logo
বুধবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৭
bijoy
  • হোম
  • জাতীয়
  • রোহিঙ্গাদের রক্ষার প্রস্তাব জাতিসংঘে তুললেন শেখ হাসিনা (ভিডিও)

রোহিঙ্গাদের রক্ষার প্রস্তাব জাতিসংঘে তুললেন শেখ হাসিনা (ভিডিও)

রোহিঙ্গাদের রক্ষার প্রস্তাব জাতিসংঘে তুললেন শেখ হাসিনা (ভিডিও)

ঢাকা, ২১ সেপ্টেম্বর, এবিনিউজ: মিয়ানমারে উৎপীড়নের হাত থেকে রোহিঙ্গাদের রক্ষায় জাতিসংঘে প্রস্তাব তুলে ধরে মানবিক এই সঙ্কট অবসানে বিশ্ব সম্প্রদায়ের পদক্ষেপ চেয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭২তম অধিবেশনে ভাষণে তিনি রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ক্যাম্প ঘুরে আসার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।

শেখ হাসিনা মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ‘জাতিগত নিধন’ এখনি বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন, শরণার্থীদের ফেরত নিয়ে তাদের সুরক্ষা দিয়ে পুনর্বাসনের কথা বলেছেন।

শেখ হাসিনা স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আমরা যুদ্ধ চাই না, শান্তি চাই। আমরা অর্থনৈতিক উন্নতি চাই, মানব ধ্বংস নয়, মানব কল্যাণ চাই।”

গত মঙ্গলবার জাতিসংঘ সদর দপ্তরে ওআইসি কনট্যাক্ট গ্রুপের বৈঠকে তিনি রোহিঙ্গা সঙ্কট নিরসনে তার প্রস্তাব তুলে ধরেন। তিনি জোরের সঙ্গে বলেন,এই শরণার্থীদের মিয়ানমারকে ফেরত নিতেই হবে।

এরপর বিশ্ব সংস্থার ১৯৩টি সদস্য দেশের প্রতিনিধিদের সামনে বাংলায় দেওয়া ভাষণে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী সুনির্দিষ্ট পাঁচটি প্রস্তাব তুলে ধরেন।

শেখ হাসিনার প্রস্তাব:

অনতিবিলম্বে এবং চিরতরে মিয়ানমারে সহিংসতা ও ‘জাতিগত নিধন’ নিঃশর্তে বন্ধ করা।

অনতিবিলম্বে মিয়ানমারে জাতিসংঘের মহাসচিবের নিজস্ব একটি অনুসন্ধানী দল প্রেরণ করা।

জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সকল সাধারণ নাগরিকের নিরাপত্তা বিধান করা এবং এ লক্ষ্যে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে সুরক্ষা বলয় গড়ে তোলা।

রাখাইন রাজ্য হতে জোরপূর্বক বিতাড়িত সকল রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারে তাদের নিজ ঘরবাড়িতে প্রত্যাবর্তন ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করা।

কফি আনান কমিশনের সুপারিশমালার নিঃশর্ত, পূর্ণ এবং দ্রুত বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা।

গত ২৫ অগাস্ট রাখাইনের ৩০টি পুলিশ পোস্ট ও একটি সেনা ক্যাম্পে রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের হামলার পর সেখানে শুরু হয় সেনা অভিযান, এরপর বাংলাদেশ সীমান্তে নামে রোহিঙ্গাদের ঢল।

জাতিসংঘে ভাষণ দিতে গিয়ে শেখ হাসিনা শুরুতেই বলেন, “আমার হৃদয় আজ দুঃখে ভারাক্রান্ত। আমার চোখে বারবার ভেসে উঠছে ক্ষুধার্ত, ভীত-সন্ত্রস্ত এবং নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের মুখচ্ছবি।”

কয়েকদিন আগেই কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের দেখে আসার কথা জানিয়ে তিনি নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, “এদের দুঃখ-দুর্দশা আমি গভীরভাবে অনুধাবন করতে পারি। ১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্ট আমার বাবা, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করার পর আমি আমার ছোট বোনকে নিয়ে ৬ বছর উদ্বাস্তু জীবন কাটিয়েছি।”

রোহিঙ্গাদের উপর মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর দমন-পীড়নের বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, “রাখাইন রাজ্যে চলমান নৃশংসতা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের ফলে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে অবস্থার ভয়াবহ অবনতি ঘটেছে।

এই নৃশংসতার হাত থেকে বাঁচার জন্য প্রতিদিন হাজার হাজার রোহিঙ্গা সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত যাওয়া ঠেকানোর জন্য মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ মিয়ানমারের অভ্যন্তরে সীমানা বরাবর স্থলমাইন পুঁতে রাখছে।”

এই প্রসঙ্গে ১৯৭১ সালের পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যার ঘটনা তুলে ধরে ২৫ মার্চকে ‘গণহত্যা দিবস’ হিসেবে পালনে বাংলাদেশের পদক্ষেপ জাতিসংঘে জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের কোথাও যাতে কখনই আর এ ধরনের জঘন্য অপরাধ সংঘটিত না হয়, সেজন্য আমি বিশ্ব সম্প্রদায়কে সম্মিলিত পদক্ষেপ গ্রহণের আহবান জানাচ্ছি।

মিয়ানমারে চলমান সহিংসতা বন্ধে এবং সেখানে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় সক্রিয় উদ্যোগ গ্রহণ করায় নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য রাষ্ট্রগুলো ও জাতিসংঘের মহাসচিবকেও ধন্যবাদ জানান শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, “আমরা এই মুহূর্তে নিজ ভূখণ্ড হতে জোরপূর্বক বিতাড়িত ৮ লাখেরও অধিক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় ও সুরক্ষা দিয়ে যাচ্ছি।”

উদ্বেগময় পরিস্থিতির বর্ণনা করে তিনি বলেন, “এ সব মানুষ যাতে নিরাপদে এবং মর্যাদার সঙ্গে নিজ দেশে ফিরে যেতে পারেন, এখনই তার ব্যবস্থা করতে হবে।”

একইসঙ্গে তিনি বলেন, “আমি সব ধরনের সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের প্রতি নিন্দা জ্ঞাপন করছি। এ বিষয়ে আমাদের সরকার ‘জিরো টলারেন্স’নীতি মেনে চলে।”

সন্ত্রাসবাদ এবং সহিংস জঙ্গিবাদকে শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং উন্নয়নের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করে নিজের বেশ কয়েকবার সন্ত্রাসী হামলার শিকার হওয়ার কথাও বলেন শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, আমরা ধর্মের নামে যে-কোনো সহিংস জঙ্গিবাদের নিন্দা জানাই। সহিংস জঙ্গিবাদ বিস্তার রোধে তৃণমূল পর্যায়ে আমরা পরিবার, নারী, যুবসমাজ, গণমাধ্যম এবং ধর্মীয় নেতাদের সম্পৃক্ত করেছি।”

 

বৈশ্বিক সন্ত্রাস মোকাবেলায় তিনটি প্রস্তাব তুলে ধরেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।

১। সন্ত্রাসীদের অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ করতে হবে।

২। সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন বন্ধ করতে হবে।

৩। শান্তিপূর্ণ উপায়ে আন্তর্জাতিক বিবাদ মীমাংসা করতে হবে।

এবিএন/মমিন/জসিম

প্রধান শিরোনাম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত