logo
সোমবার, ২৩ অক্টোবর ২০১৭
 

‘পচা চাল কিনে সরকার মানবতাবিরোধী কাজ করেছে’

‘পচা চাল কিনে সরকার মানবতাবিরোধী কাজ করেছে’

ঢাকা, ২১ সেপ্টেম্বর, এবিনিউজ: বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করে বলেছেন, পচা গমের পর এবার পচা চাল আমদানি করেছে সরকার। এ ঘটনার পেছনে সরকারের রাঘব বোয়ালরা জড়িত। আজ শুক্রবার সকালে নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে রুহুল কবির রিজভী এসব বলেন।

রিজভী বলেন, সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মানুষের বেঁচে থাকার অধিকার রয়েছে। কিন্তু খাদ্যের অনুপযোগী চাল বা গম সরবরাহ করা সংবিধান পরিপন্থী। এর মাধ্যমে সরকার শুধু সংবিধান বিরোধী কাজই করেনি, মানবতাবিরোধী কাজ করছে, জনগণের ক্ষুধাকে নিয়ে তামাশা করছে।

এছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থানে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা ও বাড়িতে তল্লাশি এবং পুলিশী হামলা চলছে জানিয়ে এসব ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান তিনি।


এসময় বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, হাবিব উন নবী খান সোহেল, সানাউল্লাহ মিয়া, মাসুদ আহমেদ তালুকদার, অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ, হাবিবুল ইসলাম হাবিব, অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, আমিনুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

লিখিত বক্তব্যে রিজভী বলেন, থাইল্যান্ড থেকে দরপত্রের মাধ্যমে আমদানি করা প্রায় ৩২ হাজার ১৪০ টন চাল নিয়ে দুটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে আসে। এরমধ্যে এমভি থাই বিন বে নামের একটি জাহাজ ১২ হাজার ২৯০ টন চাল নিয়ে ৩১শে আগস্ট এবং এমভি ডায়মন্ড-এ নামের অপর চালবাহী জাহাজ আসে চলতি মাসের ১ তারিখ। এতে ১৯ হাজার ৮৫০ টন চাল রয়েছে।

রিজভী বলেন, গত ২০ দিন ধরে পচা চাল খালাসের চেষ্টা করা হচ্ছে। এ নিয়ে যেন কোনো বুমেরাং না হয় তাই সরকারের খাদ্য বিভাগ ও চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ অনেকটা গোপনে কাজ করে গেছেন। কোনো কারণে ঘটনা ফাঁস হয়ে যাওয়ায় এখন তা হজম করতে পারছেনা।

তাই বেসরকারিভাবে হলেও চাল বিক্রির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বিদেশি দুটি জাহাজের সংশ্লিষ্টরা। কিন্তু প্রশ্ন হলো সরকারিভাবে আমদানি করা চাল বেসরকারিভাবে বিক্রির চেষ্টা কেন? এখানেই খটকা। হাওরে বন্যার অজুহাতে চালের সঙ্কট দেখিয়ে সরকার থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশ থেকে চাল আমদানি শুরু করে।

বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, গণমাধ্যমে খবর বের হচ্ছে বর্তমানে নি¤œ আয়ের মানুষের জন্য খোলাবাজারে ওএমএসের আতপ চাল নিচ্ছেনা ক্রেতারা। তারা যাতে এ চাল নেয় এজন্য জোরদবরদস্তি করছেন ডিলাররা। আসলে এর পেছনে আর কি কি রহস্য রয়েছে তা দ্রুত তদন্ত করে বের করা উচিত। তিনি বলেন, ইতোপুর্বে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের গম কেলেঙ্কারির কথা নিশ্চয়ই দেশবাসী ভুলে যায়নি। খাদ্য অধিদফতর ও ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটদের মাধ্যমে সে সময় ব্রাজিল থেকে ৪০০ কোটি টাকায় ২ লাখ ৫ হাজার ১২৮ মেট্রিক টন পচা গম আমদানি করা হয়েছিল। বিষয়টি তখন উচ্চ আদালত পর্যন্ত গড়ালে উচ্চ আদালত পচা গম কেলেঙ্কারি তদন্তের জন্য দুদককে নির্দেশনা দিলেও আজো সে তদন্ত আলোর মুখ দেখেনি।

আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের বক্তব্যের সমালোচনা করে রুহুল কবির রিজভী বলেন, আইনমন্ত্রীর এমন বক্তব্য হাস্যকর ও র্নিলজ্জ মিথ্যাচার। সর্বোচ্চ আদালত কর্তৃক সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণার পর প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে মন্ত্রী, এমপি ও আওয়ামী লীগের নেতারা কিভাবে প্রধান বিচারপতিদের বিরুদ্ধে আক্রমনাত্মক বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন তা মানুষ ভুলে যায়নি।

রোহিঙ্গাদের ওপর মানবতাবিরোধী রক্তাক্ত উৎপীড়ণের মর্মস্পর্শী ইস্যুটির চেয়েও ষোড়শ সংশোধনী নিয়ে খিস্তিখেউর প্রাধান্য পেল ক্ষমতাসীনদের কাছে। এটা যেন তাদের কাছে জাতির মরা বাঁচার ব্যাপার। অথচ চাল সঙ্কট ও খাদ্য নিরাপত্তা সংসদের আলোচনায় গুরুত্ব পেলনা, সত্যিকার অর্থে যেটা জনসাধারণের মরা বাঁচার বিষয়। আদালত কর্তৃক সময় বেঁধে দেয়ার পরও কিভাবে আপনারা মাসের পর মাস সেটিকে আটকিয়ে রাখছেন সেটাও দেশবাসী প্রত্যক্ষ করছে। অর্থাৎ একদলীয় শাসনের যে বিষবৃক্ষ রোপণ করা হয়েছে সেটির গোড়ায় পানি ঢেলে তরতাজা করার জন্য বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ওপর সরকার হামলা চালাচ্ছে। তিনি আরো বলেন, ভোটারবিহীন সরকারের ভয়াবহ দু:শাসন ও লুটেরা নীতির কারণে দেশী-বিদেশী বিনিয়োগ এখন শুন্যের কোঠায়।


এবিএন/মমিন/জসিম

প্রধান শিরোনাম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত