logo
শুক্রবার, ২১ জুলাই ২০১৭
 
মো. শওকাত হোসেন’র সাক্ষাৎকার

আমদানিকারকদের সুবিধার্থে অটোমেশন চালু করা হয়েছে

আমদানিকারকদের সুবিধার্থে অটোমেশন চালু করা হয়েছে
ঢাকা, ১৩ জুলাই, এবিনিউজ : দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোল। বছরে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আসে এখান থেকে। এখানকার নানা সমস্যা, সফলতা ও সক্ষমতা নিয়ে সম্প্রতি কথা বলেছেন বেনাপোল কাস্টমস কমিশনার মো. শওকাত হোসেন।
 
২০০০ সালে সরকার বেনাপোল কাস্টম হাউজ স্থাপন করে। দীর্ঘ সময়ে এর সফলতা কতটুকু দেখছেন? এর সক্ষমতাই বা কতটুকু বেড়েছে?
 
প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ের চেয়ে আমাদের সক্ষমতা অনেক বেড়েছে। আগে যেখানে বেনাপোল স্থলবন্দরে বছরে ৪০০ কোটি টাকার রাজস্ব আহরণ হতো, এখন সেখানে ৪ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আহরণ হচ্ছে। গেল অর্থবছরেও আমরা ৩ হাজার ৮০০ কোটি টাকার রাজস্ব আদায় করেছি। আমদানিকারকদের সুবিধার্থে বন্দরের কার্যক্রম অটোমেশনের আওতায় আনা হয়েছে। বর্তমানে সব কাজই হচ্ছে সিস্টেম মেনে।
 
সক্ষমতা বৃদ্ধি ও যথোপযুক্ত অবকাঠামোর মাধ্যমে বেনাপোল থেকে কী পরিমাণ রাজস্ব আহরণ সম্ভব?
 
এটা নির্ভর করে স্থানীয় বাজারের ওপর। ভোক্তার চাহিদা অনুযায়ী আমদানি হয়ে থাকে। আমদানি বাড়লে স্বাভাবিকভাবেই রাজস্ব আহরণ বাড়ে। সাম্প্রতিক সময়ে অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানোর জন্য আমাদের দেশে অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠছে। এ কারণে বিদেশী পণ্যের আমদানি কমে যাচ্ছে। স্থানীয় শিল্পের জন্য অবশ্যই এটা ভালো লক্ষণ।
 
প্রয়োজনের তুলনায় লোকবল কম থাকায় পণ্য খালাসে ধীরগতির অভিযোগ তুলছেন  ব্যবসায়ীরা। কাজে অবহেলা ও সহজে পণ্য ছাড়করণে কাস্টমস কর্মকর্তাদের মানসিকতার অভাব রয়েছে বলেও অভিযোগ অনেকের...
 
আমার এখানে লোকবল সংকট প্রকট। তবে যারা আছেন, তারা সবাই নিজ দায়িত্বের প্রতি যত্নশীল। কেউ কাজ শেষ না করে বাড়ি যান না। সেবাপ্রত্যাশীদের কোনো ধরনের হয়রানি এখানে হয় না। কারো বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগ আনা হলে তাকে কোনো প্রকারের ছাড় দেয়া হবে না। তদন্তসাপেক্ষে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
 
কাস্টম হাউজে পণ্য খালাসের ক্ষেত্রে বহিরাগতদের হস্তক্ষেপ ও হয়রানির অভিযোগ রয়েছে। বহিরাগত দালালরা অনেক সময় কাস্টমস কর্মকর্তাদের সহায়তায় ব্যবসায়ীদের অবৈধ সুবিধা পাইয়ে দেয় বলেও অভিযোগ রয়েছে...
 
বেনাপোল কাস্টমসে বহিরাগতদের কোনো স্থান নেই। ব্যবসায়ীদের অবৈধ সুবিধা দেয়ারও কোনো সুযোগ এখানে নেই। যথাযথ নিয়মে সরকারকে রাজস্ব পরিশোধ করেই তাদের পণ্য খালাস নিতে হয়। তাই এখানে দুর্নীতির কোনো সুযোগ নেই।
 
সীমান্তে চোরাচালানসহ অবৈধ পণ্য আটকের ক্ষেত্রে অনেক সময়ই কাস্টমসের কাজে বিজিবির হস্তক্ষেপের কথা শোনা যায়। কাস্টমস কর্মকর্তারাও এর বিরোধিতা করেছেন। বিষয়টি কীভাবে দেখছেন?
 
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) রাষ্ট্রীয় সীমান্ত রক্ষীবাহিনী। তারা তাদের কাজ করবে, এটাই স্বাভাবিক। অনেকে চোরাচালানে পণ্য আনা-নেয়া করে থাকে। সেক্ষেত্রে বিজিবি মালামাল আটক করতেই পারে। তাদের সঙ্গে আমাদের বিরোধ থাকার প্রশ্নই আসে না।
 
বিশ্বব্যাপী উন্মুক্ত বাণিজ্য ব্যবস্থাপনার আওতায় কাস্টমস ডিউটি ক্রমেই কমে আসছে। রাজস্ব আহরণ ছাড়া কাস্টমস কর্মকর্তারা আর কীভাবে দেশের সেবা করছেন?
 
রাজস্ব আদায় ছাড়াও দেশের স্বার্থে কাস্টমস অন্যান্য কাজও করে থাকে। মানি লন্ডারিং, অবৈধ অস্ত্র পাচার ও চোরাচালান প্রতিরোধে তারা প্রতিনিয়ত ভূমিকা রেখে চলেছেন। অবৈধ সোনা চোরাচালান আটক করছেন তারা। কেউ যেন মিথ্যা ঘোষণার মাধ্যমে অর্থ পাচার করতে না পারে, সেদিকে আমাদের কঠোর নজরদারি থাকে।
 
মানবস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর পণ্যের অবৈধ অনুপ্রবেশ, চোরাচালানসহ সীমান্তে নানা অপরাধ দূর করতে কাস্টমসের ভূমিকা কতখানি?
 
বেনাপোল দিয়ে মানবস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর পণ্য নিয়ে আসার কোনো সুযোগ নেই। কেননা খাদ্যপণ্য, বিশেষ করে শিশুখাদ্য আমরা পুঙ্খানুপুঙ্খ পরীক্ষার মাধ্যমে খালাস দিয়ে থাকি। সরকারের আমদানিনীতির বাইরে গিয়ে কোনো পণ্য আমদানি করার সুযোগ নেই এখানে।
 
এবিএন/ফরিদুজ্জামান/জসিম/এফডি

প্রধান শিরোনাম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত