logo
মঙ্গলবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৭
 

ধর্ম কেন এত হিংসার জন্ম দেয়?

ধর্ম কেন এত হিংসার জন্ম দেয়?

মমতাজ লতিফ, ১০ অক্টোবর, এবিনিউজ : আজ মিয়ানমারে মুসলিম রোহিঙ্গারা চরম নির্যাতন, খুন, ধর্ষণ, গণধর্যণ, বসতঘরে অগ্নিসংযোগ, লুটের শিকার হচ্ছে সে দেশের সেনা ও বৌদ্ধ ধর্মীয় নেতাদের হাতে। ঠিক ’৭১ সালে আমরা বাঙালীরা একই রকম হিংস্র বর্বরতার শিকার হয়েছিলাম। সে সময় আমরা যে পাকিস্তান নামক দেশটির একটি অংশ ছিলাম, সেই নিজ দেশের পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর হাতে। কিন্তু কেন এমন হলো? বারবারই মানব ইতিহাসে কেন ধর্মের নামে, ভাষা, জাতির নামে এত গণহত্যা সংঘটিত হয়েছে, আজও হচ্ছে। এই বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তির যুগে একটি ঘনিষ্ঠ পরস্পর নির্ভরশীল রাষ্ট্র ব্যবস্থার বিশ্বে? রবীন্দ্রনাথের ভাষায় ‘হিংসায় উন্মত্ত পৃথিবী’ উনি দেখেছিলেন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে, ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে। আমরা দেখেছি ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া, বাংলাদেশের স্বাধীনতার লক্ষ্যে সংঘটিত ’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের সময়, রুয়ান্ডায় জাতিগত সহিংসতায়, বসনিয়ায় ধর্মীয়-জাতিগত নিধনযজ্ঞে। ইরাক আগ্রাসনে যেটি মধ্যপ্রাচ্যের সিরিয়ায় প্রসারিত হয়ে আইএস নামক এক চরম ধর্মান্ধ জঙ্গী গোষ্ঠীর উত্থান ঘটিয়ে হত্যাকে মশা-মাছি মারার পর্যায়ে নামিয়েছে, ধর্ষণকে নারীদের প্রতি পুরুষের অধিকার হিসেবে গণ্য করেছে। এছাড়া প্যালেস্টাইনে ইসরাইল আজ দীর্ঘ সত্তর বছর যাবত বিশ্বজনমত, মানবিক অধিকারের তোয়াক্কা না করে যে মাছি মারার মতো প্যালেস্টাইনী মুসলিম হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছে তা এক কথায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কল্পনায়ও আসতে পারত না। অথচ এ বাস্তবতা যেন শত বছর ধরে চলবে এমনই এক বিশ্ব পরিস্থিতি আজ বিদ্যমান।

আজকের মিয়ানমার সেনাদের রোহিঙ্গা নির্মূল যে একটি সুপরিকল্পিত আইএসআই-এর উদ্যোগে পাকিস্তান প্রবাসী রোহিঙ্গা জঙ্গী নেতার সহায়তায় বর্মী সেনাদের দ্বারা সূচিত তা জানা গেছে। গণহত্যা, গণধর্ষণ ঘটিয়ে হাজার হাজার রোহিঙ্গা, প্রধানত পুরুষ-যুবক হত্যার মাধ্যমে বাংলাদেশে লাখ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীর ঢল তৈরি করে সদ্য বন্যায় কয়েক লাখ টন ধান বিনষ্ট হওয়ার প্রেক্ষিতকে ব্যবহার করে বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করে ’৭৫-এর মতো খাদ্য সঙ্কটে ফেলবার জন্য এবং এর পরিণতিতে শেখ হাসিনাকে পদচ্যুত করার ও তার সরকারকে দুর্বল এবং অক্ষম করে তোলাই যে অন্যতম প্রধান লক্ষ্য, তা তো আজ বিভিন্ন সূত্রে জনগণের কাছে উদঘাটিত হয়েছে। গোয়েন্দারা মিয়ানমার সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে ঐ রোহিঙ্গা নেতার (আরসার নেতা) এবং আইএসআই নেতৃত্বের সঙ্গে রোহিঙ্গা নেতার কথোপকথনের রেকর্ড উদ্ধার করেছেন, যা পুরো ষড়যন্ত্রের লক্ষ্য, সংশ্লিষ্ট চরিত্র ও একটি দলের নাম জনগণের কাছে উদঘাটন করেছে। সুতরাং এখন রোহিঙ্গা গণহত্যাকে ঐ নীলনকশা অনুযায়ী রোহিঙ্গা জঙ্গী যারা এটির সূচনা ঘটাতে ১০/১৫টি বর্মী পুলিশ সেনা চৌকিতে আক্রমণ করেছিল সেই জঙ্গীদেরকেই উৎখাত করার চেষ্টার কথা বলে গণহত্যার বিষয়টি হাল্কা করে দেখার আর কোন সুযোগ নেই। সম্ভবত রোহিঙ্গা নির্যাতন, গণধর্ষণ ও গণহত্যার কল্পনাতীত মাত্রা বিশ্বের সব দেশের প্রবল নিন্দা, গণহত্যার প্রমাণ লাখ লাখ রোহিঙ্গাদের মুখে এবং দেহে প্রকাশ পাওয়ার প্রেক্ষিতে মিয়ানমারকে আলোচনায় বসার ইচ্ছা প্রকাশে বাধ্য করেছে। এটি এখন সবার জানা যে, লাখ লাখ রোহিঙ্গা নারী, বৃদ্ধ, শিশুর ঢল এবং মিয়ানমারের রোহিঙ্গা যুবকের লাশ ভর্তি নদী, অনেকটি গণকবর, বাংলাদেশে আগত প্রায় ৫০/৬০ হাজার পিতৃহীন শিশু, ৩/৪ লাখ বিধবা তরুণী ও বৃদ্ধ রোহিঙ্গা মাতা-পিতা গণহত্যার বিরাট প্রমাণ বহন করছে এতে তো কোন সন্দেহ নেই।

এই রোহিঙ্গা বিতাড়নে ভাষা ও ধর্ম একটি অন্যতম কারণ। রোহিঙ্গাদের সুচি তার বক্তব্যে বার বার বর্ণনা করেছে বাঙালী, বাংলাদেশ থেকে আগত বাংলাভাষী জনগোষ্ঠী হিসেবে। কখনও রোহিঙ্গা নামটি ব্যবহার করেননি। যেহেতু রোহিঙ্গাদের ভাষা চট্টগ্রামী ভাষা এবং তারা মুসলিম, যারা দাদার, বাবার আমল থেকে আরাকানে বসবাস করছে। বেশিরভাগের দাদার পূর্বপুরুষ এই এলাকায় বসতি স্থাপন করেছিল। সুচির পিতা আউং সানের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সহচর রোহিঙ্গা মুসলিম নেতা আবদুর রশীদকেও কিন্তু হত্যা করেছিল বর্মী সেনাবাহিনী এবং ক্ষমতা দখল করেই তারা রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব বাতিল করে। একইভাবে সুচির অন্যতম প্রধান পরামর্শক মুসলিম রোহিঙ্গা আইনজীবী দু’তিন মাস আগে আসিয়ান সম্মেলন শেষে দেশে ফেরার দিন রেঙ্গুন বিমানবন্দরে অজ্ঞাত বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত হন। এর পরপরই সেনাবাহিনী কর্তৃক আরাকানের রোহিঙ্গা বিতাড়ন, নির্যাতন, গণধর্ষণ, গণহত্যা বড় আকারে শুরু হয়।

মোটামুটিভাবে রাখাইনের ঐতিহাসিক সত্য হচ্ছে, এটি ছিল আরাকান রাজ্য। পাঁচ শ’ বছর আগে থেকে মুসলিম অধ্যুষিত মুসলিম রাজা এটি শাসন করত, যে রাজসভায় কবি আলাওল ও আরও মুসলিম কবি বাস করেছেন, বাংলা ভাষায় কাব্য, সাহিত্য রচনা করেছেন। বাল্যকালে আমরা আমাদের নানার ছোট ভাই দিদারুল আলম কর্তৃক ‘ফয়ার দেশ’ নামক পত্রিকা রেঙ্গুন থেকে নিয়মিত প্রকাশিত হতে দেখেছি। ’৪৭-এ আরাকানের নেতৃত্ব ও প্রজা সাধারণ মুসলিম বাঙালী হওয়ার কারণে পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার কথা ভেবেছিলেন। এটি জিন্নাহ্র দ্রুত পাকিস্তান গঠনের আকাক্সক্ষা এবং রোহিঙ্গা নেতৃত্বের উদাসীনতার কারণে তা বাস্তব রূপ লাভ করেনি। তাছাড়া আরাকান মুসলিম নেতৃত্ব ভেবেছিলেন আরাকান সব সময় স্বাধীন একটি রাজ্য হয়ে টিকে থাকবে। কিন্তু কিছুকাল পরেই আরাকান বর্মী এক রাজার আক্রমণের ফলে পরাজিত হয়ে বার্মা, বর্তমান মিয়ানমারের অন্তর্ভুক্ত হয়। এরপর থেকেই আরাকানী রোহিঙ্গা মুসলিম বর্মী রাজা, পরে বর্মী সেনাদের নির্যাতনের মুখে পড়ে। তবে, যেহেতু মিয়ানমারে মূল বর্মীদের বাইরে ১৩৫টি নৃতাত্ত্বিক জাতি-গোষ্ঠী রয়েছে, যাদের অনেকে দীর্ঘদিন যাবত স্বায়ত্তশাসনসহ নানা অধিকারের দাবিতে সশস্ত্র বিদ্রোহ করে চলেছে। রোহিঙ্গারা সেভাবে কখনও কোন সশস্ত্র বিদ্রোহ করেনি। কিন্তু আরাকান এমন একটি রাজ্য যেখানে রয়েছে সিটুয়ে বা বন্দর, উর্বর কৃষি জমি এবং গ্যাস ও প্রচুর খনিজ সম্পদ, যেখানে মিয়ানমারের সরকার ও সেনাবাহিনী বিদেশী বিনিয়োগের বিপুল সম্ভাবনা দেখে রাজ্যটিকে রোহিঙ্গাশূন্য করে এতে বিনিয়োগে আগ্রহী ভারত, চীন, রাশিয়ার উদ্যোগে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য রুট তৈরি, সমুদ্র বন্দরের উন্নয়ন, ইপিজেড তৈরি, শিল্প-কারখানা স্থাপন করে মিয়ানমারের অর্থনৈতিক উন্নয়ন সংঘটনেই রোহিঙ্গা নির্মূলের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হয়ে উঠেছে। এই লক্ষ্য অর্জনে সবচাইতে বড় ভূমিকা রেখেছে পাকিস্তানের আইএসআই এবং করাচীতে বাসরত রোহিঙ্গা জঙ্গী নেতা অবশ্যই। মিয়ানমারের সেনাকর্তারাও সম্মতিক্রমে বর্তমানের রোহিঙ্গা গণহত্যা শুরুর পটভূমি তৈরি করে। এ লক্ষ্যে কিছু রোহিঙ্গা জঙ্গী নাকি কিছু বর্মী ক্যাডার ও সেনা দ্বারা ১৩টি বর্মী পুলিশ চৌকিতে হামলা করায়। তবে তা তদন্ত সাপেক্ষ। এর পরিণতি রোহিঙ্গাদের ওপর চরম বর্বর হামলা শুরু, হেলিকপ্টারে গুলি, নিচে গ্রামের নারী-পুরুষ-শিশুদের বন্দী করে দা, কিরিচে অভ্যস্ত বর্মীসেনা, বর্মী জঙ্গী, বৌদ্ধ ভিক্ষুরা রোহিঙ্গা নির্মূলে বিশাল হত্যাকা- চালায়। এতিম শিশু, কিশোর, নারী ও বৃদ্ধদের বৃহৎ অংশকে ঠেলে দেয়া হয় বাংলাদেশে। রোহিঙ্গা জঙ্গীরা কি স্বজাতির ওপর এই গণহত্যা চালাতে পারে? এটিও ঐ ষড়যন্ত্রের অংশ। বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা, বর্তমানে প্রায় পাঁচ লাখ, আগে থেকে থাকা পাঁচ লাখ রোহিঙ্গাদের থাকা, খাওয়া, স্বাস্থ্যসেবা, টয়লেট, বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করতে বর্তমান শেখ হাসিনার সরকার যে বিশাল সমস্যার সম্মুখীন হবে, তাও ছিল ঐ রোহিঙ্গা উৎখাতের খেলোয়াড়দের অন্য একটি উদ্দেশ্য। সেই সমস্যা সমাধানে বর্তমান বাংলাদেশ সরকার কক্সবাজারের বনাঞ্চলের দুই হাজার একর জমি তাদের জন্য বরাদ্দ করে তাদের বসতি, খাদ্য, পানি, স্বাস্থ্যসেবা ও টয়লেট তৈরি করে পুনর্বাসনের সাময়িক ব্যবস্থা করছে। তবে, এ ব্যবস্থা বেশি দিন চালানো বাংলাদেশের পক্ষে অসম্ভব। কক্সবাজারের দুটি উপজেলায় বর্তমানে চারলাখ বাসিন্দার ওপর অবস্থান করছে অতিরিক্ত প্রায় পাঁচ লাখ রোহিঙ্গা। বনের পশু-পাখি, বন্যপ্রাণীদের বসত বনাঞ্চল রোহিঙ্গাদের ক্যাম্প দিয়ে পূর্ণ হয়ে গেছে। সরকার, জনগণ, সেনাবাহিনী, বিজিবি, আনসার- সবাই সতর্কতার সঙ্গে মানবিক ও শৃঙ্খলাপূর্ণ আচরণ করছে। কিন্তু এ অবস্থা সাময়িক হতে পারে, দীর্ঘদিনের জন্য হতে পারে না।

আজ পর্যন্ত বাংলাদেশ সরকার চরম ধৈর্যের পরীক্ষা দিচ্ছে। ’৭১-এ আমাদের ওপর যখন পাকিস্তানী সেনাবাহিনী ও তাদের বাঙালী দালাল দল চরম নির্যাতন, গণহত্যা, ধর্ষণ ও লুণ্ঠন আরম্ভ করেছিল তখন আমাদের এক কোটি বাঙালী হিন্দু, মুসলমান ভারতে শরণার্থী হয়েছিল এবং নয় মাসের যুদ্ধ শেষ হলে প্রায় সবাই স্বদেশে ফিরে এসেছিল। সে কথা বিবেচনায় নিয়ে সরকার ও জনগণ তাদের গ্রহণ করে খাদ্য এবং আশ্রয় দিচ্ছে। কিন্তু তাদের নিজ দেশে ফেরত গিয়ে নিরাপদ জীবনযাপনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করে তবেই তাদের সরকারের কাছে তাদের নাগরিকের সব অধিকার নিশ্চিত করার ব্যবস্থা করে ফেরত পাঠাবার কাজটি করার চেষ্টা চালাচ্ছে।

পাশাপাশি সরকারকে সতর্ক থাকতে হচ্ছে যেন আরসা, আরএসও ইত্যাদি জঙ্গীগোষ্ঠীর সদস্যরা বাংলাদেশ সরকারের জঙ্গীবাদের প্রতি জিরো টলারেন্স নীতির ফলে দুর্বল হয়ে পড়া জঙ্গী দলটিও জেএমবি, জেএমবি আনসারুল ইসলাম ইত্যাদিকে আবারও শক্তি সঞ্চয় করতে সাহায্য করতে না পারে। এটি খুব স্বাভাবিক যে, পাঁচ লাখ রোহিঙ্গার মধ্যে আরসা বা আরএসও’র কিছু সদস্য থাকবে। একবার যদি এরা সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে আত্মগোপনে গিয়ে দেশী ধরা পড়া জঙ্গীদের সঙ্গে মিলে নতুন করে দেশ, সরকার, হিন্দু, বিদেশী দাতা দেশের নাগরিক, প্রগতিশীল বিজ্ঞানমনস্ক মানুষকে হত্যা, দেশের বড় বড় কাঠামো ধ্বংস শুরু করে, তাহলে তা যে দ্রুত মিয়ানমার, ভারত, চীনের দক্ষিণাংশকে আক্রান্ত করবে তাতে কোন সন্দেহ নেই। স্মরণ রাখতে হবেÑ মিয়ানমারে মুসলিম বসতি পাঁচ শ’ বছরের বেশি প্রাচীন, ভারতে মুসলিম বসতিও ছয়-সাত শ’ বছরের প্রাচীন, চীনের মুসলিম সংখ্যালঘুদের বসতিও হাজার বছরের প্রাচীন আর রাশিয়ার প্রতিবেশী দেশগুলোর প্রায় সবই মুসলিম প্রধান। সুতরাং, ইসলামী জঙ্গীদের জন্য বর্তমান মিয়ানমার, বিশেষত রাখাইনের রোহিঙ্গা গণহত্যা, এমনকি যদি তারা স্বদেশে দ্রুত ফেরত যেতে না পারে, তাহলেও বাংলাদেশের ক্যাম্পে সাময়িকভাবে অবস্থানরতদের মধ্যে উঠতি কিশোর, তরুণরা তাদের পিতা হত্যার প্রতিশোধ নিতে ভবিষ্যতে, পাঁচ-ছয় বছরের মধ্যে জঙ্গী হয়ে ওঠার সম্ভাবনাকেও বিবেচনায় রেখে সরকারকে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। আমরা আর যাই হোক, জঙ্গী উৎপাদনের একটি উর্বর ভূমি দীর্ঘদিন রাখতে পারি না।

এজন্য কয়েকটি পদক্ষেপ নেয়া জরুরী

১. সরকারের সব রোহিঙ্গা নিবন্ধন কাজটি সুসম্পন্ন করতে হবে, যাতে পুরনো, নতুন সব বয়সের সব রোহিঙ্গাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

২. জাতিসংঘের মাধ্যমে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় দিতে আগ্রহী কয়েকটি দেশে ভাগ করে পাঠিয়ে দিতে হবে। ইতিমধ্যে ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এ ছাড়া কম জনসংখ্যার বৃহৎ দেশকে অনুরোধ করা যেতে পারে।

৩. বাংলাদেশের পর্যটন কেন্দ্র কক্সবাজার, বন বিভাগের বনাঞ্চলকে বিনষ্ট না করে একটি চরে, যেটিতে বর্তমান সরকার বাসযোগ্য উন্নয়ন কাজ চালাচ্ছে, সেখানে স্থানান্তর করা। তবে সেটিও হবে সাময়িক ব্যবস্থা।

৪. আরাকান, আকিয়াবের শত শত বছর যাবত বাসরত চট্টগ্রামী বাংলাভাষী মুসলিম রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব আদায় করে তারপর যৌথভাবে মিয়ানমার ও বাংলাদেশ সেনা, বিজিবি-বিজিপি এবং নাগরিক সমাজের প্রত্যক্ষ পরিচালনায় তাদের প্রত্যাবাসন, নিজ দেশে নাগরিকের অধিকার নিয়ে সসম্মানে প্রতিষ্ঠিত করা। মনে রাখতে হবে পৃথিবীর সব দেশ আজ জঙ্গীমুক্ত পৃথিবী চায়। আমাদের সে লক্ষ্যেই কাজ করা উচিত।

৫. জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে মিয়ানমার কর্তৃক রোহিঙ্গা গণহত্যার বিরুদ্ধে অনুষ্ঠিত সভায় চীন, রাশিয়া, জাপান মিয়ানমারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে, যদিও বন্ধুপ্রতিম দেশ যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, সুইডেন, যুক্তরাষ্ট্র, প্রভৃতি দেশ মিয়ানমারের গণহত্যায় বাংলাদেশের পক্ষে সমর্থন ব্যক্ত করে মিয়ানমারের ওপর অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা জারি করতে দেশগুলোকে আহ্বান জানিয়েছে।

এ প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ সরকার ও সুশীল সমাজকে দ্রুত মিয়ানমারের সেনা কর্মকর্তাদের গণহত্যার জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত ও আন্তর্জাতিক কোর্ট অব জাস্টিসে বাংলাদেশের সমর্থক রাষ্ট্রগুলোকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে জেনোসাইডকারীদের বিচার দাবি করতে হবে। একই সঙ্গে, জেনোসাইডকারীদের সমর্থনকারীদেরও অপরাধের প্রশ্রয়দানকারী হিসেবে বিচার দাবি করতে হবে। কেননা, জ্বলজ্যান্ত গণহত্যা অনুষ্ঠান হতে দেখেও যারা গণহত্যাকারী খুনীদের পক্ষ সমর্থন করে তারাও গণহত্যাকারীর সমান অপরাধীÑ এটি গণ্য না করলে মানবসভ্যতার মৌলিক স্তম্ভগুলো ধ্বংস হয়ে যাবে এবং অসুরেরা পৃথিবীর সব সভ্যতা ও সংস্কৃতি ধ্বংস করে দেবে। এ কাজ আমাদের এবং সরকারকে এখনই করতে হবে।

লেখক : শিক্ষাবিদ
(সংগৃহীত)

 

প্রধান শিরোনাম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত