logo
শনিবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০১৬
 
 
  • হোম
  • সারাদেশ
  • রাণীনগরে জাতীয়করণ করা হলো শের-এ-বাংলা মহাবিদ্যালয়
রাণীনগরে জাতীয়করণ করা হলো শের-এ-বাংলা মহাবিদ্যালয়
রাণীনগরে জাতীয়করণ করা হলো শের-এ-বাংলা মহাবিদ্যালয়

রাণীনগর (নওগাঁ), ০৮ আগস্ট, এবিনিউজ : অনেক চরাই উতরাই পার করে প্রতিষ্ঠার প্রায় ৪৪ বছর পর  জাতীয়করণ হলো অবিভক্ত বাংলার প্রধান মন্ত্রী শের-এ-বাংলা একে ফজলুল হক এর নামে প্রতিষ্ঠিত উত্তর অঞ্চলের জেলা নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের একমাত্র বিদ্যাপিঠ শের-এ বাংলা (ডিগ্রী) মহাবিদ্যালয়। জন্মলগ্ন থেকেই এই উপজেলার কিছু শিক্ষা অনুরাগি ব্যক্তিবর্গ বিনা পারিশ্রমিকের ভিত্তিতে এই এলাকার ছেলে মেয়েদের উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করার লক্ষ্যে মাত্র শতাধিক ছাত্র-ছাত্রী নিয়ে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের পড়াশুনার যাত্রা শুরু করে। সেই থেকে সুনামের সহিদ এই কলেজটি একাডেমিক কার্যক্রম বিরতিহীন চালিয়ে যায়।এর সফলতার ধারাবাহিকতায় ১৯৮৮ সালে এমপিও ভূক্ত করা হয়। বর্তমান সরকারের নির্বাচনী অঙ্গিকার অনুযায়ী গ্রামীণ জনপদের সুবিধা বঞ্চিত পরিবারের ছেলে-মেয়েদের উচ্চ শিক্ষার সুযোগ করে দেওয়ার কথা মাথায় রেখে প্রত্যেক উপজেলায় একটি করে কম্বাইন (কো-এডুকেশন) কলেজ ও একটি স্কুল সরকারী করা হবে। এরই প্রেক্ষিতে জাতীয়করন করা হলো রাণীনগর শের-এ বাংলা (ডিগ্রী) মহাবিদ্যালয়।
জানা গেছে, ১৯৭২ সালে নওগাঁ জেলার রাণীনগর থানার প্রত্যন্ত গ্রামীণ জনপদে বসবাসরত মানুষের ছেলে মেয়েদের উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে পড়ালেখার সুযোগ করে দেওয়ার লক্ষ্যে উপজেলা সদরের পূর্ববালুভরা গ্রামের বিশিষ্ট সমাজসেবক ও শিক্ষা অনুরাগী মৃত আহমদ আলী মিঞা এই কলেজটি স্থাপন করার লক্ষ্যে প্রথমে এক বিঘা জমি বিনা মূল্যে নি:স্বার্থে দান করেন এবং উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত মনিষীর নাম করণের সাথে মিল রেখে উত্তরজনপদের  জেলা নওগাঁর রাণীনগর থানায় শের-এ-বাংলা একে ফজলুল হকের স্মরণে এই কলেজের নাম করণ করা হয়। প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে টিনশেডের তৈরি কয়েকটি কক্ষ নিয়ে নওগাঁর কৃতি সন্তান আব্দুল জলিল এর সভাপতিত্বে ও রাণীনগর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রয়াত প্রধান শিক্ষক আমজাদ হোসেন কে সদস্য সচিব/ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ করে কিছু বরেণ্য শিক্ষাবিদ ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের উদ্যোগে ও তাদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় এই মহাবিদ্যালয়টির একাডেমিক কার্যক্রম শুরু করা হয়। পরে ১৯৮৫ সালে রাণীনগর উপজেলা পরিষদ গঠিত হওয়ার পর তৎকালীন সময়ের উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কেসি মশিউর রহমান (বাচ্চু চৌধুরী), নির্বাহী অফিসার আব্দুল হাদি, রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের পরিদশর্ক শামসুল হক কোরায়েশী এর প্রত্যক্ষ সহযোগীতায় কলেজটির শিক্ষা কার্যক্রম পুরোদমে চালু হলে ১৯৮৮ সালে এমপিও ভুক্ত করা হয়।
১৯৯৪ সালে এডিবির অর্থায়নে উচ্চ মাধ্যমিক প্রকল্পের অধিনে ত্রি-তল ভবন নির্মাণ করা হয়। বর্তমানে নতুন চারতলা ভবনের কাজ চলমান। গত ২০০৪-০৫ শিক্ষাবর্ষ হতে উচ্চ মাধ্যমিক ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা শাখায় কম্পিউটার সায়েন্স ও সেক্রেটারীয়েল সায়েন্স ট্রেড চালু হয়। ২০০৫-০৬ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক (পাশ), বিএ, বিএসএস কোর্স চালু করা হয়।
বর্তমানে এই মহাবিদ্যালয়ে শিক্ষিক কর্মচারি ৫৩জন সহ প্রায় ১৩ শ’ ছাত্র/ছাত্রী বিভিন্ন শ্রেণীতে পড়াশুনা করছে। শুধু শিক্ষা ক্ষেত্রেই নয় বাংলাদেশ স্কাউটে গত ১৪ সালে এই মহাবিদ্যালয়টি ৪টি বিভাগে নওগাঁ জেলার মধ্যে প্রথম হওয়ার গৌরব অর্জন করে। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর গত ৩০ জুন ২০১৬ ইং তারিখে ৭এ/০৯/সি-২/২০১৩/৫৬৩৯(ক)/৫ নং স্মারক লিপিতে এই জাতীয়করণের তালিকা প্রকাশ করেন। স্মারকে দেশের ১৯৯টি কলেজের নাম উল্লেখ করা হয়েছে যেখানে রাণীনগর শের-এ বাংলা (ডিগ্রী) মহাবিদ্যালয়ের ক্রমিক নং ১১৯।
শের এ-বাংলা মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ মোফাখ্খার হোসেন খান পথিক জানান, বর্তমান শিক্ষা বন্ধব সরকারের ঘোষনা বাস্তবায়ন করার লক্ষ্যে স্থানীয় সংসদ সদস্য মো: ইসরাফিল আলম এমপি’র অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে আজ আমাদের এই প্রাপ্তি। তাই মহাবিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক, কর্মচারী, শিক্ষার্থী এলাকাবাসির পক্ষ থেকে মাননীয় প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিন, শিক্ষামন্ত্রীসহ স্থানীয় সংসদ সদস্যর প্রতি রইলো অকৃত্রিম ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

এবিএন/সোম-১ম/সারাদেশ/এ বাশার (চঞ্চল)/মুস্তাফিজ/রাজ্জাক

প্রধান শিরোনাম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত