logo
শুক্রবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৭
 

সৈয়দ মুজতবা আলী জন্মদিন আজ

সৈয়দ মুজতবা আলী জন্মদিন আজ
ঢাকা, ১৩ সেপ্টেম্বর, এবিনিউজ : সৈয়দ মুজতবা আলীর জন্মদিন আজ। ১৯০৪ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর অবিভক্ত ব্রিটিশ ভারতে আসামের অন্তর্ভুক্ত সিলেটের করিমগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা সৈয়দ সিকান্দার আলীর পৈতৃক ভিটা মৌলভীবাজারে।
 
সৈয়দ মুজতবা আলী রম্য রচনায় বাংলা সাহিত্যে প্রবাদপুরুষ। এ ছাড়া তিনি আধুনিক বাংলা সাহিত্যের ঔপন্যাসিক, ছোটগল্পকার ও অনুবাদক।তিনি তার ভ্রমণকাহিনীগুলির জন্যও বিশেষভাবে জনপ্রিয়। বহুভাষাবিদ সৈয়দ মুজতবা আলীর রচনা একই সঙ্গে পাণ্ডিত্য এবং রম্যবোধে পরিপুষ্ট।
 
বিভিন্ন সময় বাবার চাকরিস্থল বদলি হওয়ায় মুজতবা আলীর প্রাথমিক শিক্ষাজীবন কাটে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। ১৯২১ সালে তিনি শান্তিনিকেতনে ভর্তি হন। বিশ্বভারতীর প্রথমদিকের ছাত্র ছিলেন তিনি। এখানে তিনি সংস্কৃত, ইংরেজি, আরবি, ফার্সি, হিন্দি, গুজরাটি, ফরাসি, জার্মান ও ইতালীয় ভাষা শিক্ষালাভ করেন।
 
১৯২৬ সালে তিনি বিএ ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর তিনি আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করেন। পরে দর্শনশাস্ত্র পড়ার জন্য বৃত্তি নিয়ে জার্মানির বন বিশ্ববিদ্যালয়ে চলে যান। ১৯৩২ সালে তুলনামূলক ধর্মতত্ত্বে গবেষণার জন্য তিনি ডি.ফিল লাভ করেন। ১৯৩৪-১৯৩৫ সালে তিনি মিসরে কায়রোর আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন।
 
আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া শেষ করে ১৯২৭ থেকে ১৯২৯ সাল পর্যন্ত মুজতবা আলী কাবুলের শিক্ষাদপ্তরে অধ্যাপনা করেন। সেখানে তিনি ইংরেজি ও ফরাসি ভাষার শিক্ষক ছিলেন। ১৯৩৫ সালে বরোদার মহারাজার আমন্ত্রণে তিনি বরোদা কলেজে তুলনামূলক ধর্মতত্ত্বের অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন। এখানে তিনি ৮ বছর কাটান। এর পর দিল্লির শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে যোগ দেন।
 
শান্তিনিকেতনে পড়ার সময় বিশ্বভারতী নামের হস্তলিখিত ম্যাগাজিনে মুজতবা আলী লিখতেন। পরবর্তী সময়ে তিনি ‘সত্যপীর’, ‘ওমর খৈয়াম’, ‘টেকচাঁদ’, ‘প্রিয়দর্শী’ প্রভৃতি ছদ্মনামে বিভিন্ন পত্রিকায়, যেমন : দেশ, আনন্দবাজার, বসুমতী, সত্যযুগ, মোহাম্মদী প্রভৃতিতে কলাম লিখেন। দেশ ভ্রমণের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি ভ্রমণকাহিনীও লিখেছেন।
 
লিখেছেন ছোটগল্প, উপন্যাস, রম্যরচনা। বিবিধ ভাষা থেকে শ্লোক ও রূপকের যথার্থ ব্যবহার, হাস্যরস সৃষ্টিতে পারদর্শিতা এবং এর মধ্য দিয়ে গভীর জীবনবোধ ফুটিয়ে তোলার ক্ষমতা তাকে বাংলা সাহিত্যে এক বিশেষ মর্যাদার আসনে বসিয়েছে। তার রচিত বইয়ের সংখ্যা ৩০। সেগুলির মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ভ্রমণকাহিনী ‘দেশে-বিদেশে’, ‘জলে-ডাঙায়’। উপন্যাস ‘অবিশ্বাস্য’, ‘শবনম’। রম্যরচনা ‘পঞ্চতন্ত্র’, ‘ময়ূরকণ্ঠী’ এবং ছোটগল্প ‘চাচা-কাহিনী’, ‘টুনি মেম’ ইত্যাদি।
 
বাংলা সাহিত্যে উল্লেখযোগ্য অবদানের জন্য ১৯৪৯ সালে তিনি নরসিং দাস পুরস্কারে ভূষিত হন। এ ছাড়া ১৯৬১ সালে অর্জন করেন আনন্দ পুরস্কার।গুণি এই মানুষটি ১৯৭৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।
এবিএন/সাদিক/জসিম/এসএ

প্রধান শিরোনাম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত