logo
বুধবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৭
bijoy
রয়টার্সের প্রতিবেদন

মিয়ানমারের কাছে অস্ত্র বিক্রি করবে ভারত?

মিয়ানমারের কাছে অস্ত্র বিক্রি করবে ভারত?

ঢাকা, ২২ সেপ্টেম্বর, এবিনিউজ : মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান রোহিঙ্গা সংকটের মধ্যেই মিয়ানমার সরকারের কাছে অস্ত্র বিক্রি করতে চাইছে ভারত।  বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এমনটাই তুলে ধরা হয়েছে। মিয়ানমারের নৌপ্রধানের নয়াদিল্লি সফরে এই বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে ভারতীয় কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে রয়টার্স এ সংবাদ প্রকাশ করে।

রোহিঙ্গা সংখ্যালঘু মানুষদের ওপর সেনাবাহিনীর চলমান দমন অভিযান ও গণহত্যা চালানোর অভিযোগে সারা বিশ্ব যখন মিয়ানমারের প্রতি নিন্দা জানাচ্ছে, বিভিন্ন দেশ যখন মিয়ানমারের দিকে থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া শুরু করেছে, ঠিক সেই সময়ই ভারত সে দেশে সামরিক সরঞ্জাম বিক্রি ও সেনা প্রশিক্ষণের বিষয়ে আলোচনা চলাচ্ছে। যা কিনা দেশটির প্রতি নয়াদিল্লির জোরালো সমর্থনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ভারতীয় কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে রয়টার্সের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতের শীর্ষস্থানীয় প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে মিয়ানমারের নৌবাহিনী সদস্যদের প্রশিক্ষণের বিষয়েও দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। মিয়ানমারের নৌপ্রধানের নয়াদিল্লি সফরে এই বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

রয়টার্সের ওই প্রতিবেদনে বলা হয় গত বুধবার ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ এবং দেশটির সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর প্রধানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন মিয়ানমার নৌবাহিনীর কমান্ডার-ইন-চিফ অ্যাডমিরাল তিন অং সান। রয়টার্সের খবরে বলা হয়, মিয়ানমারের সঙ্গে ভারতের সামরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির আলোচনার সিদ্ধান্ত দৃশ্যত এই অঞ্চলে চীনের প্রভাবের বিপরীতে নিজেদের দাঁড়ানোর চেষ্টার অংশ।

রয়টার্স জানায়, বৃহস্পতিবার শেষ হওয়া চার দিনের এই সফরে মিয়ানমারের নৌপ্রধান মুম্বাইয়ে ভারতের নৌজাহাজ নির্মাণ এলাকা পরিদর্শন করেছেন। ভারতের ওই সেনা কর্মকর্তা বলেন, ‘মিয়ানমার আমাদের পূর্বমুখী নীতির একটি স্তম্ভ এবং সম্পর্কের একটি বড় জায়গা প্রতিরক্ষা।’

প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমারের সঙ্গে ভারতের সামরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির আলোচনার সিদ্ধান্ত আসলে এই অঞ্চলে চীনের প্রভাবের বিপরীতে নিজেদের দাঁড়ানোর চেষ্টার অংশ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

নয়াদিল্লি ভিত্তিক অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের ভারতের প্রতিবেশী নীতি বিশেষজ্ঞ কে ইওমে বলছেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যখন মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সমালোচনা করছে সে সময় উচ্চ পর্যায়ের সামরিক কর্মকর্তাদের আনছে ভারত সরকার, এটা একটি বার্তা দিচ্ছে।

বার্তাটি হচ্ছে, ‘রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও ভারত মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে আছে।’

গত মাসে রাখাইনে এই সংকট শুরু হওয়ার পর মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চির পাশে দাঁড়ায় নয়া দিল্লি। নিরাপত্তা বাহিনীর উপর রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের হামলার নিন্দা জানায় তারা। পরে সেনাবাহিনীর রোহিঙ্গা নিপীড়নের প্রতিবাদে আন্তর্জাতিক মহল উচ্চকিত হলে লাখ লাখ রোহিঙ্গার বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া নিয়ে উদ্বেগ জানায় ভারত।

এ বিষয়ে চীনও মিয়ানমারের পাশে দাঁড়িয়েছে। চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই সম্প্রতি জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসকে বলেছেন, জাতীয় নিরাপত্তার সুরক্ষায় মিয়ানমারের পদক্ষেপকে সমর্থন এবং রাখাইনে সহিংস হামলার প্রতিবাদ জানায় তারা।

প্রসঙ্গত, বর্তমানে সারা বিশ্বে অন্যতম আলোচিত ইস্যু হলো রোহিঙ্গা। সম্প্রতি মিয়ানমারে কয়েকটি পুলিশ চেকপোস্টে হামলার ঘটনায় দেশটিতে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন শুরু করে সেনাবাহিনী। ওই ঘটনার পর থেকেই মিয়ানমারের সেনাবাহিনী বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে ‘শুদ্ধি অভিযান’র নামে রাখাইন রাজ্যে নিরীহ মানুষের ওপর বর্বর নির্যাতন, হত্যা, ধর্ষণ ও বাড়িঘরে আগুন দেয়ার মতো ঘটনা ঘটায়। এ ঘটনায় ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীর সংখ্যা চার লাখ ২০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে।

রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে জাতিসংঘ থেকে শুরু করে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনগুলো সোচ্চার হচ্ছে। ইতোমধ্যে মিয়ানমারে রাখাইনে দেশটির সেনাবাহিনীর হাতে নির্যাতনের শিকার রোহিঙ্গা মুসলিমদের সংকট নিরসনে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকে দ্রুত শক্তিশালী পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ট ট্রাম্প।

এছাড়া মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান সহিংসতা এবং রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর অত্যাচার-নির্যাতনের ঘটনায় দেশটির ওপর জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন সংস্থাটির মানবাধিকার বিষয়ক প্রধান জেইদ রাদ আল হুসেইন। রোহিঙ্গাদের প্রতি সহিংসতা বন্ধে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণ কর্মসূচি স্থগিত করেছে যুক্তরাজ্য।

ব্রিটিশ সরকারের একজন মুখপাত্র গত মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে বলেন, ‘বার্মার রাখাইন প্রদেশে চলমান সহিংসতা, এর কারণে সৃষ্ট মানবিক সংকট এবং সেখানে মানবাধিকার লংঘনের যেসব ঘটনা ঘটছে তা নিয়ে আমাদের গভীর উদ্বেগের কারণে সেখানকার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গ্রহণযোগ্য কোনো সমাধানে না আসা পর্যন্ত বার্মিজ সেনাবাহিনীর সব শিক্ষা কোর্স স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমরা।’

এবিএন/জনি/জসিম/জেডি

প্রধান শিরোনাম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত