logo
মঙ্গলবার, ২১ নভেম্বর ২০১৭
 
  • হোম
  • সারাদেশ
  • বিরলে বন্যা দুর্গত এলাকায় উপজেলা প্রশাসনের শুকনা খাবার বিতরন

বিরলে বন্যা দুর্গত এলাকায় উপজেলা প্রশাসনের শুকনা খাবার বিতরন

বিরলে বন্যা দুর্গত এলাকায় উপজেলা প্রশাসনের শুকনা খাবার বিতরন
বিরল, ১৭ আগস্ট, এবিনিউজ: লাগাতার কয়দিনের ভারি বর্ষন ও উজান থেকে নেমে আসা পানিতে দিনাজপুরের বিরল উপজেলার ১২ টি ইউনিয়নের নিন্মাঞ্চল প্লাবিত। হাজার হাজার মানুষ সহায় সম্বল হারিয়ে পথে বসেছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ, বাঁধসহ বিভিন্ন উঁচু সড়কে আশ্রয় নিয়েছে হাজার হাজার মানুষসহ গোবাদি পশু। বাঁধসহ বিভিন্ন সড়কে খোলা আকাশের নীচে মানবেতর জীবন যাপন করছে বন্যা দুর্গত এলাকার মানুষ।
বুধবার দিনব্যাপী বিরল উপজেলা প্রশাসন, কামদেবপুর উচ্চ বিদ্যালয়, দাখিল মাদ্রাসা ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আশ্রয়ন কেন্দ্রে আশ্রিতদের মাঝে শুকনা খাবার বিতরন করেন।
এ ছাড়াও ধর্মপুর ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে ধর্মপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন সড়কে আশ্রয় নেওয়া পরিবারগুলোর মাঝে খিচুরী বিতরন করা হয়। 
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও বিরল পৌর প্রশাসক এ বি এম রওশন কবীর, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আ ন ম বজলুর রশিদ, আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এম এ লতিফ, সম্পাদক এ কে এম মোস্তাফিজুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দগন উপজেলার রাণীপুকুর ও ধর্মপুর ইউনিয়নের বন্যায় প্লাবিত এলাকা পরিদর্শন করেন এবং শুকনা খাবার বিতরন করেন।
রাণীপুকুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফারুক আযম বলেন, তাঁর ইউনিয়নের জগৎপুর, ছোট চৌপুকুরিয়া, রাঙ্গন, চেচাইহাটসহ বিভিন্ন গ্রামের কাঁচা ঘরবাড়ি বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। 
ধর্মপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাবুল চন্দ্র সরকার বলেন, ধর্মপুর, ধর্মজইন, বনগাঁও, রাণীপুর, মুকদুমসহ বিভিন্ন গ্রামের অনেক কাঁচা ঘরবাড়ি ধ্বসে গেছে। শুধুমাত্র দুই একটি পাকা বাড়ি দাঁড়িয়ে আছে। গত চারদিন ধরে পানির নিচে তলিয়ে আছে মানুষের ঘরবাড়ি। আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় না পেয়ে অনেকেই বাঁধ এবং বিভিন্ন সড়কের উপর গোবাদিপশু সহ খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন যাপন করছে।
ধর্মপুর গ্রামের মহালবাড়ি পাড়ার জহুরাবানু (৫০), দুলালী বেগম (৪০) ও মোহাম্মদ আলীসহ আরও অনেকে বলেন, মহালবাড়ি পাড়ার ১৩ টি পরিবার ধর্মপুর-কামদেবপুর পাকা সড়কে খোলা আকাশের নীচে গত চারদিন ধরে আছে। তাঁদের সকলের কাঁচা ঘরবাড়ি ভেঙ্গে গেছে। 
ধর্মপুর গ্রামের বড় হিন্দু পাড়ার ২৫ টি পরিবার ধর্মপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আশ্রয় নিয়েছে। আশপাশে আর কোথাও কোন উঁচু জায়গা না না থাকায় মহালবাড়ি পাড়ার মানুষ সড়কে খোলা আকাশের নীচে বাস করছে। 
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ বি এম রওশন কবীর বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহীনির সদস্যদের সহায়তায় বুধবার ধর্মপুর ইউপির কামদেবপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে ত্রান বিতরন করা হয়েছে। বন্যা দুর্গত এলাকার মানুষের মাঝে সরকারিভাবে ত্রাণ বিতরন করা হচ্ছে। প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মেম্বারদের প্লাবিত এলাকার মানুষের সব রকম সহযোগিতার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। 
 
এবিএন/সুবল রায়/জসিম/নির্ঝর

প্রধান শিরোনাম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত