logo
বৃহস্পতিবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০১৬
 
ekattor
ডিমলায় প্রতারক মোবাইল প্রেমিক গ্রেফতার
ডিমলায় প্রতারক মোবাইল প্রেমিক গ্রেফতার

ডিমলা (নীলফামারী), ০৬ আগস্ট, এবিনিউজ : একাধিক বিয়ে করা প্রতারক সিরাজুল ইসলাম ওরফে সিরাজ (৪০) এবার সপ্তমবারের মতো বিয়ে করতে এসে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছে। এই প্রতারক কোথাও আবার সাগর খাঁন হিসাবেও পরিচিত। গত বৃহস্পতিবার রাতে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার পূর্বছাতনাই ইউনিয়নের পূর্বছাতনাই গ্রামে এক কলেজ ছাত্রীকে বিয়ে করতে এলে এই প্রতারক গ্রেফতার হয়। এ সময় পুলিশ তার কাছ থেকে প্রধানমন্ত্রীর দফতর সহ বিভিন্ন দপ্তরের জাল ও ভুয়া পরিচয় পত্র উদ্ধার করে।
অভিযোগ মতে এই প্রতারক কখনো প্রধানমন্ত্রী দপ্তরের কর্মচারী, কখনো সংস্থাপন মন্ত্রনালয় বা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের কর্মচারী আবার কখনো ঢাকার মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরের কর্মকর্তা পরিচয়ে বিভিন্ন স্থানে গিয়ে বিয়ে করে থাকে। ডিমলা থানার পুলিশ জানায় এই প্রতারক রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার মহেশা মীরবাগ গ্রামের মৃত তাহের আলীর ছেলে। বর্তমানে সে পাবনা জেলার ঈশ্বরর্দী যুব উন্নয়ন অফিসের এমএলএসএস পদে কর্মরত রয়েছেন। গত তিন মাস আগে  তার কর্মস্থল ছিল রংপুরের তারগঞ্জ উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসে। এই প্রতারক নীলফামারী শহরের শান্তিনগরে এক কলেজ ছাত্রী, নীলফামারীর কলেজ পাড়ায় আরেক কলেজ ছাত্রী এবং রংপুরের বদরগঞ্জে এক হিন্দু মেয়ে সহ ৬টি বিয়ে করে। তবে কোন স্ত্রীকে  তার সাথে রাখেনা। বিয়ের পর ওই স্ত্রীদের সাথে মিলিত হতে সে শ্বশুড়বাড়িতেই রেখে তিন মাস থেকে ৬ মাস পর্যন্ত আসা যাওয়া করে। এরপর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। সে প্রতিস্থানেই ভুয়া নাম ও পরিচয়ে বিয়ে করে।


ডিমলার পূর্বছাতনাই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রভাষক আব্দুল লতিফ খান জানান উক্ত ব্যাক্তি বৃহস্পতিবার রাতে তার ইউনিয়নের গ্রামে এক কলেজ ছাত্রীকে বিয়ে করতে আসে। এ সময় তার সাথে ছিল প্রাইভেট কার যাহার নং- ঢাকা মেট্রো-ক ১১-০৫৩৪ চালক ও অপর এক ব্যাক্তি। মেয়ের বাবা ওই বিয়ে অনুষ্ঠানে তাকে (ইউপি চেয়ারম্যান) ডেকে নিয়ে যায়। তিনি বর হিসাবে আসা ওই ব্যাক্তির পরিচয় ও নাম ঠিকানা জানতে চাইলে প্রতারক ব্যাক্তি প্রথমে স্বরাষ্ট মন্ত্রনালয়ের কর্মচারী হিসাবে ঢাকার মাদক নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরের পরিদর্শক হিসাবে পরিচয় দেয়। এ সময়  পরিচয়পত্র দেখতে চাওয়া হলে সে তার জাতীয় পরিচয় পত্রের ফটোকপি বের করে দেয়।  জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপিতে ঢাকা-১০ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিষ্টার শেখ ফজলে নুর তাপসের সত্যায়িত করা স্বাক্ষর দেখা যায়। এটি দেখেই সন্দেহ হলে তিনি তাকে আটক করে ডিমলা থানায় খবর দেয়। পুলিশ রাতেই ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ওই প্রতারক তার প্রতারনার কথা স্বীকার করে। সেই সাথে সে তার জাতীয় পরিচয় পত্রটিও এবং ফটোকপিতে সত্যায়িত ঢাকা-১০ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিষ্টার শেখ ফজলে নুর তাপসের স্বাক্ষর ও সিল জাল বলে জানায়। এ সময় পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।  পুলিশ জানায় ওই প্রতারকের সাথে থাকা অপর দুইজনকেও থানায় আনা হয়। এরা হলো প্রাইভেট কারের চালক রংপুর মহানগরের ক্যান্টনম্যান্ট এলাকার মৃত আজগার আলীর ছেলে সুমন আলী (৩২) ও ঈশ্বরর্দী শহরের মৃত আশরাফ আলীর ছেলে দেলওয়ার হোসেন (৪৫)।
এই দেলোয়ার হোসেন জানায় তার এলাকার যুব উন্নয়ন অফিসের চাকুরীতে যোগদানে সিরাজুল ইসলাম ওরফে সিরাজ তার বাড়ির একটি রুম ভাড়া নেয়। সেখান থেকে তার পরিচয়। তিনি তার বাড়ি রংপুরে তাকে বেরাতে নিয়ে আসে। কিন্তু তার বাড়িতে না নিয়ে আবাসিক হোটেলে উঠায়। এরপর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় একটি প্রাইভেট কার ভাড়া করে তাকে ডিমলায় নিয়ে আসে। প্রাইভেট কার চালক সুমন জানায় তাকে ওই ব্যাক্তি ভাড়া করে নিয়ে আসে।


এদিকে এ ঘটনা জানতে পেরে নীলফামারী সদর উপজেলার নারী ভাইস চেয়ারম্যান আরিফা সুলতানা লাভলী জানান নীলফামারী শহরের দুই কলেজ ছাত্রীকে প্রতারনার মাধ্যমে বিয়ে করার ঘটনায় শান্তিনগরের একটি মেয়ে  সহযোগিতার জন্য তার কাছে এসেছিল। এ সময় তিনি ওই প্রতারকের মোবাইল নম্বরে কল দিলে ওই প্রতারক তাকে হত্যার হুমকী দেয়। এ ঘটনায় তিনি নীলফামারী থানায় একটি জিডি করেছিলেন। এদিকে সাংবাদিকরা এই প্রতারকের সাথে তার বিষয়ে কথা বলতে চাইলে তিনি কোন প্রশ্নের উত্তর দিতে অস্বীকৃতি জানায়।
এদিকে মোবাইল ফোনে  ইশ্বরর্দী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মোরশেদ আহম্মেদ সাথে  কথা বলা হলে তিনি জানান  সিরাজুল ইসলাম সিরাজ নামে একজন এমএলএসএস তার অফিসে গত ৩ মাস আগে যোগদান করেছিল। সে মাত্র ৬দিন অফিস করেছে। তবে বিভিন্ন জনের পরিচয় ও ফোন করিয়ে দাপট দেখিয়ে তার প্রতি মাসের বেতন উত্তোলন করে নেয়। তিনি জানান সে প্রতারনা করে  চলে এবং বিভিন্ন স্থানে ৬টি বিয়ে করছেন বলে তিনি জানতে পারেন। তার বিরুদ্ধে  উদ্বর্তন কর্তৃপক্ষকে অবগত করে বিভাগীয় মামলার প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।
ডিমলা থানার এসআই সাহবুদ্দিন জানান আটক ব্যাক্তির বিরুদ্ধে প্রতারনা সহ জাল পরিচয়পত্র ও পরিচয়ের বিষয়েও মামলার প্রস্তুতি চলছে। ডিমলা থানার এসআই এমআর সাইদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানায় ভাড়ায় চালিত কার গাড়িটি সহ ড্রাইভার সুমন আলীকে প্রমাণ সাপেক্ষে ছেড়ে দেওয়া হয় এবং অন্য আসামীদের শনিবার দুপুরে জেলা জেল হাজতে প্রেরন করা হয়।

এবিএন/শনি-২য়/সারাদেশ/বাদশা সেকেন্দার ভুট্টু/মুস্তাফিজ/তোহা

প্রধান শিরোনাম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত