logo
বুধবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৭
bijoy

রোহিঙ্গা সঙ্কট: জাতিসংঘে যা বলল মিয়ানমার

রোহিঙ্গা সঙ্কট: জাতিসংঘে যা বলল মিয়ানমার

ঢাকা, ২১ সেপ্টেম্বর, এবিনিউজ : গত ৫ সেপ্টেম্বরের পর মিয়ানমারের রাখাইনে কোনো সংঘর্ষ হয়নি বলে জানিয়েছেন দেশটির দ্বিতীয় ভাইস প্রেসিডেন্ট হেনরি ভ্যান থিয়ো। রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র সমালোচনার মুখে নিউ ইয়র্কে স্থানীয় সময় গতকাল বুধবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বার্ষিক অধিবেশনে মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সুচি’র স্থলে ভাষণ দিতে গিয়ে তিনি একথা বলেন।

থিয়ো বলেন,  গত ৫ সেপ্টেম্বর থেকে সেখানে কোন সংঘর্ষ হয়নি। আমি আনন্দের সাথে আপনাদের জানাচ্ছি যে রাখাইন পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে।

সংঘাত ছড়িয়ে পড়া রাখাইন রাজ্যের পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে বলে জোর দিয়ে বলেন, মিয়ানমার থেকে পালিয়ে অসংখ্য মুসলিমের বাংলাদেশে চলে যাওয়ার খবরে আমরা উদ্বিগ্ন। চলে যাওয়ার এই কারণ আমাদের খুঁজে বের করা প্রয়োজন।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর দমনপীড়নের মুখে জীবন বাঁচাতে ৪ লাখ ২০ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা মুসলিম বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। সেনাবাহিনী রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে তাদের অভিযানের অংশ হিসেবে বিভিন্ন গ্রাম জ্বালিয়ে দিচ্ছে এবং নারীদের ওপর পাশবিক নির্যাতন চালিয়েছে।

মিয়ানমারে শাসন ক্ষমতার দিক থেকে তৃতীয় প্রধান ভ্যান থিয়ো তার ভাষণে রোহিঙ্গা শব্দ ব্যবহার না করে কেবল তাদেরকে মুসলিম হিসেবে উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, বিদ্রোহী হামলার জবাবে এ সেনা অভিযান চালানো হয়। তিনি বলেন, এতে মুসলিম নন এমন অনেক লোকও ভোগান্তিতে পড়ে। রোহিঙ্গা ইস্যুতে মানবিক সহযোগিতা প্রধান অগ্রাধিকার জানিয়ে ভ্যান থিয়ো মিয়ানমারকে সমর্থন জানানো দেশগুলোকে ধন্যবাদ জানান।

তিনি বলেন, ‘শুধু রাখাইনের মুসলনমানরাই পালিয়ে (বাংলাদেশে) যায়নি, অন্যান্য সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর সদস্যরাও গেছে।’

সেখানকার বর্তমান পরিস্থিতিতে মিয়ানমার সরকার ‘গভীরভাবে উদ্বিগ্ন’ জানিয়ে ভান থিও বলেন, ‘অভিযান পরিচালনার সময় নিরীহ বেসামরিক মানুষের ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানি এড়াতে বাহিনীগুলোকে আচরণবিধি মেনে চলতে ও সংযম বজায় রাখতে সব ব্যবস্থা নেওয়ার কড়া নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

রাখাইনে সেনা অভিযানে প্রাণ বাঁচাতে সোয়া চার লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। নির্যাতন বন্ধে পদক্ষেপ না নেওয়ার আন্তর্জাতিক মহলে সমালোচনায় থাকা মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চি এবার জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দেননি। জাতিসংঘ ওই সেনা অভিযানকে ‘জাতিগত নির্মূল অভিযান’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। মঙ্গলবার রাখাইন পরিস্থিতি নিয়ে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়ে সরাসরি কিছু বলেননি সু চি।

সু চি ৫ সেপ্টেম্বরের পর রাখাইনে কোনো ধরনের সহিংসতা বা নির্মূল অভিযান হয়নি বলে যে দাবি করেছেন, জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে সেই কথার পুনরাবৃত্তি করে মিয়ানমারে উপ-রাষ্ট্রপতি ভান থিও বলেন, ‘রাখাইনের মুসলনমানদের দলে দলে দেশান্তরী হওয়ার পেছনের কারণ আমাদের খুঁজে বের করা প্রয়োজন।’

উপ-রাষ্ট্রপতি ভান থিও জাতিসংঘে দেওয়া ভাষণে সহিংসতায় নিহতদের পরিবারের পাশাপাশি বিদ্রোহীদের হামলায় নিহত পুলিশ সদস্যদের পরিবারের প্রতিও গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন।
 

রাখাইনে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ‘যথাযথ বিচারিক রীতি অনুযায়ী’ সামাল দেওয়া হয়ে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘কোনো বৈষম্য না করে যাদেরই দরকার’ তাদের কাছে মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর বিষয়টি নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা সরকার বুঝতে পারছে।

ভান থিও জানান, সঙ্কট সমাধানে কফি আনান নেতৃত্বাধীন কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন করতে সমাজকল্যাণ মন্ত্রীর অধীনে একটি কমিটি হয়েছে। মিয়ানমার ও তার বাইরে থেকে ‘নেতৃত্বস্থানীয় ব্যক্তিদের’ নিয়ে সরকার আরেকটি উপদেষ্টা বোর্ড গঠন করবে।

প্রতিবেশী বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কন্নোয়নে মিয়ানমার কাজ করে যাচ্ছে জানিয়ে বক্তব্যে তিনি বলেন, সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনার জন্য বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে মিয়ানমারে স্বাগত জানাতে চায় তার দেশ।

এবিএন/জনি/জসিম/জেডি

প্রধান শিরোনাম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত