logo
শুক্রবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৭
 

যাদের আদা খাওয়া উচিত নয়

যাদের আদা খাওয়া উচিত নয়
ঢাকা, ১৭ জুলাই, এবিনিউজ : আদা পুষ্টি সমৃদ্ধ ও বায়োঅ্যাকটিভ যৌগযুক্ত উদ্ভিদ যার মানসিক এবং দৈহিক উপকারিতা প্রচুর। প্রাচীন চীনে হাজার হাজার বছর আগে থেকেই ঔষধি কাজে এটি ব্যবহার করা হত। আদার মূল রান্না ও ঔষধি হিসেবে ব্যবহার করা হয়। 
 
হজমের সমস্যা থেকে শুরু করে ইনফ্লামেশন এমনকি হৃদরোগের সমস্যা সমাধানেও ব্যবহার হয় আদা। কিন্তু কিছু মানুষের ক্ষেত্রে এই অত্যন্ত স্বাস্থ্যকর উপাদানটি হতে পারে অনেক বেশি মারাত্মক। আপনি যদি এই দলে পড়েন তাহলে আপনার উচিত দ্রুত আদা গ্রহণ করা বন্ধ করে দেয়া। চলুন তা হলে জেনে নিই কাদের জন্য আদা গ্রহণ করা বিপজ্জনক।
 
কম ওজন যাদের : হাইপোগ্লাইসেমিয়া, ডায়াবেটিস ও স্থূলতার রোগীরা ওজন কমানোর জন্য আদা গ্রহণ করেন। একটি গবেষণায় জানা গেছে যে, আদার রস শরীরের ওজন ও লিপিডের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে।
 
আদা পাকস্থলীর pH-এর মাত্রা বৃদ্ধি করে এবং ডাইজেস্টিভ এনজাইমকে উদ্দীপিত করে উচ্চমাত্রার ফাইবারের জন্য। যখন আমাদের শরীর অপ্রয়োজনীয় খাদ্য উপাদান আমাদের শরীর থেকে কার্যকরভাবে বের করে দিতে পারে তখন ওজন কমে।
 
যাদের বডি মাস ইনডেক্স (BMI) কম থাকে তাদের শরীরে পুষ্টির পরিমাণ কম থাকে এবং তাদের ওজন কম হয়। তাদের শরীর থেকে চর্বি বের হয়ে যাওয়া তাদের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক পরিণতি সৃষ্টি করতে পারে যেমন- পেশীর ভর কমে যাওয়া, চুল কমে যাওয়া, অনিয়মিত পিরিয়ড হওয়া এবং ভিটামিনের ঘাটতি হওয়া। যদি আপনার চিকিৎসক বলেন যে আপনার ওজন বৃদ্ধি করা প্রয়োজন তাহলে আপনার ডায়েট থেকে আদা একবারে বাদ দিয়ে দিন অথবা আদা গ্রহণের পরিমাণ কমিয়ে দিন।
 
গর্ভবতী নারী : আদা শক্তিশালী উদ্দীপকে পরিপূর্ণ যা আমাদের পেশীর স্বাস্থ্য এবং পরিপাকের জন্য আদর্শ একটি উপাদান। কিন্তু গর্ভবতী নারীদের জন্য এটি অনিয়মিত সংকোচন ঘটাতে পারে, যার কারণে অপরিণত প্রসব হতে পারে। গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে আদা বাদ দেয়া অত্যাবশ্যকীয় বিশেষ করে গর্ভাবস্থার শেষ মাসে। আদার মূল মর্নিং সিকনেস প্রতিরোধ করে, যা গর্ভাবস্থার প্রথম দিকের একটি সাধারণ লক্ষণ। তাই সেই সময়ে আদা গ্রহণ করা যেতে পারে।
 
চর্বিতে দ্রবণীয় ভিটামিন এবং আয়রনের শোষণে বাঁধার সৃষ্টি করে আদা। যদি আপনার গর্ভধারণের ইচ্ছা থাকে তাহলে আদার সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করার আগে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।   
 
রক্ত সম্পর্কিত সমস্যা আছে যাদের : হিমোফিলিয়া একটি বিরল জেনেটিক সমস্যা যেখানে রক্ত জমাট বাঁধার ক্ষমতা মারাত্মকভাবে কমে যায়। আক্রান্ত ব্যক্তি তীব্র রক্তপাতের সমস্যায় ভুগতে পারেন।
 
আদা রক্ত সঞ্চালনকে উদ্দীপিত করে। যা অনেক মানুষের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে যারা পেরিফেরাল আর্টারি ডিজিজ, ডায়াবেটিস, স্থূলতা বা রাইনডস ডিজিজে ভুগছেন তাদের জন্য।
 
আদা শুধু জীবন রক্ষাকারী ওষুধের প্রভাবই নষ্ট করে দেয় না বরং রক্ত সঞ্চালন যদি অনেক বেশি উদ্দীপিত হয় তাহলে হিমোফিলিয়ার অবস্থা মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে এবং কখনো কখনো মারাত্মক রক্তপাত হতে পারে।   
 
যারা নির্দিষ্ট ওষুধ গ্রহণ করেন : যদি আপনি উচ্চ রক্তচাপ বা ডায়াবেটিসে ভুগে থাকেন এবং এর জন্য ওষুধ গ্রহণ করে থাকেন তাহলে আদা গ্রহণ করলে এই ওষুধ আপনার শরীরে যে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করার কথা তার ধরণকে পাল্টে দিতে পারে। বিশেষ করে বেটা ব্লকারস, অ্যান্টিকোঅ্যাগুলেন্টস এবং ইনসুলিনের সঙ্গে আদা গ্রহণ করা হতে পারে খুবই মারাত্মক।
 
আদার ব্যবহার মারাত্মক হতে পারে কারণ আদা রক্তচাপ কমাতে পারে এবং রক্তকে পাতলা হতে উদ্দীপিত করে। যা চিকিৎসকের নির্দেশিত ওষুধের সঙ্গে প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে এবং অপ্রীতিকর ফল নিয়ে আসতে পারে।
 
এবিএন/সাদিক/জসিম/এসএ

প্রধান শিরোনাম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত