল-কলেজসহ ৮৬টি কেন্দ্রে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

এবিএন/জনি/জসিম/জেডি

প্রধান শিরোনাম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত