logo
মঙ্গলবার, ২১ নভেম্বর ২০১৭
 

যেসব বদভ্যাস আপনার ত্বকের ক্ষতি করছে

যেসব বদভ্যাস আপনার ত্বকের ক্ষতি করছে
ঢাকা, ০৯ সেপ্টেম্বর, এবিনিউজ : এটি কখনই সম্ভব নয় যে, আপনি সব প্রাকৃতিক উপাদান বা ব্যয়বহুল প্রসাধনী সংগ্রহ করে পরের দিন থেকে অসামান্য রূপে নিজেকে দেখতে পাবেন। স্কিন কেয়ার একটি প্রক্রিয়া, যা প্রতিদিন নিয়ম করে করার প্রয়োজন পড়ে। এককথায় তরতাজা দেখাতে দৈনন্দিন জীবনে সামান্য প্রচেষ্টার প্রয়োজন আছে, তা না হলে কিন্তু লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব নয়। একটি সুস্থ, সুন্দর ত্বকের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হবে না যদি প্রতিদিন ছোট ছোট উদ্যোগ, যেমন পানি খাওয়া বা ত্বককে রক্ষা করার প্রয়াস করা হয়। 
 
অফিস, টাইট শিডিউল বা দুরন্ত লম্বা ছুটির সময়ও এই তালিকাটিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে, যদি সুন্দর ত্বকের অধিকারী হতে চান! ভালোর সঙ্গে সঙ্গে কিছু খারাপ অভ্যাস অবশ্যই আছে, যা আমরা অজান্তেই অনুসরণ করে চলি এবং তা আমাদের ত্বককে প্রভাবিত করে থাকে। এই ভুলগুলো প্রায় প্রত্যেক নারীই করে থাকেন। সৌন্দর্য সচেতন নারীরা তাদের নিখুঁত ত্বক পাওয়ার জন্য অবিলম্বে এই সকল বদভ্যাসগুলো সংশোধন করুন, হাতেনাতে ফল পাওয়ার জন্য। আপনি আজ পর্যন্ত যদি এই কাজগুলো করে থাকেন তা হলে এখনই ভুল শুধরে নিন-
 
ভুল পদ্ধতিতে পরিষ্কার : প্রতিদিন সকালে ও রাতে ত্বক পরিষ্কার খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে মেকআপ ব্যবহার করলে। তবে আপনি যদি প্রয়োজনের অতিরিক্ত মুখ বা শরীর পরিষ্কার করেন, তা হলে আপনার ত্বক শুষ্ক ও নির্জীব দেখাতে পারে। তাই সাবধান! আসলে সাবান বা ফেসওয়াশ ত্বকের প্রাকৃতিক তেল ধুয়ে দেয়। ফলে ত্বক নির্জীব ও শুকনো দেখায়। অতএব আপনার ত্বকের নিজস্ব ময়েশ্চারাইজিং তেলকে ধরে রাখতে পরিষ্কারের জন্য বেশি পানি এবং কম সাবান ব্যবহার করুন, দেখবেন উপকার পাবেন।
 
শুধু মুখে সানস্ক্রিন প্রয়োগ : প্রতিদিন ত্বকে সানস্ক্রিন প্রয়োগ সুস্থ অভ্যাস। কিন্তু শুধুমাত্র মুখে সানস্ক্রিন প্রয়োগ করা উচিত নয়। শরীরের যে যে অংশ সূর্যের আলোর সংস্পর্শে আসে, সেই সেই অংশেও সানস্ক্রিন প্রয়োগ করা উচিত। প্রসঙ্গত, আপনি যদি শুধুমাত্র মুখেই সানস্ক্রিন প্রয়োগ করেন, তাহলে মুখ এবং শরীরের রং পৃথক দেখাতে শুরু করবে।
 
ঘুমানোর অভ্যাস : ত্বকের পরিচর্যায় সবচেয়ে খারাপ অভ্যাস হলো দীর্ঘদিন একই বালিশের কাভারে ঘুমোনো। আপনি যখন ঘুমোন, বালিশের কাভার বাড়তি নাইট ক্রিম, মৃত চামড়ার কোষ, তেল এবং ব্যাকটেরিয়া সংগ্রহ করে। আপনি যখন আবার সেই কাভারে পাশ ফিরে শোন তখন সেই সব জিনিস আবার আপনার মুখেই জমা হয়। অতএব প্রতি সপ্তাহে একবার কাভারগুলি পরিবর্তন করুন, ভালো ফলাফল পেতে সুতির বদলে রেশমের কাভার ব্যবহার করুন।
 
প্রসাধনীর সঙ্গে অতিরিক্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা : রঙিন বোতল এবং বাক্সগুলো, যা মেকআপের দোকানের আলমারিতে শোভা পায় তা খুবই লোভনীয়। বিভিন্ন ব্র্যান্ড, রং বা নানারকম প্রসাধনী চেষ্টা করার মজাই আলাদা। কিন্তু আপনি কি জানেন এটি ত্বক পরিচর্যার ক্ষেত্রে একটি মারাত্মক বদভ্যাস। ত্বককে ভালো রাখতে এক বা দুটি ব্র্যান্ডের প্রতি অনুগত থাকাই ভাল।
 
অ্যালকোহলে রয়েছে এমন স্কিন কেয়ার পণ্যের ব্যবহার : অ্যালকোহলযুক্ত পণ্য ব্যবহার না করাই ভালো। কারণ এর ডাইউরেটিক প্রকৃতি ত্বককে শুষ্ক করে দেয়। এ ছাড়াও অ্যালকোহলযুক্ত প্রসাধনী ভাসোপ্রেসিন নামে একটি হরমোনকে ধ্বংস করে দেয়। ফলে ত্বকের ওপর কুপ্রভাব পড়ে। অ্যালকোহলভিত্তিক প্রসাধনীতে ত্বকের আদ্রতা নষ্ট হয়, তাই এগুলো এড়িয়ে চলাই ভালো। প্রসঙ্গত, এবার থেকে স্কিনকেয়ার পণ্যসামগ্রী কেনাকাটা করার সময়ে প্রত্যেকটির কম্পোজিশান পড়ার চেষ্টা করুন এবং যেগুলোতে অ্যালকোহলের মাত্রা কম, সেগুলি বেছে নিন। সম্পূর্ণ অ্যালকোহল ফ্রি প্রসাধনী পেতে গেলে আপনাকে জৈব জিনিস কিনতে হবে।
 
একই মেকআপ ব্রাশ ব্যবহার করা : একটি পার্টিতে যাবার আগে আপনি মেকআপ ব্রাশ ব্যবহার করেন এবং তাড়াহুড়োতে তাদের ওইভাবেই রেখে চলে যান। পরবর্তী পার্টির যখন সময় আসে, তখন আপনি একই মেকআপ ব্রাশ পুনরায় ব্যবহার করার ভুলটা করে ফেলেন। পুরাতন ব্লশ বা পাউডারের অবশিষ্টাংশের সঙ্গে একই মেকআপ ব্রাশের পুনরায় ব্যবহারটি আপনার ত্বকের ছিদ্রকে আরও নিস্তেজ করে দেয়। এক্ষেত্রে সঠিক পদ্ধতি হল, ব্রাশগুলোকে হালকা শ্যাম্পু দিয়ে মাসে কমপক্ষে দুবার বা প্রতিটি মেকআপ সেশনের পরে পরিষ্কার করে নেওয়া উচিত। এ ছাড়াও ব্রাশগুলো ড্রেসিং টেবিলে সাজিয়ে রাখবেন না, তাতে ধুলো বালি জমতে পারে। এর পরিবর্তে তাদের একটি ব্যাগে বা টিস্যুর মধ্যে মুড়িয়ে রাখুন।
 
ইওডি দিয়ে মেকআপ না তোলা : সবচেয়ে খারাপ স্কিনকেয়ার অভ্যাস হল, দিনের শেষে মেকআপ না ধুয়ে শুতে যাওয়া। এটি দুটি কারণে করা হয়- এক, আপনি খুব ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন। তাই মেকআপ তোলাতে আলসেমি অথবা দুই, আপনার বিশ্বাস সেই মেকআপে আপনার সঙ্গী আকর্ষিত হবে। আসলে আপনি যখন মেকআপের সাথে ঘুমোন, তখন আপনার ত্বকের ছিদ্রে তা জমা হয় এবং এর থেকেই ব্রণ, ফুসকুড়ির জন্ম নেয়। আর আপনার সঙ্গী কিন্তু রঙের প্রলেপে ঢাকা নারীর তুলনায় সদ্য গোসলসারা স্নিগ্ধ নারীকেই বেশি পছন্দ করবেন, তাই না?
 
তোয়ালে বা রুমালের ভুল ব্যবহার : কত ঘন ঘন আপনি আপনার তোয়ালে এবং রুমাল ধুয়ে থাকেন? অলসতা বা অজ্ঞতা যাই বলুন না কেন, প্রায়ই মহিলারা একই তোয়ালে বা রুমাল দিয়ে মুখ মোছেন, যা তারা কয়েক মাস ধরে পরিষ্কার করেননি। এটি করলে আপনার তোয়ালে বা রুমালে থাকা অবশিষ্ট ময়লা আপনার ত্বকের ছিদ্রে ফিরে আসে। এক্ষেত্রে আদর্শ সমাধান হলো, সপ্তাহে এক বা দুইবার আপনার তোয়ালে ধুয়ে ফেলতে হবে, যাতে এটি যথেষ্ট পরিষ্কার হয়। আপনি যদি মনে করেন তোয়ালে পরিষ্কার করতে সময় লাগবে, তাহলে সেটি ধোয়া পর্যন্ত বিকল্প তোয়ালে রাখতে পারেন। একই রুমাল ব্যবহার করার পরিবর্তে ওয়েট উইপস ব্যবহার করতে পারেন, যা ব্যবহারের পরে ফেলে দিতে পারেন।
সূত্র : ওয়ান ইন্ডিয়া
 
এবিএন/সাদিক/জসিম/এসএ

প্রধান শিরোনাম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত