logo
রবিবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৬
 
ekattor
জামালপুরে বুনোহাতি এখনও উদ্ধার হয় নি
জামালপুরে বুনোহাতি এখনও উদ্ধার হয় নি

জামালপুর. ০৬ আগস্ট, এবিনিউজ : জামালপুরের সরিষাবাড়িতে বন্যার পানিতে আসা বনোহাতিটি এখনো উদ্ধার করতে পারে নি ভারত-বাংলাদেশের বন বিভাগের উর্দ্ধতন বিশেষজ্ঞ দল। আতঙ্কিত লোকজনের ধাওয়ার মুখে বার বার স্থান পরিবর্তন করছে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, হাতিটি লোকজনের ভয়ে ডাঙায় উঠতে না পারায় উদ্ধারে বিঘ্ন ঘটছে।
এ নিয়ে গতকাল শুক্রবার বিকেলে সরিষাবাড়ি পৌরসভার বাউসি পপুলার জুট মিল চত্বরে প্রশাসন জরুরী সভা করেছেন। জেলা প্রশাসক শাহাবুদ্দিন খানসহ উপজেলা প্রশাসন এবং বন বিভাগের শীর্ষ কর্তাব্যক্তিরা এতে উপস্থিত ছিলেন। সভায় হাতি উদ্বারে কোন কুলকিনারা হয় নি। টানা ১০দিন বিভিন্ন চরাঞ্চল ঘুরে অবশেষে আজ শনিবার ভোরে সদর উপজেলার হাজিপুরে হাতিটি অবস্থান নিয়েছে। ওদিকে বনো হাতিটি বিভিন্ন স্থানে হামলা চালিয়ে বাড়ি-ঘর ভাংচুর চালাচ্ছে। হাতিকে ডাঙায় ওঠার সুযোগ দিতে হাতির উপর কোন আক্রমন না করতে মাইকিং করা হচ্ছে। এলাকাবাসিকে ভয়ভীতি প্রদর্শন না করতেও সতর্ক করা হয়েছে। হাতি উদ্ধার-সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন ও মনিটরিং করতে সার্বক্ষনিক অবস্থান নিয়েছেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আব্দুল্লাহ আল মামুন।

জানা গেছে, গত ৩০ জুলাই ঢাকা বিভাগীয় বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের পরিদর্শক বাবু অসিম মল্লিকের নেতৃত্বে ভেটেরিনারি সার্জন ডা. সাইদ হোসেন, হাতি বিশেষজ্ঞ কৌশল কুমার সারমা, ময়মনসিংহ বন বিভাগের কর্মকর্তা গোবিন্দ রায় ও দুইজন মাহুতসহ বন বিভাগের ১৭ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল হাতি উদ্ধারে সরিষাবাড়ীতে আসেন। দেশীয় প্রযুক্তিতে হাতিটি উদ্ধারে সক্ষম না হওয়ায় ভারত সরকারকে বিষয়টি জানানো হয়। গত বৃহষ্পতিবার দুপুরে আসাম রাজ্য বন বিভাগের উর্দ্ধতন কর্মকর্তা ও হাতি বিশেষজ্ঞ রিতেশ ভট্টাচার্য্যরে নেতৃত্বে তিন সদস্যের ভারতীয় প্রতিনিধি দল এসে দুই দেশের বিশেষজ্ঞরা মিলে উদ্ধার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। ভারতীয় উদ্ধার টিমের প্রধান রিতেশ ভট্টাচার্য্য জানান, হাতিটি উদ্ধার করতে হলে চেতনানাশক ইনজেকশন পুশ করতে হবে। কিন্তু ডাঙায় না ওঠায় এখনো সম্ভব হয় নি। বাংলাদেশ টিমের প্রধান বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের পরিদর্শক বাবু অসিম মল্লিক বলেন, হাতির খাবার সরবরাহ ও নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে। তবে দীর্ঘদিন পানিতে অবস্থান করায় বর্তমানে হাতিটি অসুস্থ ও দুর্বল হয়ে পড়েছে।
চেতনানাশক ইনজেকশন পুশ করতে ‘ট্যাঙ্কুলাইজার গান’সহ প্রস্তুত রয়েছেন ভেটেরিনারি সার্জন ডা. সাইদ হোসেন। অচেতনের পর হাতিকে স্থানান্তর করতে আনা হয়েছে ‘ক্যারিন কার’।
উদ্ধার টিমের বন কর্মকর্তা খলিলুর রহমান জানান, হাতি উদ্ধারে প্রযুক্তিগত প্রক্রিয়ার অভাব। তাই প্রাকৃতিক ও কৌশলগতভাবে উদ্ধার প্রক্রিয়ায় হাটতে হচ্ছে। বুনোহাতিটিকে কাছে টানতেএকটি পোষা হাতিও আনা হয়েছে।
উল্লেখ্য, উজানের ঢল ও বন্যার স্রোতে ভারতীয় একটি বুনো হাতি বাংলাদেশের সীমান্তের কুড়িগ্রামে আসে। পরে ব্রহ্মপুত্র ও যমুনা নদী পাড়ি দিয়ে বগুড়ার সারিয়াকান্দি ও সিরাজগঞ্জের কাজিপুর ঘুরে ২৮ জুলাই মধ্যরাতে জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার চরাঞ্চলে অবস্থান নেয়।

এবিএন/শনি-২য়/সারাদেশ/শাহ্ জামাল/মুস্তাফিজ/তোহা

Like us on Facebook

প্রধান শিরোনাম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত