logo
বৃহস্পতিবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০১৬
 
ekattor
  • হোম
  • সারাদেশ
  • অভয়নগরে ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে ভিজিএফ’র চাল আত্মসাতের অভিযোগ
অভয়নগরে ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে ভিজিএফ’র চাল আত্মসাতের অভিযোগ
অভয়নগরে ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে ভিজিএফ’র চাল আত্মসাতের অভিযোগ
অভয়নগর (যশোর), ০৭ আগস্ট, এবিনিউজ : যশোরের অভয়নগর উপজেলার পায়রা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আজিজুর রহমান গোলদারের বিরুদ্ধে ভিজিএফ’র (ভালনারেবল গ্রুপ ফিডিং) ৩ হাজার ৬৭৪ কেজি চাল আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ১৩ জন ভুক্তভোগী ওই চাল আত্মসাতের অভিযোগ এনে গত ৩ আগস্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট  লিখিত আবেদন করেছেন। 
লিখিত আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইদুল ফিতর উপলক্ষে সরকার দরিদ্র লোকদের মধ্যে বিনামূল্যে জনপ্রতি ২০ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেয়। উপজেলার পায়রা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাদিরপাড়া গ্রামে ৩৬৫টি পরিবারের জন্য ২০ কেজি হারে মোট সাত হাজার ৩০০ কেজি চাল বরাদ্দ দেয়া হয়। ঈদের আগে ওয়ার্ডের সদস্য আজিজুর রহমান গোলদার ওই চাল উত্তোলণ করেন। তিনি উত্তোলণ করা চাল থেকে ২০৯টি পরিবারের মধ্যে মাত্র তিন হাজার ৬২৬ কেজি চাল বিতরণ  করেন। ওই পরিবারগুলোকে ২০ কেজির পরিবর্তে পরিবারভেদে ৮ থেকে ১৯ কেজি করে চাল দেওয়া হয়। অবশিষ্ট ১৫৬টি পরিবারকে কোনো চাল দেয়া হয়নি। তিনি মোট তিন হাজার ৬৭৪ কেজি চাল দরিদ্রদের মধ্যে বিতরণ না করে তা আত্মসাত করেছেন। আবেদনে স্বাক্ষর করেছেন গ্রামের এসএম রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, গ্রামের অনেক দুস্থ ভিজিএফের চাল পাননি। যেসব পরিবার চাল পেয়েছেন তাদেরও চাল কম দেয়া হয়েছে। এসব চাল মেম্বর আজিজুর আত্মসাত করেছেন।
গতকাল শনিবার কাদিরপাড়া গ্রামে যেয়ে ভুক্তভোগীদের সাথে কথা হয়। গ্রামের নাসিমা বেগম (৩০) বলেন, আমি ভিজিএফ কার্ড পেয়েছিলাম। আমার ২০ কেজি চাল পাওয়ার কথা। কিন্তু ১৪ কেজি চাল দেয়া হয়েছে। কল্পনা বেগম (৩৯) বলেন, আমাকে ১৩ কেজি চাল দেয়া হয়েছে। মনোয়ারা বেগম (৩৫) বলেন, আমাকে মাত্র ১১ কেজি চাল দেয়া হয়েছে। বিষয়টি কাউকে বলতে নিষেধ করা হয়েছে। 
মোমেনা বেগম (৬০) বলেন, আমার জমি-জায়গা নেই। অন্যের জমিতে ঘর বেঁধে থাকি। মেম্মর আমাকে কোনো চাল দেয়নি। ফিরোজা বেগম (৫৯) বলেন, আমার স্বামী নাই। আমি মেয়েকে নিয়ে ব্রাকের তৈরী করা বাড়িতে থাকি। কোনো কাজকর্ম করতে পারি না। আমি চাল পাইনি। দিনমজুর মোজাফ্ফর হোসেন (৪৫) বলেন, আমি পরের খেতে মজুরের কাজ করি। মেম্বারের কাছে ভিজিএফ-এর চাল চেয়েছিলাম। তিনি উত্তরে বললেন, তুমি আমাকে ভোট দাওনি তোমাকে চাল দেওয়া যাবে না। 
ইউপি সদস্য আজিজুর রহমান তাঁর বিরুদ্ধে আনা ভিজিএফের চাল আত্মসাতের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, চাল আত্মসাতের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমার বিপক্ষে নির্বাচনে দাঁড়িয়ে হেরে যাওয়া প্রার্থীরা একজোট হয়ে আমাকে হেয় করার জন্য ভিজিএফ নিয়ে মিথ্যাচার করছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মাদ নাসির উদ্দীন মিয়া বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি অনেক আগের। তাঁরা অনেক পরে এসে জানিয়েছেন। তারপরও তদন্ত করে দেখা হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
 
এবিএন/রবি-২য়/সারাদেশ/ডেস্ক/সেলিম হোসেন/মুস্তাফিজ/ইতি

প্রধান শিরোনাম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত