logo
শনিবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০১৬
 
 
  • হোম
  • সারাদেশ
  • চট্টগ্রামের ১৪ উপজেলায় বিদ্যুতের ভূতুড়ে বিলে অতিষ্ঠ গ্রাহক
চট্টগ্রামের ১৪ উপজেলায় বিদ্যুতের ভূতুড়ে বিলে অতিষ্ঠ গ্রাহক
চট্টগ্রামের ১৪ উপজেলায় বিদ্যুতের ভূতুড়ে বিলে অতিষ্ঠ গ্রাহক
পটিয়া (চট্টগ্রাম), ০৬ আগস্ট, এবিনিউজ : চট্টগ্রাম নগরীসহ ১৪ টি উপজেলায় অনুমান নির্ভর বিদ্যুৎ বিলের অত্যাচারে অতিষ্ঠিত হয়ে পড়েছে সাধারণ গ্রাহকরা। নগরীসহ জেলা উপজেলায় বহিরাগত লোক দিয়ে রিডিং সংগ্রহ করা হচ্ছে। মিটার না দেখে তারা ভূতুড়ে বিল করে যাচ্ছে। অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যবহারকারীদের বিলসহ সাধারণ গ্রাহকদের উপর বিলের খড়ক নেমে এসেছে। মর্জিমাফিক বিলের কারণে গ্রাহকদের পড়তে হচ্ছে চরম হয়রানীতে। এতদিন সাধারণত এপ্রিল থেকে জুন এ তিন মাসে ভূতুড়ে বিলের উপদ্রব হজম করতে হত। কিন্তু বিগত ৩/৪ বছর ধরে নগরীসহ বিভিন্ন উপজেলায় সারা বছর ধরে ভূতুড়ে বিলের বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে গ্রাহকদের। বিদ্যুৎ বিতরণ কর্তৃপক্ষ এ অভিযোগকে খুব একটা আমলে নিচ্ছে না। তার অজুহাত দেখাচ্ছে মিটার রিডারের স্বল্পতা দেখিয়ে তার পার পেতে চায়। ভোক্তভোগীদের কেউ কেউ ভূতুড়ে বিলের প্রতিবাদ করলে সংশোধন করে পরের মাসের সমন্বয় আশ^াস দিলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে অনেক ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেনি। 
নগরীর বায়েজিত থানার সংলগ্ন মোহাম্মদপুর এলাকার একজন বাসিন্দা জানান, মে মাসের তার ২ রুমের একটি সেমি পাকা ঘরের বিদ্যুৎ বিল আসে ২২শত টাকা। তিনি এ অভিযোগটি ষোলশহর সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ বিতরণ অফিসে যান। তারা অভিযোগ আমলে নিয়ে সংশোধনের জন্য বিলের কপিটি রেখে দেন। কিন্তু সংশোধনী তো দূরের থাক পরের মাসে আবারো সে একই ধরনের অতিরিক্ত বিল পান তিনি। একই ধরনের ঘটনা পটিয়া পৌরসভার হাবিবুর পাড়ার বাসিন্দা মোঃ আবুল মনছুর জানান, অতিরিক্ত বিলের কারণে পিডিবি অফিসে গিয়েও অভিযোগ করে কোন সমাধান হয়নি। 
২নং জালালাবাদ ওয়ার্ডের আওতাধীন কুলগাঁও এলাকার জয়নাল এক বাসিন্দা জানান, এপ্রিল মাস পর্যন্ত গড়ে প্রতি মাসে ১৫০ থেকে ২০০ ইউনিটের বিদ্যুৎ বিল আসতো তার। হঠাৎ করে মে ও জুন মাসে তার বিল আসতে থাকে ৪শ ইউনিট করে। একই ধরনের অভিযোগ করেছেন খুলশী বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগের লাল খান বাজারের বাসিন্দা জালাল আহমদ এবং পাহাড়তলী বিতরণ বিভাগের আওতাধীন বিশ^ ব্যাংক আবাসিক এলাকার বাসিন্দা মোখলেছুর রহমান। ওই ২ অভিযোগকারী বলেন, মিটারে উঠা রিডিংয়ের চেয়েও ২ থেকে আড়াইশ ইউনিটের বিল বেশী দেয়া হচ্ছে। এ নিয়ে অভিযোগ করতে গেলে সংশ্লিষ্ট ২ কর্তৃপক্ষ মিটারের স্বল্পতার অজুহাত দেখান। এসব অভিযোগ সংক্রান্ত জানতে চাইলে চট্টগ্রাম পিডিবির সিনিয়র সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) মোঃ মনিরুজ্জমান বলেন ঢালাও ভাবে অনেকেই এধরনের অভিযোগ করে থাকেন। কারো কোন আপত্তি থাকলে তা সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ বিল বিভাগের অবহিত করলে সংশোধন করে দেয়ার সুযোগ রয়েছে। যে কোন এ সুযোগ সহজে নিতে পারে। ভূতুড়ে বিদ্যুৎ বিলের হয়রানী বন্ধের অস্থায়ী ভিত্তিতে ৪শ মিটার রিডার নিয়োগে সিন্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে তিনি সাংবাদিকদের জানান। তাছাড়াও চট্টগ্রামের গ্রাহকদের জন্য ১ লাখ ৪০ হাজার প্রিপেইড মিটার দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। 
আগামী জানুয়ারী মাস থেকে ডিজিটাল পদ্ধতিতে বিদ্যুৎ বিল তৈরী করা হবে উল্লেখ করে প্রধান প্রকোশলী আযহারুল ইসলাম বলেন, মিটার রিডারদের অবশ্যই গ্রাহকদের কাছে যেতে হবে। এ পদ্ধতিতে প্রতি মাসে মিটারের ছবি তুলে পিডিবি অফিসে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাঠাবেন মিটার রিডাররা। সেখান থেকে সফটওয়্যারের মাধ্যমে বিল তৈরী হবে। ইতিমধ্যে এ ব্যাপারে দরপত্র আহ্বানের প্রক্রিয়া চলছে। 
পটিয়াতে একটি সিন্ডিকেট অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে নিয়মিত বিদ্যুৎ বিল গ্রাহকদের উপর অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের টাকা পরিশোধ করতে বাধ্য করা হচ্ছে বলে একাধিক ভোক্তাভোগী সূত্রে জানা গেছে। এব্যাপারে তারা বিদ্যুৎ মন্ত্রীসহ উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।
 
এবিএন/শনি-২য়/সারাদেশ/ডেস্ক/সেলিম চৌধুরী/মুস্তাফিজ/ইতি

প্রধান শিরোনাম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত