logo
শুক্রবার, ২১ জুলাই ২০১৭
 

ঢাকায় উল্টোপথে সবচেয়ে বেশি গাড়ি কোন এলাকায় চলে জানেন...

ঢাকায় উল্টোপথে সবচেয়ে বেশি গাড়ি কোন এলাকায় চলে জানেন...

ঢাকায় উল্টোপথে সবচেয়ে বেশি গাড়ি কোন এলাকায় চলে জানেন? কাকরাইল মসজিদের উল্টোদিকে প্রধান বিচারপতির বাসার সামনে। সত্যি প্রধান বিচারপতির বাসার সামনে প্রতিদিন আইনকে বুড়ো আঙুল দেখানো হয়। দেখান কারা? মন্ত্রিসভার সদস্য, বিচারপতি, পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। কয়েকদিন আগে উল্টোপথে আসা এক বিচারপতির গাড়ির নিচে চাপা পড়ে মরতে বসেছিলেন এক মোটরসাইকেল চালক।
ঢাকার রাস্তায় দুই ধরনের গাড়ি উল্টোপথে যেতে দেখলে আমার গ্লানি বোধ হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস এবং সংবাদপত্র লেখা কোনো গাড়ি। প্রতিবার মনে হয়, অপরাধটা বুঝি আমিই করছি। নিজে পড়েছি বলে নয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দেশের সবচেয়ে প্রাগ্রসর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মুক্তচিন্তা বিকাশের সবচেয়ে বড় স্থান। ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে গণঅভ্যুত্থান, মুক্তিযুদ্ধ, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে দেশের সব গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যখন মাস্তানের মতো উল্টোপথে দোতলা বাস চালিয়ে দেয়, লজ্জায় আমার মাথা হেঁট হয়ে যায়।
তাদের যুক্তি উল্টোপথে না গেলে তারা ক্লাস বা পরীক্ষা মিস করবে। এটা কোনো যুক্তি হতে পারে না। ঢাকা শহরে ক্লাস বা পরীক্ষার জন্য পর্যাপ্ত সময় হাতে নিয়েই আপনাকে বাসা থেকে বেরুতে হবে। এই যুক্তিটা আরো ধোপে টেকে না; কারণ শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার সময় নয়, ফেরার সময়ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস উল্টোপথেই চলে।
রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স, দায়িত্ব পালনকালে প্রয়োজনে পুলিশের গাড়ি, ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি, কখনো কখনো সাংবাদিকদের বহনকারী গাড়িও উল্টোপথে যেতে পারে। কিন্তু কোনো ক্লিনিক যদি তাদের ডাক্তারদের আনা-নেয়ার কাজে অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহার করে। সেই অ্যাম্বুলেন্স নিশ্চয়ই উল্টোপথে যাওয়ার প্রাধিকার পাবে না, পাওয়া উচিতও নয়। জরুরি প্রয়োজনে পুলিশের গাড়ি উল্টোপথে যেতে পারে। কিন্তু কোনো পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রী যখন উল্টোপথে শপিং করতে যান, তার জবাব কে দেবে? অতি জরুরি প্রয়োজনে সাংবাদিকরাও উল্টোপথে যেতে পারেন। তবে সেই প্রয়োজনটা হতে হবে সত্যিই অতি জরুরি।
কোথাও আগুন লাগলে বা দুর্ঘটনা হলে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছতে সাংবাদিকরা কালেভদ্রে উল্টোপথ ব্যবহার করতে পারেন। কিন্তু যখন পূর্ব নির্ধারিত অ্যাসাইনমেন্টে যেতে বা অফিসে বা বাসায় যেতে বা শপিংয়ে যেতেও সাংবাদিকরা ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে উল্টোপথে যান বা যেতে চান, তা অন্যায়, বেআইনি। ঢাকা শহরে সবাইকে পর্যাপ্ত সময় হাতে নিয়েই বের হতে হবে। এখানে কোনো অজুহাত গ্রহণযোগ্য নয়। মন্ত্রী, এমপি, বিচারপতি, পুলিশ, সাংবাদিকদের সময়ের দাম আছে, সাধারণ মানুষের বুঝি নেই?
বিস্তারিত পড়তে নিচের লিঙ্কে ক্লিক করুন:

রং সাইড সবার জন্যই রং

প্রভাষ আমিন’র স্ট্যাটাস থেকে

প্রধান শিরোনাম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত