logo
রবিবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৬
 
ekattor
বোদায় গৃহকর্মীর মৃত্যু নিয়ে তোলপার
বোদায় গৃহকর্মীর মৃত্যু নিয়ে তোলপার

বোদা (পঞ্চগড়) ০৬ আগস্ট, এবিনিউজ : পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার পৌরশহরের কুড়ালীপাড়া গ্রামের জয়নাল এর শিশু কন্যা গৃহকর্মী জুই(১২) এর মৃত্যুর পর নানা গুঞ্জন ও তোলপার শুরু হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে দিনাজপুর জেলার পৌরশহরে ফকিরপাড়া গ্রামের আলমগীরের ভাড়াটিয়া বাড়িতে। ঘটনা সূত্রে জানা যায়, বোদা পৌর শহরে থানাপাড়া গ্রামের মরহুম লুৎফর রহমান মাষ্টারের কন্যা কুদরতন উন নাহারের স্বামী আলমগীর আলম দিনাজপুরে একটি ওষুধ কোম্পানীতে চাকুরী করে। সেই সুবাদে তারা বোদা পৌর শহরের কুড়ালীপাড়া গ্রামের গরীব দিনমজুর জয়নালের শিশু কন্যাটিকে নিয়ে যায় গৃহপরিচালিকার কাজ করার জন্য। ঐ গৃহপরিচালিকা শিশুটির মৃত্যুর ১০ দিন আগে আলমগীরের ভাড়াটিয়া বাড়িতে কাজ করার সময় গরম পানি বালতি হঠাৎ করে পড়ে গেলে তার শরীরের কিছু অংশ ঝলছে বা পুড়ে যায়। এ সময় গৃহপরিচালিকা শিশুটির পিতাকে আলমগীর খবর দিলে তিনি দিনাজপুরে দেখে আসেন। এ সময় গরম পানিতে ঝলছে যাওয়া শিশুটিকে আলমগীর কোন হাসপাতালে চিকিৎসা না করিয়ে বাড়িতে চিকিৎসা প্রদান করেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটি গত বৃহস্পতিবার সকালে মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর পর তারা কন্যা শিশুটির লাশ তার গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসেন। পরিবারের লোকজন ও গ্রামবাসীদের উপস্থিতিতে ঐদিন সন্ধ্যায় তার লাশ দাফন করা হয়।

এ ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। কারণ গৃহপরিচালক আলমগীর গরম পানিতে ঝলছে যাওয়া শিশুটিকে মৃত্যুর আগের দিন হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছিলেন। মৃত্যুর পর ঘটনাটিকে ধামাচাপা দেওয়ার জন্য লাশটি তরিঘরি করে ময়নাতদন্ত না করিয়ে পরিবারের লোকজনদের সাথে আলাপ আলোচনা করে লাশটি দ্রুত মাটি দিয়ে দেন।  এ নিয়ে এলাকার লোকে মুখে শুনা যাচ্ছে যে, ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য অর্থের আদান-প্রদান করা হয়েছে। এ ব্যাপারে গৃহপরিচালক আলমগীরের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, শিশুটি গরম পানির দ্বারা ঝলসে বা পুড়ে গেছিল। পুলিশের ঝামেলা হতে পারে তাই সাথে সাথে হাসপাতালে ভর্তি করাইনি। শিশুটির অবস্থার অবনতি হলে তাকে তখন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। কিন্তু সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। এ ব্যাপারে শিশুটির পিতা মাতার সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, আমরা গরিব মানুষ, আমাদের শিশু কন্যাটি মারা যাওয়ার পরে তারা খবর দিয়েছিলন। কিন্তু আমরা তাকে আনতে যায়তে পারিনি। তখন তারা লাশটি বাড়িতে নিয়ে আসেন। এসময় স্থানীয় লোকজনের মুখে শুনা টাকা দিয়ে বিষয়টি আপোষ করার কথা তার অস্বীকার করেন। এ ব্যাপারে বোদা থানার অফিসার ইনচার্জ আবুল কালাম আজাদ জানান, ঘটনাটি দিনাজপুরে হওয়ায় তাদের কিছুই করার নেই। তাছাড়া শিশুর পরিবার কোনও অভিযোগ করেনি। থানায় অভিযোগ দায়ের হলে বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানান।

এবিএন/শনি-২য়/সারাদেশ/লিহাজ উদ্দীন মানিক/মুস্তাফিজ/তোহা

Like us on Facebook

প্রধান শিরোনাম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত