logo
মঙ্গলবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০১৬
 
 
রবীন্দ্র পুরস্কার হস্তান্তর
রবীন্দ্র পুরস্কার হস্তান্তর

ঢাকা, ০৭ আগস্ট, এবিনিউজ : এবার দেশের ২ জন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে ‘রবীন্দ্র পুরস্কার- ২০১৬’ হস্তান্তর করা হয়েছে। রবীন্দ্র-গবেষণায় সামগ্রিক অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ আজ রবিবার এ পুরষ্কার প্রদান করা হয়েছে। বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৭৫তম মৃত্যুবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অধ্যাপক সৈয়দ আকরম হোসেন এবং রবীন্দ্রসংগীত চর্চায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ শিল্পী তপন মাহমুদকে রবীন্দ্রপুরস্কার-২০১৬ প্রদান করা হয়। পুরস্কারপ্রাপ্ত দু’জনের হাতে পুষ্পস্তবক, সম্মাননা স্মারক, সম্মাননাপত্র এবং পুরস্কারের অর্থমূল্য পঞ্চাশ হাজার টাকার চেক তুলে দেন বাংলা একাডেমির সভাপতি অধ্যাপক আনিসুজ্জামান এবং মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান।
অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ প্রদান করেন একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান। রবীন্দ্রবিষয়ক একক বক্তৃতা প্রদান করেন বিশিষ্ট রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী অধ্যাপক রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা। সভাপতিত্ব করেন বাংলা একাডেমির সভাপতি ইমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার, অধ্যাপক সৈয়দ আজিজুল হক, অধ্যাপক বেগম আকতার কামাল, অধ্যাপক বিশ্বজিৎ ঘোষ, অধ্যাপক ভীষ্মদেব চৌধুরী প্রমুখ।
অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, রবীন্দ্রনাথ বাঙালি, ভারতীয় ইত্যাদি পরস্পর-সম্পৃক্ত নানা বৃত্তের মধ্যে বাস করেও ছিলেন একজন বিশ্বনাগরিক। বাঙালিত্বের পরিচয়কে তিনি তাঁর জীবনচর্যায় মুখ্য করে তুলেছেন কিন্তু একই সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও বিভাজনমূলক জাতীয়তাবাদ সম্পর্কে সাবধানবাণী উচ্চারণ করেছেন। তিনি বলেন, রবীন্দ্রনাথের মতো একই সঙ্গে বাঙালিত্ব ও আন্তর্জাতিকতার সদর্থকবোধ লালন করার মধ্য দিয়েই আমরা সম্মুখযাত্রার দিশা পেতে পারি।
একক বক্তৃতায় অধ্যাপক রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা বলেন, রবীন্দ্রনাথ সারাজীবন সত্য ও সুন্দরের সাধনা করে গেছেন। গেয়েছেন মানবমঙ্গলের গান। মানুষের সংকটে, সংকল্পে রবীন্দ্রনাথের বাণী যেন অমৃতধারার মতো বয়ে চলে অনুভবের নদীতে। তিনি বলেন, ব্যক্তিমানুষের অন্তর্গত বিষাদ-মোচনে রবীন্দ্রনাথ যেমন তাঁর জীবন ও সৃষ্টি নিয়ে প্রেরণার কাজ করেন, তেমনি সমাজ, দেশ ও বৈশ্বিক সংকটেও তিনি দিয়ে চলেন মুক্তির নির্দেশনা।
স্বাগত ভাষণে অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান বলেন, রবীন্দ্রনাথ, নজরুল ও বঙ্গবন্ধু আমাদের জাতীয়তাবোধ নির্মাণ এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের পুরোধা। ষাটের দশকে পাকিস্তানি দুঃশাসনের বিরুদ্ধে রবীন্দ্রনাথ যেমন হয়ে উঠেছিলেন আমাদের সাংস্কৃতিক সত্তার অপরিহার্য অংশ ঠিক তেমনি আজ জঙ্গি-সন্ত্রাস মোকাবেলায় রবীন্দ্রচেতনায় সম্ভব হতে পারে বাঙালিত্বের নবউদ্বোধন।

এবিএন/রবি-২য়/সাহিত্য-সংস্কৃতি/ডেস্ক/এমআর/মুস্তাফিজ/মাম

প্রধান শিরোনাম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত