logo
রবিবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৬
 
ekattor
  • হোম
  • সারাদেশ
  • তালুককানুপুর জনউন্নয়ন সংস্থার সহযোগিতায় প্রতিবন্ধি স্কুল
তালুককানুপুর জনউন্নয়ন সংস্থার সহযোগিতায় প্রতিবন্ধি স্কুল
তালুককানুপুর জনউন্নয়ন সংস্থার সহযোগিতায় প্রতিবন্ধি স্কুল
গোবিন্দগঞ্জ (গাইবান্ধা), ০৬ আগস্ট, এবিনিউজ : গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার তালুককানুপুর জন উন্নয়ন সংস্থার নিজস্ব অর্থায়নে পরিচালিত হচ্ছে ব্যতিক্রমী অটিজম প্রতিবন্ধি প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয়।
গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার তালুককানুপুর ইউনিয়নের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ তালুককানুপুর দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসর প্রাপ্ত সহকারী শিক্ষক আব্দুল মান্নান খানের কনিষ্ঠ পুত্র এডি এম মতিয়ার রহমান খাঁন লেখাপড়ার পাশাপাশি নিজেকে পিতার মতো একজন শিক্ষাবিদ হিসেবে সমাজে সকলের কাছে নিজেকে উজার করে দিতে চান। তবে শিক্ষক হিসেবে নয়, শিক্ষিত একজন সেবক হিসেবে সমাজের অবহেলিত, বঞ্চিত, শোসিত, লাঞ্চিত প্রতিবন্দি শিশুসহ এলাকার সকল পেশার মানুষের জন্য মানব কল্যাণে সুখে-দুখে তাদের পাশে দাঁড়িছেন শিক্ষানুরাগী হিসেবে। এর জন্য ১৯৯৭ সালে সহপাঠীদের সাথে নিয়ে তালুককানুপুর জন উন্নয়ন সংস্থা নামে একটি সংগঠন গড়ে তোলেন। ২০০৭ সালে সংস্থাটি সমাজ সেবা অধিদপ্তর থেকে নিবন্ধন লাভ করে। যার নিবন্ধন নম্বর গাই/গোবি/১২৪৪/২০০৭। সংস্থাটির প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে অন্যান্য কর্মসূচির মধ্যে প্রতিবন্ধি কার্যক্রম ব্যাপক এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। অসহায় প্রতিবন্ধিকে আর্থিক সহযোগিতা চলাচলের জন্য ব্যক্তি উদ্যোগে হুইল চেয়ার বিতরণ। ২০১৫ সালে সংস্থার উদ্যোগে প্রতিবন্ধি প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন করেন। শুরুতেই ১ম শ্রেণীতে শিক্ষার জন্য ভর্তি হয় ২০ জন বিভিন্ন প্রতিবন্ধি শিশু। বছর পেরিয়ে ১ম ও ২য় শ্রেণী মিলে এখন প্রতিবন্ধি ছাত্র সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩২ জনে। 
সরেজমিনে ওই এলাকায় গেলে চোখে পড়ে প্রতিবন্ধি স্কুলটি। সংস্থার নির্বাহী পরিচালক মতিয়ার রহমান তার নিজস্ব জায়গার উপর পাকাঘড় নির্মান করে প্রতিবন্ধি শিক্ষার্থীদের ওই ঘড়ে পাঠ দান করছে। ওই বিদ্যালয়টি দেখভালর জন্য প্রতিবন্ধি শির্ক্ষাথীর অভিভাবকদের নিয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিদ্যালয়ের শিক্ষক রয়েছেন ২ জন তারা নিয়মিত ক্লাশে পাঠ দান করেন। বেতন হিসেবে দেয়া হয় তাদের মাসিক সম্মানী ভাতা ১৫ শত টাকা। বেতনের উৎস ও প্রতিবন্ধি শিক্ষার্থীর উপঢোকন হিসেবে পাঠ্যপুস্তক, খাতা, কলমসহ অন্যান্য ব্যয় ভার কিভাবে বহন করা হচ্ছে। 
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সংস্থার নির্বাহী পরিচালক জানান, পল্লী উন্নয়ন একাডেমীর সহযোগিতায় এলাকায় বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ ও কৃষি কাজে সেচ দেয়ার জন্য একটি ডিপ- টিউবয়েল সংস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। এছাড়া সংস্থার নিজস্ব উদ্যোগে বায়োগ্যাস প্লান্ট ও জৈবসার উৎপাদন করে ওখান থেকে যা আয় হয়, তা থেকেই প্রতিবন্ধি প্রাক-প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষকের সম্মানি ভাতা ও উপঢোকন কাজে ব্যবহৃত মালামালের জোগান দেয়া হয়। সব মিলিয়ে হিসাব অনুযায়ী মাসে ১০ থেকে ১১ হাজার টাকা খরচ হয় ওই স্কুলের পিছনে। 
কথা হয় ওই স্কুলের শিক্ষকের সাথে তারা বলেন, প্রতিবন্ধি শিশুরা যাতে বড় হয়ে পিতা-মাতার পরিবারে মাথার বোঝা হয়ে না দাঁড়ায় এ জন্য প্রতিবন্ধি শিশুদের শিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তোলার জন্য ওই প্রতিবন্ধি বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছি। প্রতিবন্ধি বিদ্যালয়ের ছাত্রের অভিভাবক মোজাম্মেল হক বলেন, নিজের প্রতিবন্ধি সন্তানকে এই বিদ্যালয়ে পড়াতে নিজেকে খুব ভাল লাগছে। আমরা গরীব টাকা পয়সা নেই। ভেবে ছিলাম সন্তান বুঝি সংসারের বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু সব কিছু পাল্টে দিয়ে নিজ খরচে যানবাহন দিয়ে প্রতিবন্ধি শিশুদের বিদ্যালয়ে নিয়ে আসার ব্যবস্থা করেছে সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক।
কেমন হচ্ছে, পড়াশুনা এ বিষয়ে ওই বিদ্যালয়ের অধ্যয়ণরত ছাত্র রাসেল ও ছাত্রী মুক্তি আকতারকে জিজ্ঞাস করলে তারা বলেন, স্যারেরা আমাদের ক্লাসের পড়া দৈনিক ক্লাসেই বুঝিয়ে নেয়। এরপর বাড়ীতে যেয়ে বড় ভাই বা মার নিকট পড়া বুঝিয়ে নেই। তবে স্কুলে পড়তে খুব ভাল লাগে। স্কুলে আসলে স্যারেরা দৈনিক বিস্কুট আমাদের খেতে দেয়। কারও কোন অসুখ হলে স্কুলের পরিচালক স্যার ডাক্তার নিয়ে এসে চিকিৎসা করান। আমরা বড় হয়ে সমাজের বোঝা হতে চাই না। অন্য দশ জনের মতো নিজেরাও শিক্ষিত হয়ে চাকুরী করতে চাই। এছাড়া আরো কথা হয় ওই ইউনিয়নের স্থানীয় ইউপি সদস্যের সাথে তিনি বলেন, প্রতিবন্ধি স্কুলটিতে শিক্ষার মান বজায় রাখতে সরকারি বা বেসরকারিভাবে সহযোগিতা পেলে স্কুলটির লেখা পড়ার মান আরো উন্নত হতে পারে।
 
এবিএন/শনি-২য়/সারাদেশ/ডেস্ক/তাজুল ইসলাম/মুস্তাফিজ/ইতি
Like us on Facebook

প্রধান শিরোনাম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত