logo
বৃহস্পতিবার, ২৯ জুন ২০১৭
 

‌‘নতুন রূপে বাজারে আসছে বেঙ্গল মিট’

‌‘নতুন রূপে বাজারে আসছে বেঙ্গল মিট’

ঢাকা, ১৩ মে, এবিনিউজ : সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মানুষ জীবনযাত্রায় আরো বেশি সচেতন হচ্ছে। বিশেষ করে নিরাপদ খাদ্যগ্রহণ বা স্বাস্থ্যসচেতনতার মাত্রা বেড়েছে। এ প্রেক্ষাপট বিবেচনায় রেখে তাজা, স্বাস্থ্যকর ও হালাল মাংস বাজারে বিক্রির প্রতিশ্রুতি নিয়ে ২০০৬ সালে যাত্রা হয় বেঙ্গল মিটের। শিগগিরই স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে নতুন রূপে আসবে বেঙ্গল মিটের পণ্য। একান্ত আলাপচারিতায় এ বিষয়ে আলোকপাত করেন বেঙ্গল মিটের সিইও এএফএম আসিফ।

শুরুতেই বেঙ্গল মিটের কার্যক্রম শুরুর প্রেক্ষাপট সম্পর্কে জানতে চাই...

নিরাপদ খাদ্য বাজারজাতে ব্র্যান্ডিংয়ের অনেক সুযোগ রয়েছে। আর মাংসের মতো পণ্যের ক্ষেত্রে ব্যাকওয়ার্ড ইন্টিগ্রেশন অনেক লম্বা। পণ্যটির ক্ষেত্রে শতভাগ ভ্যালু অ্যাডিশন সম্ভব। আমরা স্থানীয় গরু থেকে মাংস প্রক্রিয়াজাত করি। আর বাংলাদেশে, বিশেষ করে রাজধানীতে বর্তমানে বার্গারের হুজুগ চলছে। এর জন্য প্রয়োজনীয় মাংসের বেশির ভাগই আমরা সরবরাহ করছি। শিল্পায়নের মাধ্যমে নিরাপদ মাংস বিভিন্ন আকার ও আয়তনে বাজারে সরবরাহের কাজটি বাংলাদেশে আমরাই প্রথম শুরু করেছি। মূলত রফতানি বাজার কেন্দ্র করে যাত্রা হয় বেঙ্গল মিটের।

পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়া প্রসঙ্গে কিছু বলবেন?

৪০ একর জমির ওপর বেঙ্গল মিটের ফ্যাক্টরি অবস্থিত। এর মধ্যে বেশ খানিকটা জমিতে আমরা গরুর খাওয়ার উপযোগী ঘাস চাষ করি। হজমের সুবিধার্থে এ ঘাস নির্দিষ্ট আকারে কেটে গরুকে খাওয়ানো হয়। বেঙ্গল মিটের পণ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হলো ভোক্তার আস্থা। আর এর বাস্তব প্রতিফলন দেখা যায় কারখানার মাধ্যমে। বাংলাদেশের মানদণ্ডে বেঙ্গল মিটের কারখানা হলো ‘রোলস রয়েস’। মাংসের মতো পণ্যের ক্ষেত্রে কারখানায় মূলধনি যন্ত্রের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো পশু নির্বাচন। গরু জবাইয়ের আগে ও পরে উভয় ক্ষেত্রেই এ প্রক্রিয়ার রক্ষণাবেক্ষণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সব ধরনের মান নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়া কঠোরভাবে অনুসরণ করা হয় বেঙ্গল মিটে।

রফতানি বাজারে বেঙ্গল মিটের পথ কেমন কাটছে?

বর্তমানে আমরা যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বাজারে রফতানি করতে পারছি না। তবে দুবাই, কুয়েত ও মালদ্বীপে করছি। মালয়েশিয়ায় রফতানির অনুমোদন পাওয়া গেছে। মূল্য সমঝোতা হলে রফতানিও শুরু হবে। পশ্চিমা দেশগুলোয় রফতানি উপযোগী সাপ্লাই চেইন গড়ে তুলতে সরকারের সহযোগিতায় অঞ্চলভিত্তিক কন্ট্রাক্ট ফার্মিংয়ের মাধ্যমে গবাদি পশুপালনের কাজ শুরু হয়েছে। প্রস্তুতি পর্যায় রয়েছে বেঙ্গল মিট। মাংস প্রক্রিয়াজাতকারী হিসেবে আপনি যখন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যাবেন, তখন কিন্তু খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি মৌলিক ভিত্তি হয়ে দাঁড়াবে। আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় পর্যায়ে সচেতন জনগোষ্ঠীই বেঙ্গল মিটের মূল বাজার। এভাবে আমরা ধীরে ধীরে বিশ্বজুড়ে শক্তিশালী বাজার সৃষ্টি করছি। হালাল খাদ্যপণ্য নিয়ে গবেষণা হয় মালয়েশিয়ায়। সেখান থেকে আমরা সনদ নিয়েছি। দুবাইয়ে রফতানির জন্য সে দেশের মিউনিসিপালিটি কর্মীদের নিজস্ব উদ্যোগে বাংলাদেশে নিয়ে আসি। তার পরই সে দেশে রফতানি শুরু করি আমরা। এর পর কুয়েত ও বাহরাইনেও রফতানি শুরু হয়।

স্থানীয় বাজারে বেঙ্গল মিটের শুরু ও বর্তমান কেমন?

২০১১ সালে আমরা আমাদের পণ্য স্থানীয় খুচরা বাজারে বিক্রি শুরু করি। তখন আমরা উপলব্ধি করলাম, উচ্চমূল্যে শুধু গরুর মাংস বিক্রি করে ব্যবসার মডেল দাঁড়াচ্ছে না। এখনো অনেক মানুষ গরুর মাংস কেনে শুধু সপ্তাহের শেষে। এ পরিস্থিতিতে রিটেইল স্টোর, বাড়ি ভাড়া, চিলিং প্রসেস— সবমিলিয়ে বিনিয়োগ অনেক বেশি। এ সময় আমরা মুরগির মাংস নিয়ে কাজ শুরু করি। শুরুতে তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে নিরাপদ মুরগির উত্স নিশ্চিত করা হতো। এভাবে পর্যায়ক্রমে আমরা রিটেইল বাজারে ভালো ব্যবসা করতে শুরু করি। ২০১৪ সালে এসে আমরা ফাস্টফুড, পাঁচ তারকা হোটেলগুলোয় মাংস সরবরাহ শুরু করি। আগে এসব জায়গায় আমদানিকৃত মাংস ব্যবহার করা হতো। এভাবে আমরা পর্যায়ক্রমে পণ্য বহুমুখী করেছি। বর্তমানে আমরা ৩৪টি আউটলেটে পণ্য বিক্রি করছি।

২০১৪ সাল পর্যন্ত আমাদের মূল ব্যবসা ছিল মাংস রফতানি। এর পর থেকে স্থানীয় বাজারে আমরা ভালো ব্যবসা করতে শুরু করি। ২০১৪-১৫ সালে আমরা ২৫ বা ২৮ কোটি টাকার পণ্য বিক্রি করতাম। তবে এ অবস্থা বর্তমানে নেই বললেই চলে। বর্তমানে বাংলাদেশে মাংসের দাম বেশি। গত দুই বছরে মাংসের দাম বাড়তে বাড়তে এখন অস্বাভাবিক পর্যায়ে চলে গেছে। গড় হিসাবে এখন টনপ্রতি খরচ পড়ে ৬ হাজার ডলার। যুক্তরাষ্ট্রে ভালো মানের মাংসের খরচ টনপ্রতি সাড়ে ৪ হাজার ডলার। ভারতে টনপ্রতি দাম সাড়ে ৩ হাজার ডলার। বর্তমানে তাই রফতানি বাজার বেঙ্গল মিটের দুশ্চিন্তার বিষয়।

এ পর্যায়ে আমরা স্থানীয় বাজারে মনোনিবেশ করতে চাই। এজন্য আমরা লোগো থেকে শুরু করে নতুন রূপে বেঙ্গল মিটের ব্র্যান্ডিং করতে যাচ্ছি। আমরা দীর্ঘদিন শুধু গরুর মাংস বিক্রি করেছি; তার প্রতিফলন ছিল লোগোতে। এখন আমরা মুরগির মাংসও বিক্রি করছি। সব দিক মূল্যায়ন করে বলতে চাচ্ছি, আমরা শুধু বিফ নই, মিট স্পেশালিস্ট। আমরা মানুষকে অনেক স্বাচ্ছন্দ্য দিচ্ছি। বিশেষ করে কর্মজীবী নারীরা কাজের ব্যস্ততা থেকে ফিরে খুব স্বাচ্ছন্দ্যে বেঙ্গল মিটের মাংস রান্না করতে পারছেন।

নতুন রূপ বা ব্র্যান্ডিং প্রসঙ্গে আরো কিছু ব্যাখ্যা করা সম্ভব?

ব্র্যান্ডের চারটি স্তম্ভ নির্ধারণ করেছি আমরা। এর মধ্যে প্রথমটি হলো ভোক্তা ও বাজারে আস্থার বিষয়টি। এর পর আমরা পণ্যে যেসব সৃজনশীলতা নিয়ে এসেছি, সেগুলো আমাদের দ্বিতীয় স্তম্ভ। তৃতীয় স্তম্ভ হলো নিরাপদ খাদ্য। সবশেষে রয়েছে পারিবারিক জীবনকে স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ করা। এসব স্তম্ভ অনুসরণ করে আমরা স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারকে আরো উন্নত করার কাজ করে যাব। এসব কিছুর প্রতিফলন দেখা যাবে বেঙ্গল মিটের নতুন লোগো ও ব্র্যান্ডিংয়ের ক্ষেত্রে। ব্র্যান্ডের রঙ ও পণ্যের মোড়কে এর প্রতিফলন দেখা যাবে। বেঙ্গল মিটের ইভলভিং চরিত্রটি নতুন লোগোয় ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করব আমরা। আমাদের বুচার বলা যেতে পারে। কিন্তু আমরা বলতে চাই, আমরা মিট ক্রাফটার। আর এ বার্তা আমরা ছড়িয়ে দিতে চাই নতুন ব্র্যান্ডিংয়ে। লোগো থেকে শুরু করে আমাদের পণ্যের মোড়কেও নতুনত্ব নিয়ে আসছি। ১০ জুলাই থেকে আমরা পরীক্ষামূলকভাবে কাজ শুরু করব।

সব মিলিয়ে নতুন রূপে বেঙ্গল মিটের লক্ষ্য স্থানীয় বাজার; কিন্তু রফতানি বাজার থেকে সরে গিয়ে নয়। আন্তর্জাতিক বাজারে গিয়ে আমরা ভালো সুবিধা পেয়েছিলাম। কিন্তু স্থানীয় বাজারে মাংসের দামের কারণে এখন সে সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে না। তবে এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে আমাদের ব্র্যান্ডিং হয়েছে। তাই সরে আসা সম্ভব হবে না। রফতানি বাজার সম্প্রসারণের কার্যক্রমও অব্যাহত থাকবে। বাংলাদেশে গরুর পাশাপাশি ভেড়া ও মহিষ পালন গুরুত্ব পাচ্ছে। আশা করছি, আগামীতে স্থানীয় ও রফতানি বাজার উভয় ক্ষেত্রেই বেঙ্গল মিট আরো দৃঢ় অবস্থান তৈরি করবে। এ লক্ষ্যে সব ধরনের গবেষণা ও প্রস্তুতির কাজ চলছে। এভাবে ভ্যালু অ্যাডিশন বৃদ্ধি করতে পারলে মাংসের মূল্যে কোনো সমস্যা হবে না। আমরা গুণগত মান বজায় রাখার চর্চা দিয়েই শুরু করেছিলাম। এখন স্থানীয় বাজারে এর বহিঃপ্রকাশ বেশি করে বোঝা যাবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারেও কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

সৌজন্যে: বণিক বার্তা

প্রধান শিরোনাম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত