logo
রবিবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৬
 
ekattor
বরিশালে কৌশল পরিবর্তন করে চুরি-ডাকাতির হিড়িক
বরিশালে কৌশল পরিবর্তন করে চুরি-ডাকাতির হিড়িক
বরিশাল, ০৭ আগস্ট, এবিনিউজ : বরিশাল জেলার বিভিন্ন স্থানে এখন পুলিশ প্রশাসন জঙ্গি দমনে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। এ সুযোগে গত কয়েকদিন থেকে কৌশল পরিবর্তন করে জেলার সর্বত্র চুরি ও ডাকাতির হিড়িক পরেছে। প্রায় প্রতিদিনই চুরি ও ডাকাতির খবর আসছে বিভিন্ন উপজেলা থেকে। এসব চুরি ও ডাকাতি বন্ধে পুলিশ তেমন কোন সফলতা দেখাতে পারেননি। এমনকি ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলা দায়ের করতে গেলে পুলিশ মামলা নিতে গড়িমসি করছে বলেও অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে প্রতিদিন।
সূত্রেমতে, গত ১৫ দিনে জেলার সবচেয়ে বেশি চুরি ও ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে এককালের চরমপন্থি অধ্যুষিত বাবুগঞ্জ ও বিভাগের সবচেয়ে বেশি সংখ্যালঘু অধ্যুষিত আগৈলঝাড়া এবং উজিরপুর উপজেলায়। এরমধ্যে ৫ আগস্ট রাতে উজিরপুর উপজেলা ও পৌর সদরের প্রাণকেন্দ্র অবস্থিত গ্রামীণ ব্যাংকের এরিয়া অফিসে দুর্ধর্ষ চুরি হয়েছে। এ ঘটনায় গতকাল শনিবার এরিয়া ম্যানেজার আঃ রহমান বাদী হয়ে উজিরপুর থানায় একটি মামলাও করেছেন। এসব উপজেলায় সংঘবদ্ধ চোর ও ডাকাতেরা বিভিন্ন কৌশলে গৃহস্থের ঘরে প্রবেশ করে বিষাক্ত চেতনা নাশক ¯েপ্র ছিটিয়ে পরিবারের সবাইকে অচেতন করে সর্বত্র লুটে নিচ্ছে। 
অনুসন্ধানী সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েকদিন পূর্বে বাবুগঞ্জের চাঁদপাশা ইউনিয়নের বকশিরচর গ্রামের প্রবাসী আবু হানিফের ঘরে দূর্ধর্ষ ডাকাতি সংঘঠিত হয়। ৮/১০ জনের সংঘবদ্ধ ডাকাত দল ঘরে প্রবেশ করে পরিবারের সকলের হাত-পা বেঁধে সর্বস্ব লুটে নেয়াসহ ঘরের নারীদের ওপর নির্যাতন চালায়। একইদিন রাতে পার্শ্ববতী ঘটকেরচর গ্রামের মঞ্জুর আহম্মেদের ঘরের গ্রীল কেটে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এর পূর্বে রহমতপুরের ডিক্রিরচর এলাকার ইউনুস মিয়ার ঘরে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। অতিস¤প্রতি উপজেলার রহমতপুর এলাকায় একটি দোকানে চুরি করার সময় স্থানীয়রা বাচ্চু নামের এক চোরকে আটক করে পুলিশের হাতে সোর্পদ করে। গত সপ্তাহে ক্ষদ্রকাঠী গ্রামের দরিদ্র কৃষক মাহবুব হাওলাদারের তিনটি গাভী ও দুইটি ষাড় গরু চুরি করে নিয়ে যায় সংঘবদ্ধ চক্র। একই রাতে ওই গ্রামের কৃষক সালাম হাওলাদারের পরিবারের একমাত্র সম্ভল একটি গাভী, উত্তর দেহেরগতি গ্রামের রতন হাওলাদারের ৩ লাখ টাকা মূল্যের ৩টি ষাড় ও একটি গাভী চুরির ঘটনা ঘটে। রহমতপুর বাজারের সঞ্জিব জুয়েলার্সে দুর্ধর্ষ চুরির হয়। গত মঙ্গলবার রাতে আগরপুর গ্রামের ব্যবসায়ী জাকির হোসেন সিকদারের পরিবারের চারজনকে অজ্ঞান করে সর্বস্ত্র লুটে নিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় গৃহকর্তা স্থানীয় কয়েকজনকে চিনে ফেলেন। এ ঘটনায় তিনি থানায় মামলা দায়ের করতে গেলে পুলিশ মামলা নিতে গড়িমসি করেন। গত ৩ আগস্ট রাতে আগৈলঝাড়া উপজেলার রতœপুর গ্রামের সংখ্যালঘু স¤প্রদায়ের দীনবন্ধু বালার ঘরের ছয় সদস্যকে চেতনানাশক ¯েপ্র ছিটিয়ে অজ্ঞান করে সর্বস্ব লুটে নিয়েছে দূর্বৃত্তরা। এরপূর্বে উজিরপুর উপজেলার শোলক ইউনিয়নের দত্তেশ্বর গ্রামের সৌদি প্রবাসী রহিম বেপারীর ঘরের জানালার গ্রীল ভেঙ্গে সংঘবদ্ধ ডাকাতরা ভীতরে প্রবেশ করে প্রবাসী জলিল ও তার স্ত্রী তানিয়া বেগমকে কুপিয়ে নগদ ১ লাখ টাকা, ৩৫’শ সৌদি রিয়াল, ৬ ভরি স্বর্ণালংকার লুটে নেয়। 
প্রবাসী রহিমের বোন মরিয়ম জানান, ডাকচিৎকার শুনে তার বড় ভাই আব্দুল জলিল, প্রতিবেশী মন্টু হাওলাদার, ইমাম সরদারসহ অন্যান্যরা ছুটে এসে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। পুলিশ ওই ঘটনায় আহতদের উদ্ধার করা ইমাম সরদারকে আটক করে জেলহাজতে প্রেরণ করেন। ফলে মিথ্যে মামলার আসামি হয়ে আওয়ামী লীগ নেতা ইমাম সরদার এখন কারাভোগ করছেন। একইদিন রাতে বড়াকোঠা ইউনিয়নের গরিয়াগাভা গ্রামের সৌদি প্রবাসী রাজ্জাক সিকদারের পরিবারের ৬ জনকে চেতনানাশক ¯েপ্র ছিটিয়ে অচেতন করে নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকারসহ মূল্যবান মালামাল লুটে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা।
এ ব্যাপারে জেলা পুলিশ সুপার এসএম আকতারুজ্জামান বলেন, চুরি ও ডাকাতিরোধে জেলার সকল থানার ওসিদের কঠোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে। 
 
এবিএন/রবি-২য়/সারাদেশ/ডেস্ক/কল্যান কুমার চন্দ/মুস্তাফিজ/ইতি
Like us on Facebook

প্রধান শিরোনাম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত