logo
মঙ্গলবার, ২১ নভেম্বর ২০১৭
 

বৈরী আবহাওয়ায় নৌ চলাচল ব্যাহত

বৈরী আবহাওয়ায় নৌ চলাচল ব্যাহত

ঢাকা, ২০ অক্টোবর, এবিনিউজ : বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপ স্থলভাগে উঠে আসায় ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। বৈরী আবহাওয়ায় সাগর উত্তাল থাকায় দেশের সমুদ্র বন্দরগুলোর জন্য তিন নম্বর সতর্কতা সংকেত বহাল রাখা হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর এ তথ্য জানিয়ে বলেছে, শনিবার সকাল পর্যন্ত এ বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে সারা দেশে নৌ-চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।

এদিকে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে সদরঘাট থেকে লঞ্চ চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিআইডব্লিউটিএ। পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া রুটে নৌচলাচল ব্যাহত হচ্ছে। মোংলা বন্দরে পণ্য খালাস বন্ধ রয়েছে।

বিআইডব্লিউটিএ’র জনসংযোগ কর্মকর্তা মোবারক হোসেন মজুমদার আজ শুক্রবার বিকালে বলেন, ‘খারাপ আবহওয়ার কারণে সারা দেশে ৬৫ ফুটের কম দৈর্ঘ্যের সব ধরনের নৌযানের ক্ষেত্রে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আর উপকূলীয় এলাকা হাতিয়া, বেতুয়া ও রাঙ্গাবালিতে সব ধরনের লঞ্চ চলাচল বন্ধ থাকবে।’

ঢাকা সদরঘাটে বিআইডব্লিউটিএর পরিবহন পরিদর্শক সৈয়দ মাহফুজুর রহমান জানান, বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে ফারহার-৪ নামের একটি লঞ্চ হাতিয়ার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সমুদ্রবন্দরগুলোতে তিন নম্বর সতর্কতা সংকেত থাকায় কর্তৃপক্ষ ওই রুটের সব লঞ্চের যাত্রা বাতিল করেছে।

পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত  উপকূলীয় এলাকায় কোনো ধরনের লঞ্চ চলবে না বলে জানান তিনি।

মাহফুজ বলেন, নৌ বন্দরে দুই নম্বর নৌ হুঁশিয়ারি সংকেত থাকলে ৬৫ ফুটের কম দৈর্ঘ্যের লঞ্চ চলাচল বন্ধ রাখার নিয়ম। সে কারণেই সারা দেশে ছোট লঞ্চ না চালাতে বলা হয়েছে।

এ ছাড়া পদ্মায় প্রবল ঢেউ থাকার কারণে শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি নৌরুটে ফেরি চলাচল কমে গেছে। বন্ধ রয়েছে লঞ্চ, সি-বোটসহ অন্যান্য নৌযান চলাচল। ফেরি, লঞ্চ ও স্পিডবোট চলাচল বন্ধ থাকায় ঘাট এলাকায় আটকা পড়ে দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রীরা।

আজ সকাল থেকে পদ্মা উত্তাল হতে শুরু করলে দুপুর ১২টার দিকে সম্পূর্ণভাবে লঞ্চ চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত ফেরি চলাচল স্বাভাবিক ছিল। তবে সকাল থেকে আকাশের অবস্থা খারাপ এবং নদীতে বড় ঢেউ সৃষ্টি হতে থাকে। এ অবস্থায় বিআইডব্লিউটিসি কর্তৃপক্ষ বড় ১১টি ফেরি বন্ধ করে দেয়। বর্তমানে ছোট ছয়টি ফেরি দিয়ে যানবাহন পারাপার অব্যাহত রাখা হয়েছে।

শুক্রবার সকালে আবহাওয়ার বুলেটিনে বলা হয়, উড়িষ্যা ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত নিম্নচাপটি উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে সকাল ৬টার দিকে স্থল নিম্নচাপে পরিণত হয়। ওই সময় নিম্নচাপটি উড়িষ্যা ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছিল।

আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় খুলনা, বরিশাল, রাজশাহী, রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারি থেকে অতিভারি বর্ষণ হতে পারে। এ ছাড়া রাজশাহী, রংপুর, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় অস্থায়ী দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, নিম্নচাপের প্রভাবে উপকূলীয় জেলা কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর, ভোলা, বরিশাল, পটুয়াখালী, বরগুনা, ঝালকাঠী, পিরোজপুর, খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহের নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ১ থেকে ২ ফুটেরও বেশি জলোচ্ছাসে প্লাবিত হতে পারে।

সাগর উত্তাল থাকায় উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।

এবিএন/জনি/জসিম/জেডি

প্রধান শিরোনাম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত