logo
শনিবার, ১৯ আগস্ট ২০১৭
 

সিটিং-স্পেশাল-গেটলক সার্ভিস বন্ধের একমাত্র যুক্তি...

সিটিং-স্পেশাল-গেটলক সার্ভিস বন্ধের একমাত্র যুক্তি...

সিটিং-স্পেশাল-গেটলক সার্ভিস বন্ধের একমাত্র যুক্তি হলো জনগণের ভোগান্তি দূর করা। কিন্তু বিশেষ সার্ভিস বন্ধের পর দুর্ভোগটা কাদের হচ্ছে? শুধুমাত্র জনগণের। হা হা হা। জনগণের জন্য মালিকপক্ষের দরদ দেখে আমার খালি একটি কথাই মনে হচ্ছে, মাছের মায়ের পুত্রশোক। গণপরিবহনে বিভিন্ন ধরনের সার্ভিস থাকতে অসুবিধা কোথায়, বুঝি না। বিশ্বের সব দেশের, সব খাতে, সব সার্ভিসে আলাদা আলাদা সার্ভিস আছে। বিমান, ট্রেন, লঞ্চ সর্বত্র বিভিন্ন শ্রেণি আছে। ঢাকার গণপরিবহনে আলাদা সার্ভিস থাকতেও অসুবিধা নেই। যিনি কম টাকায় যেতে চান, তিনি লোকাল বাসে যাবেন; যিনি আরামে যেতে চাইবেন, তিনি বাড়তি ভাড়া দেবেন। সোজা হিসাব। স্পেশাল সার্ভিস বন্ধ হওয়াতে কারো লাভ হয়নি; দুর্ভোগে পড়েছেন নারী, শিশু আর বৃদ্ধরা। আগে লাইনে ধরে নারী-শিশু-বৃদ্ধরা দেরিতে হলেও গাড়িতে উঠতে পারতেন, উঠে আসন পেতেন। কিন্তু নিজের বাসে চড়ার অভিজ্ঞতা থেকে জানি, অফিস টাইমে লোকাল বাসে নারী-শিশু-বৃদ্ধদের ওঠা আর এভারেস্ট জয় করা সমান কথা। অসুস্থ বাবাকে নিয়ে আমার যে তিক্ত ও কষ্টকর অভিজ্ঞতা; প্রতিদিন কারো না কারো সে অভিজ্ঞতা হবে।
সরকার কদিন আগে বাসে নারীদের জন্য নির্ধারিত সিটে পুরুষরা বসলে শাস্তির বিধান রেখে আইন করেছে। শুনে হাসি আসে। আগে তো নারীদের বাসে উঠতে হবে, তারপর না নির্ধারিত আসন। এভারেস্ট জয় কঠিন হলেও অসম্ভব নয়। বাংলাদেশের দুজন নারী এভারেস্টের চূড়ায় উঠেছেন। তাই এত কষ্ট হলেও কর্মজীবী নারীদের অনেকে বেপরোয়া ভাবে লোকাল বাসে ওঠে পড়েন। ঠাসা বাসে উঠে পড়া একজন নারীকে যে কী ধরনের তিক্ত অভিজ্ঞতার মুখে পড়তে হয়, তার কোনো ইয়ত্তা নেই।
ঢাকার লোকাল বাসের যাত্রী একজন নারী আসলে প্রতিদিন মরে যান। প্রতিদিন রাতে বাসায় ফেরেন তারা পুরুষ জাতির প্রতি তীব্র ঘৃণা আর শরীরে বিবমিষা নিয়ে। সিটিং সার্ভিস হওয়ায় এই নারীরা, বৃদ্ধরা, শিশুরা একটু আরাম পেয়েছিলেন। কিন্তু সেই আরামটা কারো কারো সইলো না। সবচেয়ে মজার কথা হলো, সিটিং-স্পেশাল-গেটলক সার্ভিস বন্ধ হলেও ভাড়া কিন্তু আগের মতই আছে। সবাই তাই বলছেন, সিটিং সার্ভিস বন্ধের নামে যা করা হচ্ছে, তা আসলে জনগণের সাথে চিটিংমাত্র।
সিটিং-স্পেশাল-গেটলক সার্ভিসের জন্য যদি সত্যিই জনগণের অসুবিধা হয়, সরকার এবং মালিকপক্ষ যদি সত্যিই জনগণের ভালো চান; তাহলে গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনুন; আরো বেশি করে গাড়ি নামানোর ব্যবস্থা করুন, বিআরটিসিকে সক্রিয় করুন। তা না করে বিশেষ সার্ভিস বন্ধ করে দেয়া কোনো কাজের কথা নয়। পায়ে ধুলা না লাগাতে চাইলে চামড়া দিয়ে নিজের পা মুড়িয়ে দিলেই হয়, জগৎ ধুলায় অন্ধকার বা কাদা্ময় করে ফেলা কোনো সমাধান নয়। যেমন মাথা কেটে ফেলা, সমাধান নয় মাথাব্যথার।

প্রভাষ আমিন’র স্ট্যাটাস থেকে

প্রধান শিরোনাম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত