logo
শুক্রবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৭
 
  • হোম
  • সাক্ষাৎকার
  • প্রস্তাবিত বাজেট কল্যাণমুখী, সমতাভিত্তিক এমনকি অন্তর্ভুক্তিমূলকও হয়নি : ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ

প্রস্তাবিত বাজেট কল্যাণমুখী, সমতাভিত্তিক এমনকি অন্তর্ভুক্তিমূলকও হয়নি : ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ

প্রস্তাবিত বাজেট কল্যাণমুখী, সমতাভিত্তিক এমনকি অন্তর্ভুক্তিমূলকও হয়নি : ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ
ঢাকা, ২০ জুন, এবিনিউজ : বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর, বর্তমানে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস স্কুলের অধ্যাপক। দায়িত্ব পালন করেছেন পিকেএসএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, বার্ডের মহাপরিচালক ও এনজিও অ্যাফেয়ার্স ব্যুরোর মহাপরিচালক হিসেবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্নের পর কানাডার ম্যাকমাস্টার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে পিএইচডি সম্পন্ন করেন। কর্মজীবন শুরু করেন পশ্চিম পাকিস্তানের প্ল্যানিং বিভাগের কর্মকর্তা হিসেবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে শিক্ষকতাও করেছেন। পরবর্তীতে সিএসপি অফিসার হিসেবে সরকারি চাকরিতে যোগ দেন। তার আগ্রহের ক্ষেত্র সামষ্টিক অর্থনীতি, উন্নয়ন অর্থনীতি, পল্লী উন্নয়ন, ক্ষুদ্রঋণ, মানবসম্পদ উন্নয়নসহ কেন্দ্রীয় ও বাণিজ্যিক ব্যাংক ব্যবস্থাপনা প্রভৃতি। আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের নানা দিক নিয়ে সম্প্রতি একটি দৈনিকে সঙ্গে কথা হয় তার। তার হুবহু তুলে ধরা হলো-
 
বাংলাদেশের মতো দেশে বাজেটের গুরুত্ব কতখানি?
 
বাজেট প্রতিটি সরকারের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দলিল। এটি প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে সবাইকে প্রভাবিত করে। বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোয় বাজেটের গুরুত্ব অপরিসীম, যেখানে সরকার ও সরকারি খাতের একটা বিশাল অবদান থাকে। বেশির ভাগ উন্নত দেশ ব্যক্তিখাতের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় সরকার বাজেটের ওপর অতটা নির্ভরশীল নয়। কিন্তু উন্নয়নশীল দেশগুলোর সরকার বাজেটের ওপর অনেকখানি নির্ভরশীল। এদিক থেকে বাংলাদেশও ব্যতিক্রম নয়। আমাদের দেশে সরকারের সক্ষমতা, দক্ষতা ও উন্নয়ন কৌশলগুলো বাজেটের মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়। পাশাপাশি ব্যক্তিখাতকে উত্সাহিতকরণে সরকারের বিদ্যমান কিছু দায়িত্বেরও এর মাধ্যমে প্রতিফলন ঘটে। তাই বাংলাদেশে বাজেটের গুরুত্ব অনেক।
 
২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট কেমন দেখলেন?
 
এবারের প্রস্তাবিত বাজেট ইনক্রিমেন্টাল। চলতি অর্থবছরের বাজেটের চেয়ে প্রস্তাবিত বাজেটের আকার অস্বাভাবিকভাবে বাড়িয়ে দেখানো হয়েছে। মুশকিল হলো, এত বড় বাজেট বাস্তবায়ন করা কঠিন; অতীতের অভিজ্ঞতা দেখলেই সেটা বোঝা যায়। বড় বাজেটের অসুবিধা, এটা বাস্তবায়নে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আহরণের একটা বিষয় থাকে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব আহরণ নিশ্চিতে অনেক সময় বিভিন্নভাবে কর-ভ্যাট-শুল্ক আরোপ করা হয়। কিন্তু সুবিবেচনাপ্রসূতভাবে কর, শুল্ক, ভ্যাট আরোপ করা না হলে জনসাধারণের কষ্টের শেষ থাকে না। এবার তাই হয়েছে। কাজেই ভবিষ্যতে জনসাধারণের দুর্ভোগের অন্ত থাকবে না।
 
প্রস্তাবিত বাজেটের সবল দিক কোনগুলো বলে মনে করেন?
 
এবারের বাজেটের থিম হলো, ‘উন্নয়ন মহাসড়কে বাংলাদেশ: সময় এখন আমাদের’। বাংলাদেশকে সামনে নিয়ে যেতে নীতিনির্ধারকরা এই বাজেটটি দিয়ে সংযুক্ত করতে চাইছে। সুতরাং এটা একটা বার্তা যে, দেশ নিম্নমধ্যম আয়ে উন্নীত হয়েছে, ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ে পৌঁছবে এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশে রূপান্তরিত হবে। বলা যায়, বাংলাদেশের দীর্ঘযাত্রার রোডম্যাপ এবারের বাজেটে প্রতিফলিত হয়েছে। এটি একটি ইতিবাচক দিক।
 
প্রস্তাবিত বাজেটে ভৌত অবকাঠামোর ওপর বেশি জোর দেয়া হয়েছে। বিশেষ করে সড়ক-মহাসড়ক, রেল খাত এবং গ্যাস-বিদ্যুত্সহ জ্বালানি খাতের ভৌত অবকাঠামো উন্নয়নে রেল খাতের উন্নয়নের ওপর মনোযোগ দেয়া হয়েছে। এটা ভালো দিক। প্রস্তাবিত বাজেটের আরেকটি সবল দিক, এবার গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানের জন্য বিশেষ একটা নজর দেয়া হয়েছে। এরই মধ্যে বাপেক্সের কিছুটা সক্ষমতা তৈরি হয়েছে। কাজেই এখন তারা নিজেরাই গ্যাস অনুসন্ধান করতে পারবে। এটাও ভালো দিক।
 
ভ্যাট আগে প্যাকেজ হিসেবে নেয়া হতো। এটা সর্বক্ষেত্রে সমতা আনার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধক। মূলত এ দৃষ্টিকোণ থেকে ২০১২ সালে সরকার ভ্যাট আইন প্রণয়ন করে। কিন্তু বিভিন্ন মহলের আপত্তির কারণে এ আইন বাস্তবায়ন করা যাচ্ছিল না। এবার ভ্যাট আইন বাস্তবায়নের যে উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে, এটা সাহসী পদক্ষেপ। এখানে ভ্যাটের হার নিয়ে প্রশ্ন আছে। কিন্তু সার্বিকভাবে আইনটি বাস্তবায়নের উদ্যোগটি প্রশংসারযোগ্য। ভ্যাটের ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের দিক থেকে কিছু যুক্তি আছে, আবার সরকারের দিক থেকেও কিছু যুক্তি রয়েছে। তবে আমি মনে করি, ভ্যাট কিছুটা নমনীয় পর্যায়ে রাখা দরকার।
 
ব্যক্তিখাত বিশেষ করে পিপিপিকে উত্সাহিত করার জন্য এবার আমদানি পর্যায়ে কিছু ক্ষেত্রে শুল্ক রেয়াত দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। এটা ইতিবাচক। তবে আমার মনে হয়, এবার অর্থমন্ত্রীর নজরটা বড় বিনিয়োগ, বড় ব্যয়ের ওপর। প্রস্তাবিত বাজেটের সঙ্গে এটা অবশ্য সুনির্দিষ্টভাবে মিলছে। এজন্য বড় বড় শিল্প-কারখানা, পিপিপির ক্ষেত্রে আমদানি পর্যায়ে বেশকিছু ক্ষেত্রে শুল্ক ছাড় দেয়া হয়েছে। এটা হয়তো বড় উদ্যোগের ক্ষেত্রে আমাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে। সবমিলিয়ে এগুলো বাজেটের সবল দিক।
 
বাজেটের দুর্বল দিক কোনগুলো?
 
এখনো আমাদের কর্মদক্ষতা (সরকার ও ব্যক্তিখাতের) কাঙ্ক্ষিত হারে বাড়েনি। এক্ষেত্রে সরকারের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা একেবারেই নাজুক। বিশেষ করে বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক সংস্থা— বাংলাদেশ ব্যাংক, বিএসইসি, বিটিআরসি, বিইআরসি, বিডা প্রভৃতি প্রতিষ্ঠানের দক্ষতা যথেষ্ট বৃদ্ধি পায়নি। দক্ষতার দিক থেকে উন্নত পর্যায়ে নেয়া না গেলে বাজেট বাস্তবায়ন একটু কঠিন হবে। অর্থাৎ প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারে যে জোর দেয়া দরকার ছিল, সেটা দেয়া হয়নি। আমি মনে করি, এটাই প্রস্তাবিত বাজেটের একটি দুর্বলতা।
 
বলা হচ্ছে, উন্নয়নের মহাসড়কে বাংলাদেশ। কিন্তু কথা হলো, মহাসড়কে উঠতে হলে তো প্রথমে প্রস্তুতি দরকার। সেই প্রস্তুতি আছে কি? মহাসড়কে উঠতে হলে সুদক্ষ মানবসম্পদ লাগবে। আর মহাসড়ক কেবল দেশের চৌহদ্দিতে সীমাবদ্ধ নয়, এটা বৈশ্বিকভাবেও সংযুক্ত হবে। সুতরাং মানবসম্পদ উন্নয়ন না হওয়া বা করা আমাদের আরেকটি দুর্বলতা। বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল থেকে উন্নত দেশে রূপান্তরের একটি পূর্বশর্ত হলো মাথাপিছু আয় আরো বাড়াতে হবে, আরেকটি হলো, দক্ষ মানবসম্পদ। এই দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে তেমন প্রচেষ্টা আমি এ বাজেটে দেখিনি। বিশেষ করে কারিগরি শিক্ষা, বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও চাকরিমুখী শিক্ষার বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেখা হয়নি।
 
প্রস্তাবিত বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে বিশেষ নজর নেই। আলোচ্য খাতে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ৫ দশমিক ১ শতাংশ মাত্র। অত্যন্ত কম বরাদ্দ। আমাদের দেশে স্বাস্থ্যে মাথাপিছু খরচ করা হচ্ছে মাত্র ২০ ডলারের (১ হাজার ৬০০ টাকা) মতো। অথচ পৃথিবীর অনেক দরিদ্র দেশেও এ খাতে খরচ করা হচ্ছে ৫০-৬০ ডলার। সুতরাং ২০ ডলার থেকে সেটা ৬০ ডলারে উন্নীত করতে হবে। শিক্ষা খাতেও একই অবস্থা। জিডিপির ২-৩ শতাংশের বেশি আমরা শিক্ষা-স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় করি না। কিন্তু কোরিয়া, থাইল্যান্ড প্রভৃতি দেশে এ দুই খাতে অনেক বেশি বরাদ্দ দেয়া হয়। বিশেষ করে কোরিয়া এক্ষেত্রে একটি দৃষ্টান্ত। দেশটি জিডিপির প্রায় ৮ শতাংশ শিক্ষা-স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় করে। দক্ষ মানবসম্পদ বাড়াতে হলে আমাদের দেশেও আলোচ্য দুই খাতে ব্যয় বাড়াতে হবে। কিন্তু এবারো তা করা হয়নি।
 
প্রস্তাবিত বাজেটে কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়টিও উঠে আসেনি। ২০১০ সাল থেকে আমাদের লক্ষণীয় প্রবৃদ্ধি হচ্ছে ঠিকই, কিন্তু তার সঙ্গে সমন্বয় রেখে কর্মসংস্থান বাড়ছে না। আমাদের দেশে ১ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে দশমিক ২ শতাংশের বেশি কর্মসংস্থান হয় না। বলা যায়, পাঁচ ভাগের এক ভাগও হয় না। এক্ষেত্রে অন্তত দশমিক ৫ শতাংশ কর্মসংস্থান হওয়া উচিত। কর্মসংস্থানে দৃষ্টিপাত না করায় ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগেও বাজেটে বিশেষ কোনো নজর দেয়া হয়নি। অথচ মূলত এখানেই আমাদের বেশি কর্মসংস্থান হবে। বাংলাদেশের মতো দেশে ইন্ডাস্ট্রি বা ম্যানুফ্যাকচারিং সেক্টরটা বেশি উন্নয়ন করতে হবে। আমরা এখন সেবা খাতের ওপর বেশি নির্ভরশীল। এ খাতের অবদান ৫২ শতাংশেরও বেশি। জনবহুল একটা দেশে শিল্প বাদে বাণিজ্য বা সেবা খাত দিয়ে বেশি দূর যাওয়া যায় কিনা, সেটা নিয়ে সন্দেহ আছে। বাজেটে এ বিষয়টিও আসেনি। সার্বিকভাবে এগুলো হলো এবারের বাজেটের দুর্বলতা।
 
আমাদের বাজেট প্রণয়ন প্রক্রিয়া সম্পর্কে কিছু বলুন...
 
আমাদের বাজেটটা যেভাবে প্রণয়ন করা হয়, তা ত্রুটিপূর্ণ। প্রথম দেখা হয়, কোন কোন খাতে ব্যয় করা হবে এবং তার পর খাত অনুযায়ী বরাদ্দ দেয়া হয়। আবার বাজেটের কাজ শুরু হয় ফেব্রুয়ারি-মার্চের দিকে। অথচ এটা শুরু হওয়া উচিত একেবারে ডিসেম্বর-জানুয়ারি থেকে। কেননা গত বছর কর্মসংস্থান কত হয়েছে, প্রবৃদ্ধি কত হয়েছে, কোন কোন খাতের অগ্রগতি ভালো হয়েছে, কোন কোন খাতের কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হয়নি, তার যথাযথ পর্যালোচনা হওয়া জরুরি। আরেকটি বিষয়, আগে থেকে বলা উচিত কোন কোন খাতে কর, শুল্ক, ভ্যাট আরোপ করা হবে। এতে জনসাধারণ একটা ধারণা পায় । কিন্তু এটা কখনো হয় না। বরাবরই ফেব্রুয়ারি-মার্চের দিকে বাজেট প্রক্রিয়া শুরু হয়। চেম্বার বডিগুলো এবং কিছু গোষ্ঠী নিজস্ব গণ্ডির ভেতরে থেকে মতামত দেয়। সার্বিকভাবে সাধারণ মানুষের জীবন-সংক্রান্ত মতামত তেমন আসেও না, এলে সরকার গ্রহণও করে না। ফলে অংশীদারিত্বমূলক বাজেট প্রণীত হয় না।
 
কর-জিডিপি অনুপাত অনেক কম। এ সম্পর্কে আপনার কী মত?
 
আমাদের কর-জিডিপি অনুপাত ১০ শতাংশেরও কম। এখান থেকে প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা, প্রতিরক্ষা, ডেট সার্ভিস লায়াবিলিটিজ প্রভৃতি খাতেই ৬ শতাংশর মতো চলে যায়। আর থাকে সাড়ে ৩ থেকে ৪ শতাংশ। সেটা দিয়ে কীভাবে ভৌত অবকাঠামো, সামাজিক উন্নয়ন, সামাজিক সুরক্ষা ও অন্যান্য খাতে কাঙ্ক্ষিত অর্থ বরাদ্দ দেয়া সম্ভব হবে? অর্থাৎ অর্থমন্ত্রীর জন্য রাজস্ব পরিসর (ফিসক্যাল স্পেস) অত্যন্ত কম। এজন্য উন্নয়নসহযোগীদের ওপর বেশি নির্ভর করা হয় অথবা অভ্যন্তরীণ উত্স থেকে ঋণ নেয়া হয়। এমন হলে ঘাটতি বাড়তেই থাকবে। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হবে না। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে প্রথমে দরকার, কর-জিডিপি অনুপাত বাড়ানো। এক্ষেত্রে বৈশ্বিক স্ট্যান্ডার্ড ১৩-১৪ শতাংশ। কাজেই আমাদের দেশে এটা ন্যূনতম ১৩ শতাংশ করতে হবে।
 
কর-জিডিপি অনুপাত বাড়ানোর কথা বলে সরকার ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন করতে চাইছে। এটাকে কীভাবে দেখেন?
 
নিশ্চয়ই কর-জিডিপি অনুপাত বাড়ানোর বিকল্প নেই। তবে আমাদের মতো দেশের উচিত, প্রত্যক্ষ করের ওপর বেশি নির্ভর করা। সবাই বলছে, এ বাজেট সমতাভিত্তিক। আমার মতে, প্রস্তাবিত  বাজেট মোটেই সমতাভিত্তিক হয়নি। ভ্যাট তো নিবর্তনমূলক (রিগ্রেসিভ) কর। এটা প্রগতিশীল (প্রগ্রেসিভ) কর নয়। সুতরাং অর্থমন্ত্রীর নজর দেয়া উচিত প্রগতিশীল কর বা প্রত্যক্ষ করের ওপর। এক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয়ে মনোযোগ দিতে হবে। এক. প্রত্যক্ষ কর পরিশোধকারী ব্যক্তির সংখ্যা বাড়ানো। সরকার জানে, কাদের কাদের টিআইএন আছে। কাজেই সেটা তো মোটেই কঠিন নয়। দুই. করপোরেট কর আরো ন্যায্য করা। তিন. ঢাকার বাইরে বিদ্যমান শিল্প-কারখানা, ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানগুলোকে করের আওতায় আনা। মোট কথা হলো, করজাল বাড়িয়ে প্রত্যক্ষ কর আহরণের ওপর বেশি জোর দিতে হবে, ভ্যাটের ওপর নয়। দুর্ভাগ্যজনক হলো, ভ্যাটের ওপর বেশি জোর দেয়া হচ্ছে। এটি আধুনিক কর হলেও এর চূড়ান্ত চাপটা যায় ভোক্তাদের ওপর। কাজেই এক্ষেত্রে ন্যায্যতা নীতি অনুসরণ জরুরি।
 
ভ্যাটের ক্ষেত্রে ভয়ের ব্যাপার হলো, প্রতিষ্ঠানগুলো যথাযথ তথ্য দেবে না। তার চেয়েও বড় কথা, তথ্য আদায়ে বিপুল জনবল লাগবে। সেটা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নেই। আবার যখন রেকর্ড পাবে না, তখন কর কর্মকর্তাদের সুযোগ হবে ডিসক্রিয়েশনারি পাওয়ার প্রয়োগ করার। এ বিষয়টি হবে সবচেয়ে মারাত্মক। তারা জিজ্ঞাসা করবে, রেকর্ড কোথায়, কোত্থেকে আমদানি করা হয়েছে, কার কাছে বিক্রি করা হয়েছে, কোন রিটেইল প্রতিষ্ঠানে পণ্য দেয়া হয়েছে বা কম দামে বিক্রি করে বেশি দামে দেখাবে কিংবা এর উল্টোটা হবে— এসব বিষয় জটিলতা সৃষ্টি করবে। সুতরাং ব্যবস্থা উন্নয়ন না করে চট করে পুরোপুরিভাবে সবার জন্য ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ ঠিক হয়নি।
 
রাজস্ব আদায়ে যে কৌশল নেয়া হচ্ছে, সেটা সফল হবে না। করজাল বাড়ানো, মফস্বলে যাওয়া এবং সার্বিকভাবে মূল্যায়ন করতে হলে সময় দরকার। এক্ষেত্রে এনবিআরের দক্ষতা আরো বাড়ানো প্রয়োজন। এসবের ব্যাপারে উদ্যোগ নিতে হবে। কিন্তু তা না করে যা আছে, তা নিয়েই ভ্যাট আইন বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাই এর সর্বব্যাপী প্রভাব এড়ানো কঠিন হবে।
 
লক্ষণীয়, যেসব পণ্যে ভ্যাট অব্যাহতি দেয়া হয়েছে, তার মধ্যে কিছু খাদ্যপণ্য রয়েছে। আবার এর মধ্যে এমন কিছু পণ্য আছে, যেগুলোর ব্যবহার কদাচিৎ। খাদ্যের মধ্যে কাঁচা খাদ্যের ওপর বেশি ভ্যাট অব্যাহতি দেয়া হয়েছে, প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্যে নয়। মানুষ তো শুধু কাঁচা খাদ্য খায় না, অন্য অনেক খাদ্য পরিভোগ করে। আবার ভ্যাটের হার বাড়ায় অনেক সেবা যেমন— গ্যাস, বিদ্যুতের দাম বাড়বে। এতে ভুগবে সাধারণ মানুষ। সুতরাং জীবনযাত্রার ওপর ভ্যাটের সর্বব্যাপী প্রভাব পড়বে। সেদিক থেকে এবারের বাজেট কল্যাণমুখী, সমতাভিত্তিক এমনকি অন্তর্ভুক্তিমূলকও হয়নি।
 
অন্তর্ভুক্তিমূলক কেন নয়?
 
এ বাজেটে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই), নারী, পিছিয়ে পড়া চরাঞ্চলগুলো প্রভৃতি ক্ষেত্রে বিশেষ কোনো কথাবার্তা নেই। তাহলে অন্তর্ভুক্তিমূলক কীভাবে হবে? হঠাৎ করে ব্যাংক আমানতের ওপর আবগারি শুল্ক বাড়িয়ে দেয়া হলো। এক্ষেত্রে পুরো আবগারি শুল্ক উঠিয়ে দেয়া উচিত। সবচেয়ে বড় কথা, এটা ব্যাংকিংয়ে অন্তর্ভুক্তি বাড়ানোরও পরিপন্থী।
 
বাজেটে স্বচ্ছতার ঘাটতি আছে কি?
 
বেশ কয়েক বছর ধরে বাজেটে কর বৃদ্ধি করা হচ্ছে। আলাদাভাবে এ সম্পর্কে সুস্পষ্ট কোনো তথ্য বা সারণি দেখিনি। অনেক সময় এসআরও জারি করেও বিভিন্ন খাতে কর বাড়ানো হয়। গণতান্ত্রিক দেশের নিয়ম হলো, কোনো করই জনপ্রতিনিধিদের অনুমোদন ছাড়া আরোপ করা যাবে না। অথচ আমাদের দেশে আলোচ্য নিয়ম অনুসরণ করা হচ্ছে না। অর্থবিলও এজন্য যে, জনপ্রতিনিধিদের অনুমোদন ছাড়া এখান থেকে এক পয়সাও খরচ করা যাবে না। তাহলে এসআরও জারি করে কীভাবে কর বাড়ানো-কমানো যাবে। তার মানে বিষয়টি অস্বচ্ছ। নতুন কর বসানো বা বৃদ্ধি করতে হলে সংসদের অনুমোদন লাগবে। এবার কোনো সারসংক্ষেপ খুঁজে পাওয়া যাবে না, যেখানে নতুন কর বসানোর কথা আছে। কিন্তু হিসাব করলে দেখা যাবে, কর বাড়ানো হয়েছে। এটা তো ঠিক নয়।
 
সামাজিক সুরক্ষা খাতে এবারের বরাদ্দ পর্যাপ্ত বলে মনে করেন কি?
 
সামাজিক সুরক্ষা খাতের বরাদ্দের একটি বড় অংশ ব্যয় হবে পেনশেনভোগীদের জন্য। অর্থাৎ যারা এরই মধ্যে সুরক্ষিত, তাদের জন্য। এখানে দরকার বেকার, বয়স্ক, শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধকতার শিকার মানুষের জন্য আলাদাভাবে বরাদ্দের ব্যবস্থা করা। শুধু বয়স্ক ভাতা দিয়ে হবে না। বরং কোনো পরিবারে শারীরিকভাবে অক্ষম সদস্য থাকলে করের রেয়াত কী হবে, সেটাও বলা উচিত; তবেই বাজেট সমতাভিত্তিক বলা হয়। সার্বিকভাবে বলা যায়, সামাজিক খাতে যে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে তা অপর্যাপ্ত। এখানে একটা শুভঙ্করের ফাঁকি রয়েছে। আবার বয়স্ক ভাতার হারও অপ্রতুল। অনেক ক্ষেত্রে সেটাও সঠিক ব্যক্তির কাছে পৌঁছে না। সার্বিকভাবে সামাজিক সুরক্ষার আওতাও বাড়ানো দরকার।
 
বাজটে ঘাটতি কীভাবে মেটানো হবে?
 
ঘাটতি মেটাতে সরকারের একটি উত্স অভ্যন্তরীণ ঋণ। এর মধ্যে সঞ্চয়পত্র থেকে বেশি অর্থ সংগ্রহ করা হচ্ছে। এবার বলা হচ্ছে, সঞ্চয়পত্রে সুদের হার কমানো হবে। তাহলে ঋণ আসবে কোত্থেকে? আবার জাতীয় সঞ্চয় কমে গেলে তখন কি হবে? নিশ্চয়ই বিদেশী উৎসের ওপর সরকারের নির্ভরশীলতা বাড়বে। প্রস্তাবিত বাজেটে বলা হয়েছে, একটি বড় অংকের অর্থ বাইরের উত্স থেকে আসবে, যা গতবারের চেয়ে প্রায় তিন গুণ বেশি। বিদেশের ওপর এ নির্ভরশীলতা মঙ্গলজনক নয়। একটি বড় শঙ্কার কারণ ঋণের যথাযথ ব্যবহার না হওয়া। দেখা যায়, এডিপি বাস্তবায়ন বা কিংবা কোনো বড় প্রকল্প বাস্তবায়নে আমাদের বহুগুণ ব্যয় বাড়ে। ফলে এর একটা চাপ পড়ে অর্থায়নের ওপর। সবচেয়ে খারাপ, বাইরে থেকে সাপ্লায়ার্স ক্রেডিট নেয়া হচ্ছে। এ ঋণ নেয়ার মাধ্যমে আমরা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ক্রমেই ঋণগ্রস্ত করে ফেলছি।
 
রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক খাতে মূলধন পুনর্ভরণে এবারো ২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে। এটাকে কীভাবে দেখেন?
 
এটা একদম অযৌক্তিক। রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো করা হয়েছিল এ উদ্দেশ্য থেকে যে, ব্যাংকগুলো লাভ করবে, যথাযথ সেবা দেবে। উপরন্তু কিছু অর্থ সরকারকে দেবে। এখন হচ্ছে উল্টোটা। জনগণের টাকা সরকার আলোচ্য ব্যাংকগুলোকে দিচ্ছে। এবার দেয়া হচ্ছে আরো ২ হাজার কোটি টাকা। আগেও ১০ হাজার কোটি টাকার মতো দেয়া হয়েছে। এটা কোনোক্রমেই গ্রহণযোগ্য নয়। এটা অদক্ষতা-দুর্নীতিকে জিইয়ে রাখার একটা প্রক্রিয়া। এভাবে চলতে পারে না। এসব ব্যাংকের বিষয়ে সরকারকে দ্রুত কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কয়েকটি ব্যাংককে একীভূত করা, বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেয়া অথবা কার্যক্রম সীমিত করাসহ রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক নিয়ে কিছু বিকল্প বিবেচনা করা যেতে পারে।
 
ব্যাংকিং খাতে ক্রমবর্ধমান খেলাপি ঋণের বিষয়ে বাজেটে কোনো কথাবার্তা নেই। এক্ষেত্রে আপনার কী মত?
 
ব্যাংকিং খাত অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অনুঘটক। কাজেই এ খাতে খেলাপি ঋণের রাশ টানা না গেলে সত্যিকার উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে এর প্রভাব পড়বে। সুতরাং এক্ষেত্রে সর্বাগ্রে জরুরি কোম্পানি আইনে পরিবর্তন আনা। বিশেষ করে আজীবনের জন্য পরিচালক হিসেবে থাকা, একই পরিবার থেকে পরিচালক হওয়ার সুযোগ প্রভৃতি বিষয়গুলো জনসাধারণের স্বার্থ রক্ষা এবং ব্যাংকিং খাতে সুশাসন নিশ্চিত করার জন্য সমাধান করতে হবে।
 
সরকার বলেছিল, ব্যাংকিং খাতের জন্য আলাদাভাবে ব্যাংকিং কমিশন গঠন করবে। এখনো করেনি। আপনার কী মনে হয়?
 
আমার মনে হয়, এখন সময় এসেছে একটা ব্যাংকিং কমিশন করার। এক্ষেত্রে আলোচ্য কমিশনকে এমন ম্যান্ডেট দেয়া উচিত, যাতে তারা ব্যাংকিং খাতের সমস্যাগুলো নিবিড়ভাবে দেখতে পারে এবং তদানুযায়ী সেগুলো থেকে উত্তরণে কৌশল নির্ধারণ করতে পারে। এমন কমিশন করা যাবে না, যা শুধু রিপোর্ট দেবে; বরং ব্যাংকিং কমিশনকে করতে হবে সমাধানমুখী (সলিউশন-ওরিয়েন্টেড)। মূলত ব্যাংকিং খাতের বিদ্যমান সমস্যা ও সুশাসনের ওপর বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।
 
সরকার বাজেট ঘাটতি মেটাতে আগামী অর্থবছরেও ব্যাংক থেকে ঋণ নেবে। সেটা কি ব্যক্তিখাতের বিনিয়োগ নিরুত্সাহিত করবে না?
 
নিশ্চয়ই করবে। সরকার বলছে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। কিন্তু ব্যক্তিখাতের বিনিয়োগ অনেক কম। কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হলে এটা বাড়াতে হবে। কারণ সরকারি বিনিয়োগ সরাসরি কোনো কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে না। ভবিষ্যতের জন্য একটা ভিত্তি তৈরি করে মাত্র। আবার সরকারি বিনিয়োগে অপচয়ও হয়। সুতরাং ব্যক্তিখাতের বিনিয়োগ বাড়াতে হলে সরকারকে ব্যাংক থেকে ঋণ নেয়ার প্রবণতা কমাতে হবে। একই সঙ্গে ভূমি অধিগ্রহণে সমস্যা, ভূমি নিবন্ধনে জটিলতা, চুক্তি আলোচনায় অস্পষ্টতা, ব্যবসায়ী বা উদ্যোক্তাদের ন্যূনতম প্রয়োজনগুলো দ্রুত মেটানোসহ সার্বিক ডুয়িং বিজনেস সূচকে লক্ষণীয় উন্নতি করতে হবে। এগুলো না করলে বিনিয়োগ স্থবিরতা কাটানো যাবে না।
 
প্রস্তাবিত বাজেটের কারণে মূল্যস্ফীতি বাড়বে কিনা...
 
কিছুটা অবশ্যই বাড়বে। ভ্যাটের কারণে মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাবে। পেনশনভোগীদের বিশেষ সুবিধা দেয়ায় তারা কেনাকাটায় আগ্রহী হবে। এতে মূল্যস্ফীতি বাড়বে। আবার দিনে দিনে সরকারের ব্যয় বাড়ছে। সরকার যে অর্থ খরচ হচ্ছে, সেটা নিশ্চয়ই বাজারে আসবে। এটাও মূল্যস্ফীতি বাড়িয়ে তুলবে। এখন বাংলাদেশ ব্যাংকের উচিত, সার্বিকভাবে সরবরাহের দিক উজ্জীবিত করে চাহিদার দিকটি যৌক্তিক পর্যায়ে রাখা। এটা হয়তো মুদ্রানীতি দিয়ে প্রত্যক্ষভাবে করা যাবে না। বরং এখানে করতে হবে— যেসব খাত শ্রমনিবিড় ও দ্রুত বিকাশমান, সেসব খাতকে উত্সাহিত করা। যেজন্য আমি ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে উত্সাহিত করার কথা বলি।
 
অনেক দিন ধরে রফতানি বৈচিত্র্যকরণের কথা বলা হচ্ছে। প্রস্তাবিত বাজেটে এ-সম্পর্কিত কথাবার্তা আছে কি?
 
প্রস্তাবিত বাজেটে রফতানি বৈচিত্র্যকরণ সম্পর্কে উল্লেখযোগ্য কিছু নেই। আমি খুব হতাশ যে, শুধু তৈরি পোশাক শিল্পের বিষয়ে কিছুটা বিবেচনা করা হয়েছে। অথচ চামড়া, সিরামিকসসহ অন্যান্য রফতানিযোগ্য পণ্যের ক্ষেত্রে করা হয়নি। এতে পণ্যে রফতানি বৈচিত্র্যকরণের অগ্রগতি ব্যাহত হবে।
 
শ্রম উৎপাদনশীলতা নিয়ে বাজেটে কোনো দিকনির্দেশনা আছে?
 
বাংলাদেশের ক্ষেত্রে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হলো, শ্রম উৎপাদনশীলতা কম। তৈরি পোশাক শিল্প থেকে শুরু করে সব শিল্পেই একই অবস্থা। সন্দেহ নেই, শ্রমিকের দক্ষতা বাড়াতে প্রথমত দরকার প্রযুক্তি সংযোজন এবং দ্বিতীয়ত শ্রমিকদের প্রণোদনা প্রদান। কেউ কেউ ভাবে, শ্রমের দক্ষতা বাড়ালে পোশাক খাতে অনেকেই বেকার হবে। আসলে তা নয়, বরং পোশাক খাতে মুনাফাযোগ্যতা (প্রফিটিবিলিটি) বাড়বে। শুধু মজুরি কম দিয়ে পোশাক খাতকে বাঁচিয়ে রাখা যাবে না। উন্নয়নশীল দেশে সাধারণত শ্রমিকের দক্ষতা বাড়াতে হয়। বাজেট কিংবা আমাদের উন্নয়ন কৌশলে শ্রমবাজার নিয়ে খুব একটা নজর নেই। শ্রমিকের মজুরি, কর্মপরিবেশ, শোভন কাজ, ক্ষতিপূরণ প্রভৃতি বিষয় নিয়ে বিশেষ কোনো ব্যবস্থা নেই। শ্রমনিবিড় দেশ হওয়া সত্ত্বেও শ্রমিকদের নিয়ে তেমন কিছু বলা হয়নি— এটাও বাজেটের একটি দুর্বলতা। এটা কোনোক্রমেই উন্নয়ন মহাসড়কের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
 
প্রস্তাবিত বাজেট মধ্যবিত্তের ওপর কেমন চাপ সৃষ্টি করবে?
 
ঘোষিত বাজেটে মধ্যবিত্তের জন্য তেমন সুখবর নেই। মধ্যবিত্তের আশা হলো, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও ক্রয়ক্ষমতা কমে না যাওয়া। ক্রয়ক্ষমতা কমে গেলে অভ্যন্তরীণ বাজারে চাহিদা কমে যাবে। এটা ব্যবসা-বাণিজ্যে প্রত্যক্ষভাবে প্রতিফলিত হবে। এটা একটা দিক। আরেকটি দিক হলো, মানব উন্নয়ন বলতে আমরা যা বুঝি, সেটা মূলত মধ্যবিত্তের একটা অংশকে প্রভাবান্বিত করে, বিশেষ করে কারিগরি শিক্ষা, বৃত্তিমূলক শিক্ষা প্রভৃতি ক্ষেত্রে। কাজেই এসব দিক দিয়ে আমাদের মধ্যবিত্ত চাপের মুখে পড়বে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক হলো, দরিদ্র মানুষের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটে বিশেষ নজর দেয়া হয়নি, যেটা সমতাভিত্তিক এবং জনকল্যাণমুখী বাজেটের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।  (বণিক বার্তা)
 
এবিএন/সাদিক/জসিম/এসএ

প্রধান শিরোনাম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত