logo
বৃহস্পতিবার, ২৩ নভেম্বর ২০১৭
 
  • হোম
  • সারাদেশ
  • মেঘনায় নিখোঁজের ৩৬ ঘন্টা পর ট্রলার চালকের লাশ উদ্ধার

মেঘনায় নিখোঁজের ৩৬ ঘন্টা পর ট্রলার চালকের লাশ উদ্ধার

মেঘনায় নিখোঁজের ৩৬ ঘন্টা পর ট্রলার চালকের লাশ উদ্ধার

দাউদকান্দি (কুমিল্লা), ১৭ সেপ্টেম্বর, এবিনিউজ : মেঘনায় নিখোঁজের ৩৬ ঘন্টা পর নদীতে ভেসে উঠেছে ট্রলার চালক আমির হোসেনের লাশ। আজ মঙ্গলবার সকালে উপজেলা চালিভাঙ্গা বাজারের বাশ বাজার খাল থেকে থানা পুলিশ ট্রলালা চালকের লাশ উদ্ধার করেছে। নিহত আমির হোসেন (৪৫) মেঘনা উপজেলার ইসলামাবাদ গ্রামের মৃত হানিফ মিয়ার ছেলে। এই হত্যাকান্ড নিয়ে এলাকায় পরস্পর বিরোধী বক্তব্য উঠেছে।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, গত রবিবার রাতে ট্রলার চালক আমির হোসেন ও তার ছেলে ইব্যাহিম(১৫) ট্রলার চালানোর পর রাত সাড়ে ৮টায় বাড়ি ফেরার পথে তার সৎ ভাই মোঃ দেলোয়ার হোসেন মোবাইলে ফোন করে। সে ফোন পেয়ে তার ছেলে ইব্রাহিমকে বাড়িতে নামিয়ে দিয়ে সৎ ভাইয়ের কথা মত বৌদ্ধারবাজার যায়। বৌদ্ধার বাজার যাওয়ার পর তার কোন খোঁজ পাওয়া যায়নি।

এরপর রাত সারে ১০টায় দেলোয়ার চিৎকার চেচমেচি করে পাকাড়ি বাড়ি হযরত আলীর ওাানে ওঠে। তার কিছুক্ষন পরেই বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল লতিফ দেলোয়ারকে চিকিৎসার নামে স্পিড বোট দিয়ে ঢাকায় নিয়ে যায়। পরে আজ চালিভাঙ্গা বাশ বাজারের খালে একটি লাশ ভেসে উঠলে এলাকাবাসী পুলিশকে খবর দেয় এবং তার স্বজনরা নিখোঁজ ট্রলার চালক আমির হোসেনের লাশ সনাক্ত করে। এদিকে আমির হোসেনের লাশ উদ্ধারের খবর পেয়ে সৎ ভাই দেলোয়ার হোসেন গা-ঢাকা দিয়েছে।

আমীর হোসেনের ১৫ বছরের ছেলে ইব্রাহিম বলেন, বাবা এবং আমি ট্রলার নিয়ে বাড়ী আসার সময় আব্বার মোবাইলে একটা ফোন আসে। তখন বাবা আমাকে বলে তুই বাড়ীতে চলে-যা আমি পরে আসব, আর তোর চাচা ফোন করেছে তাকে বৈদ্যার বাজার থেকে নিয়ে আসতে এবং একথা কাউকে জানাতে না করেছে , তুই কাউকে এমনকি তোর মাকেও বলিছ না।

সাবেক চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির বলেন, আমীর হোসেন এলাকার নিরীহ ছেলে, দেড় বছর বয়সে মাকে হারানোর পর সৎ মায়ের যন্ত্রনায় তার বাবা  অন্যত্র তাকে দত্তক (পালক) দিয়ে দেন। বড় হয়ে বিয়ে করার পর নিজ বাড়ী বাপের বাড়িতে চলে আসেন আমীর হোসেন। তিনি এই হত্যকান্ডে এলাকার নিরীহ নিরপরাধ লোক যেন হয়রানীর শিকার না হয় এবং সঠিক তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত খুনিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যাবস্থা গ্রহণ করার দাবি জানান।

এলাকাবাসীর দাবি রহস্যঘেরা এই হত্যাকান্ডের তদন্তের দায়িত্ব সিআইডি পুলিশের হাতে ন্যাস্ত করা হয়। এলাকাবাসী বলছেন সৎভাই দেলোয়ারকে আটক করে  জিজ্ঞাসা করলেই হত্যার রহস্য উদঘাটন হবে বলে।

মেঘনা থানার ওসি মোঃ সামসুদ্দিন আহম্মেদ বলেন, আমরা খবর পেয়ে রাতেই ফোর্স পাঠিয়ে রক্ত মাখা ট্রলারটি জব্দ হয়। আজ মঙ্গলবার সকালে এলাকাবসীর খবরে আমির হোসেনের লাশ চালিভাঙ্গা বাশবাজারের খাল থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য কুমিল্লা মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।

তবে তার সৎ ভাই দেলোয়ারকে ধরার জন্য ঢাকায় আমাদের টিম পাঠানো হয়েছিল তাকে সেখানে পাওয়া যায়নি। রহস্য উদঘাটনের জন্য পুলিশ মাঠে কাজ করছে।

এবিএন/জাকির হোসেন হাজারী/জসিম/এমসি

প্রধান শিরোনাম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত