logo
শুক্রবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৭
 

বাজেটে সরকারের রাজনৈতিক অঙ্গীকার নেই

বাজেটে সরকারের রাজনৈতিক অঙ্গীকার নেই

ঢাকা, ০৫ জুলাই, এবিনিউজ : আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) স্থায়ী কমিটির সদস্য। ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা। একই সঙ্গে সফল ব্যবসায়ীও। চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্সের প্রথম প্রেসিডেন্ট, ফেডারেশন অব সাউথ এশিয়ান এক্সচেঞ্জের প্রেসিডেন্টও ছিলেন তিনি। চট্টগ্রাম কলেজ থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন ১৯৬৯ সালে। তারপর লন্ডন থেকে হিসাববিজ্ঞানে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে দেশে ফিরে আসেন। পিপলস ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের চেয়ারমান, সোনালী ব্যাংক লিমিটেডের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, সাধারণ বীমা করপোরেশনের জেনারেল চেয়ারম্যান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের জাতীয় উপদেষ্টা কমিটির সদস্য, এক্সপোর্ট কাউন্সিলের উপদেষ্টা কমিটির সদস্য, শিল্প বিভাগের উপদেষ্টা কমিটির সদস্য, এক্সপোর্ট ক্রেডিট মনিটরিং কমিটির সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি। সম্প্রতি প্রস্তাবিত বাজেটের নানা দিক নিয়ে কথা বলেন তিনি।

আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ লাখ ২৬৬ কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরের মূল বাজেট থেকে ২৬ শতাংশ বেশি। এ বিষয়ে আপনার মতামত কী?

সত্যিকার অর্থে টাকার অংক কোনো বড় ইস্যু নয়। দেশের অর্থনীতি যে পর্যায়ে আছে, যে প্রেক্ষাপটে ৪ লাখ ২৬৬ কোটি টাকার বাজেট দেয়া হয়েছে, সেটিই ইস্যু। যে মূল ভিত্তিগুলোর ওপর দাঁড়িয়ে বাজেট করা হয়, সেগুলোর অবস্থাই নড়বড়ে। আজকে বাজেটের টাকা দিয়ে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ঘাটতি পূরণ করা হচ্ছে। আর্থিক খাতে বিশৃঙ্খল অবস্থা বিরাজ করছে। দ্বিতীয়ত. বিনিয়োগ বাড়ছে না। কারণ দেশে বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ বিরাজ করছে না। উচ্চ প্রবৃদ্ধির জন্য যে পরিমাণ বিনিয়োগ ও শিল্পায়ন প্রয়োজন, তা হচ্ছে না। রফতানি, রেমিট্যান্সপ্রবাহ প্রভৃতি সূচকও নিম্নমুখী। প্রবৃদ্ধির সঙ্গে কর্মসংস্থানের একটা মিল থাকতে হবে। সেটিও দেখা যাচ্ছে না।

এ অবস্থায় আগামী অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি অর্জনের যে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, তা অর্জন করা সম্ভব হবে কি?

প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা পূরণের সব সূচকই এখন নিম্নমুখী। ব্রিটিশ কাউন্সিলের এক জরিপ বলছে, এ দেশে বর্তমানে ৪০ শতাংশ শিক্ষিত তরুণ বেকার। এমনকি বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল যে নট ইন এমপ্লয়মেন্ট এডুকেশন অর ট্রেনিং বা এনইইটি সূচক প্রকাশ করেছে, সেখানে এ দেশের ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সী ৪১ শতাংশ মানুষ এর আওতায় পড়েছে। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, ২০০৫ সালের দিকে এ হার ছিল ৩১ শতাংশ। অর্থনীতি যদি স্বাভাবিক গতিতে থাকত তাহলে সময়ের ব্যবধানে এ হার ১০ থেকে ১৫ শতাংশ কমে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তা হয়নি। বরং এর উল্টোটা ঘটেছে, সূচক এসে দাঁড়িয়েছে ৪১ শতাংশ। সরকারি জরিপগুলোয় বেকারত্বের হার কম দেখানো হয়েছে। কারণ ছদ্ম বেকারত্ব কিংবা আন্ডার এমপ্লয়মেন্টের মতো বিষয় ইকোনমিক ফরমাল সার্ভেতে সম্পৃক্ত করা হয় না। এছাড়া প্রবৃদ্ধির সঙ্গে বিনিয়োগ, আমদানি-রফতানির কোনোটারই মিল খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। কারণ এ মুহূর্তে আমদানি ও রফতানি দুটোই কমে গেছে। প্রবৃদ্ধি হলেও তার হার কমে গেছে। এমনকি জ্বালানি ব্যবহারের পরিমাণও কমে গেছে। ভুলে গেলে চলবে না, জ্বালানি পরিভোগের সঙ্গে উৎপাদনের ইতিবাচক সম্পর্ক রয়েছে। অর্থনীতি সম্প্রসারণ হলে জ্বালানির পরিভোগও বাড়ে। কিন্তু বাংলাদেশে জ্বালানি পরিভোগের পরিমাণ কমে গেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম কমে গেলেও এ দেশে কমেনি। প্রবৃদ্ধির সঙ্গে মানবসম্পদ উন্নয়নের বিষয়ও জড়িত। ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে হলে মানবসম্পদের উন্নয়ন ঘটাতে হবে। মানবসম্পদের উন্নয়নে বিশ্বে আমাদের অবস্থান ১৩৯ নম্বরে। গতবারের চেয়ে আরো পাঁচ ধাপ নেমে গেছি আমরা। শিক্ষার মান বিবেচনায় বিশ্বে আমাদের অবস্থান ১০৫ নম্বরে। এমনকি আইসিটি ডেভেলপমেন্টে আমাদের অবস্থান ৪৫ নম্বরে, পার্শ্ববর্তী দেশ ভুটান বা নেপালেও পেছনে আমরা। মানবসম্পদ উন্নয়ন, শিক্ষা বা কর্মসংস্থানের সূচক সবই নিম্নমুখী। উন্নয়নের যে চিত্র সরকার আমাদের সামনে তুলে ধরছে, তার সঙ্গে এ সূচকগুলোর কোনো মিলই নেই।

এত বড় অংকের বাজেট বাস্তবতার সঙ্গে কতটা সঙ্গতিপূর্ণ?

চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে এডিপি বাস্তবায়ন হয়েছে ৫৫ শতাংশ। বাকি দুই মাসে এডিপির ২০-৩০ শতাংশ ব্যয় হয়ে যাবে— এমনটা তো বাস্তবে সম্ভব নয়। আর তাই যদি হয় তবে এক্ষেত্রে প্রশ্ন থেকে যায়, টাকাগুলো গেল কোথায়? আর্থিক খাত বিশেষ করে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো যে বড় ধরনের ঘাটতির মধ্যে আছে, নিঃসন্দেহে এ অবস্থা অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। কুঋণের পরিমাণও বেড়ে গেছে, এখন প্রায় ১ লাখ কোটি টাকা খেলাপি ঋণ। অর্থনীতির জন্য এটা বোঝা ছাড়া কিছুই না। ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট তাদের রিপোর্টে বলছে, বছরে ৯ থেকে ১০ বিলিয়ন ডলার দেশের বাইরে অবৈধভাবে চলে যাচ্ছে, টাকার হিসাবে তা ৭০ থেকে ৮০ হাজার কোটি। শেয়ারবাজারেও একটা স্থবিরতা বিরাজ করছে। শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের মাধ্যমে মানুষ যে সুবিধা নেবে, সে সুযোগও নেই। ব্যাংকে টাকা রাখার ক্ষেত্রে আবগারি শুল্কহার বাড়ানো হয়েছে। কোনো শুল্ক আইন বা কোনো প্রিন্সিপালের মধ্যেই এটা পড়ে না। আমরা আগেও বলেছি, আবগারি শুল্ক আরোপ করা হয় মদ কিংবা গাঁজার মতো পণ্যের ওপর। অর্থাৎ যেসব খাতকে সরকার নিরুত্সাহিত করতে চায়, সেখানে এ শুল্ক আরোপ করা হয়। সরকার উল্টো আবগারি শুল্কের মাধ্যমে ব্যাংকে টাকা রাখতে জনগণকে নিরুত্সাহিত করছে। এতে মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্তের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হবে। মানুষের আয়ের থেকে মূল্যস্ফীতি বাদ দিলে প্রকৃত আয় কমে যাবে প্রায় ৮ শতাংশ। তার ওপর ভ্যাট, আবগারি শুল্কের বোঝা চেপেছে, তার সঙ্গে বেড়েছে গ্যাস-বিদ্যুতের দাম। সব মিলিয়েই একটা বাড়তি চাপ সৃষ্টি হবে। এর প্রভাবে উৎপাদন ব্যয় ও পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাবে। কমবে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা। মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে গেলে দীর্ঘমেয়াদে তা জোগানকে প্রভাবিত করবে।

সরকার থেকে বলা হচ্ছে, মূল্যস্ফীতি এখন ৫ দশমিক ৩৮ শতাংশ, অর্থাৎ সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে। এটি কীভাবে বিশ্লেষণ করবেন?

মূল্যস্ফীতি যেখানেই থাকুক, মানুষের প্রকৃত আয় যদি কমে যায় তাহলে নিঃসন্দেহে বাড়তি চাপ সৃষ্টি হবে। এর মানে হলো, জনগণের প্রকৃত আয় সামনে আরো কমে যাবে। সরকার যে পরিসংখ্যান দিচ্ছে, তা তথ্যবিভ্রাটে ভরপুর। সরকার কোনো আগপাছ না ভেবেই জিডিপি, কৃষি, সেবা খাতে প্রবৃদ্ধি বলে দিচ্ছে। সত্যিকার অর্থে বাস্তবতা একেবারেই ভিন্ন। তারা বড় ক্ষতি করছে অর্থনীতিতে একটা ভুল ইম্প্রেশন সৃষ্টি করে। উন্নয়নের কথা বলে অর্থনীতির প্রত্যেক ক্ষেত্রে যে ভুল তথ্য তারা দিচ্ছে, দীর্ঘমেয়াদে এর প্রভাব হবে মারাত্মক। তথ্যবিভ্রাটের কারণে জনগণের সামনে বাস্তব চিত্র তুলে ধরা হচ্ছে না। সহজ হিসাব, দেশের অর্থনীতি ভালো করলে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমতে পারে না, বাড়বে। কাজেই এটা সুস্পষ্ট, অর্থনীতি ভালো করছে না। অর্থনীতি ভালো করলে যেখানে কর্মসংস্থান বাড়ার কথা ছিল, সেখানে উল্টো হয়েছে। যেখানে গড়ে ১৪ লাখ লোকের চাকরি হতো প্রতি বছর, সেখানে তা অর্ধেকে নেমে এসেছে। কর্মসংস্থানের সুযোগ থাকলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মানুষ সাত সমুদ্র পাড়ি দিত না। বিভিন্ন জরিপ বলছে, অভিবাসীদের এক বিরাট অংশ ইউরোপমুখী হচ্ছে, যেখানে উল্লেখযোগ্য অংশই হলো বাংলাদেশী। প্রবৃদ্ধি বাড়া মানে বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি হওয়া। আর তাই যদি হবে বাংলাদেশ থেকে ৭০-৮০ হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়ে যেত না। আমার প্রশ্ন, বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ হচ্ছে না কেন? ৭ অংকের প্রবৃদ্ধিতে আমরা অভ্যস্ত হয়েছি বহু আগেই। সে হিসাবে আমাদের তো এখন দুই অংকের প্রবৃদ্ধি হওয়ার কথা। দুর্ভাগ্যজনক,  প্রবৃদ্ধি এখনো ৭ শতাংশের আশপাশে ঘোরাফেরা করছে।

এবারের বাজেটে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় ভ্যাট। এ সম্পর্কে আপনার পর্যবেক্ষণ কী?

ভ্যাট হচ্ছে কনজাম্পশন ট্যাক্স। আপনি যে পরিমাণ ভোগ করবেন, সে অনুযায়ী ভ্যাট দেবেন। তবে কথা হলো, ভ্যাটের আওতায় কারা পড়ছে। ধনী, মধ্যবিত্ত বা গরিব সবাই এর আওতায় পড়ে। ভ্যাট প্রয়োগে এ বিষয়গুলো মাথায় রাখতে হবে। যখন নিম্ন আয়ের মানুষ, শিশু কিংবা পিছিয়ে থাকা মানুষের ভোগের বিষয় আসে তখন ভ্যাট ছাড় দিতে হয়। ভ্যাট প্রবর্তন করতে হলে বুক কিপিংয়ের যে প্রক্রিয়া আছে, তা পূর্ণ করতে হবে যদি পূর্ণাঙ্গ ভ্যাট চালু করতে চান। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে গরিব ও নিম্নমধ্যবিত্তরা। এ সুযোগে যেসব পণ্য ভ্যাটের বাইরে রয়েছে, সেগুলোরও দাম বাড়িয়ে দেয়া হবে। এটা হলো প্রবণতা। সরকার বাজারটা বুঝতে পারছে না। বাজার বোঝার চেষ্টা করছে না। সরকার রাজস্ব বাড়াতে সবচেয়ে সহজ অপশনটা বেছে নিয়েছে। এটি সবচেয়ে ক্ষতিকর। কেন তারা এটা বেছে নিয়েছে? কারণ প্রকৃত অর্থনীতি  পারফর্ম করছে না। ফলে তারা সাধারণ মানুষের ওপর করভার চাপিয়ে দিচ্ছে। সরকারকে চেষ্টা করতে হবে রিয়েল ইকোনমি চাঙ্গা করতে। তার জন্য বিনিয়োগ কীভাবে বাড়াতে হবে, বিনিয়োগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যে বিষয়গুলো আছে, সেগুলো কীভাবে বাড়ানো যাবে— সেদিকে সচেষ্ট হতে হবে।

ব্যবসায়ীদের কথা অর্থমন্ত্রী রাখেননি বলে অভিযোগ রয়েছে। আপনি কী মনে করেন?

যেহেতু প্রকৃত অর্থনীতি পারফর্ম করতে পারছে না, তাই সরকার ফেক ইকোনমির দিকে যাচ্ছে, একটা এক্সপ্লয়টারি ইকোনমির দিকে যাচ্ছে। এটা হচ্ছে প্রেডিটর ইকোনমি, যেখানে একটা বড় মাছ ছোট মাছকে খেয়ে ফেলে। মানবসম্পদ উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য প্রভৃতি খাতে বিনিয়োগ না বাড়িয়ে সরকার মেগা প্রজেক্ট বাস্তবায়নে মনোযোগ দিচ্ছে। সেটিও সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করতে পারছে না। ব্যয় বাড়ছে, বাস্তবায়নে কালক্ষেপণ ঘটছে। স্বৈরশাসকরা এটি করে থাকেন। তারা জনগণকে উন্নয়ন দেখাতে অবকাঠামো তৈরি করেন। কিন্তু সেসব উন্নয়ন হয় অন্তঃসারশূন্য। পদ্মা সেতুর নির্মাণ ব্যয় ৮ হাজার কোটি থেকে ২৮ হাজার কোটি টাকায় এসে দাঁড়িয়েছে। সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশের বিনিয়োগ বাড়ছে, অফশোর ব্যাংকিংয়ের অবস্থাও তা-ই। বিদেশে সম্পদ কিনছে বাংলাদেশীরা। তারা দুর্নীতির মাধ্যমে এ অর্থ নিয়ে গেছে। এক্সপ্লয়টারি ইকোনমি দেশকে গভীর সংকটের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। বাজেট ঘাটতি মেটাতে সরকার যে বিদেশী ঋণ-সহায়তা প্রত্যাশা করছে, তা আসবে না। অতীত অভিজ্ঞতা তা-ই বলে। গতবারের চেয়ে চার-পাঁচ গুণ বিদেশী সহায়তা আসবে কোত্থেকে। সরকার বাজেটের হিসাব মেলাতে এটি করেছে। তারা যদি স্থানীয় ব্যাংক থেকে ঋণ নেয়, তাহলে এর একটা ক্রাউডিং ইফেক্ট পড়বে অর্থনীতিতে।

বাজেটে সরকারের কোনো রাজনৈতিক অঙ্গীকার নেই। সরকার কীভাবে ব্যাংকিং খাতের সংস্কার করবে, তার কোনো কথা বাজেটে নেই। বছর দুই আগে ব্যাংকিং কমিশনের কথা বলেছিলেন অর্থমন্ত্রী, সেটাও বাস্তবায়ন করেননি। পাচার হওয়া অর্থ কীভাবে ফেরত আনা হবে, তার কোনো উল্লেখ বাজেটে নেই। শেয়ারবাজারে গতি আনার কথাও বাজেটে নেই। ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি ও শেয়ারবাজারের কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িতদের শাস্তির কথাও নেই। প্রাতিষ্ঠানিক রিফর্ম নিয়ে তাদের কোনো চিন্তা-ভাবনাই নেই। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে যতগুলো রিফর্ম হয়েছে, সেগুলো বিএনপি করেছে। ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিফর্ম বলেন, ফিন্যান্সিয়াল রিফর্ম বলেন সব বিএনপির পক্ষ থেকে করা হয়েছে। বরং রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় কীভাবে একটি দেশে লুটপাট করা যায়, তার পারফেক্ট উদাহরণ সরকার সৃষ্টি করেছে।

সরকারের ব্যয় সম্পর্কে আপনার পর্যবেক্ষণ কী?

সরকারি চাকরি থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় কীভাবে নিয়োগ দেয়া হচ্ছে, তা আমরা দেখতে পাচ্ছি। যেখানে শিক্ষাই নেই, সেখানে মানবসম্পদ উন্নয়ন হবে কীভাবে! পিছিয়ে পড়া মানুষকে উঠিয়ে আনার ব্যাপারে সরকারের কোনো প্রতিশ্রুতি নেই, ওয়েলফেয়ার স্টেট গড়ে তোলার কোনো কমিটমেন্ট নেই। বাজেটে সোস্যাল সেফটি নেটের কথা আছে কিন্তু সত্যিকার অর্থে একটা ওয়েলফেয়ার স্টেটের দিকে বাংলাদেশকে যে পথ পাড়ি দিতে হবে, তার কোনো দিকনির্দেশনা নেই। দেশে আয়বৈষম্য প্রকট। বিএনপি ভিশন ২০৩০ যে দিয়েছি, সেখানে মানবসম্পদ উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশকে ওয়েলফেয়ার স্টেটে নিয়ে যাওয়ার পথনির্দেশনা রয়েছে। সামাজিক নিরাপত্তার নামে এসব ছোটখাটো পদক্ষেপের মাধ্যমে আয়বৈষম্য কমানো সম্ভব নয়। আমরা পরিষ্কারভাবে বলেছি, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ানো হবে। বাংলাদেশের আয়বৈষম্য কমিয়ে আনতে উদ্যোগ নেয়া হবে। বাজেটে তার লেশমাত্র নেই।

সরকারের বিদ্যুৎ ও গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধিকে কোন দৃষ্টিতে দেখেন?

ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এত দিন থাকার কথা নয়। রেন্টালের যে নীতিমালা, সেটা এক্সপ্লয়টারি। বিদ্যুতের দাম বাড়াতে বাড়াতে সরকার কোথায় যেতে চাইছে? এ টাকাগুলো যাচ্ছে রেন্টাল, কুইক রেন্টালের মালিকদের পকেটে। এদের অধিকাংশই সরকারি দলের লোক। সরকার চুক্তি করেছে বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ থাকলেও অর্থ দেয়া হবে। জনগণের অর্থ লুটপাট করা হচ্ছে। সরকার স্পষ্ট করে বলছেও না কত বছর থাকবে এ ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র।

বাজেটের আর দুর্বল দিক কি? কি?

অনেক দিক আছে। সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য একটা নির্বাচিত সরকার থাকতে হবে। সরকার আজকে বেপরোয়া কী কারণে? সরকার নির্বাচিত নয় বলেই তারা এভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তাদের বৈধতা নেই। একটা অনির্বাচিত সরকার কখনই সুশাসন দেবে না। তারা টিকে থাকার জন্য একটার পর একটা অন্যায় করে যাবে।

প্রধান শিরোনাম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত