logo
বুধবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০১৬
ekattor
গান গেয়ে জীবিকা নির্বাহ করে অন্ধ রাজু
গান গেয়ে জীবিকা নির্বাহ করে অন্ধ রাজু
সাঘাটা (গাইবান্ধা), ০৬ আগস্ট, এবিনিউজ : বুকটা আমার ভাঙ্গা বাড়ী, ভাঙ্গা আমার মন, ভাঙ্গা মনে আরকি হবে, বন্ধুয়ার মিলন... বাউল শিল্পী কাজল দেওয়ানের গানের সুর ধরে পথে ঘাটে হোটেল রেস্তোরায় গান গেয়ে মানুষ জড়ো করে সন্দেশ বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন বাউল শিল্পী জন্মান্ধ রাজু মিয়া (২৮)। জন্মের পর থেকে দু’চোখের আলোয় পৃথিবীটাকে দেখতে পায়নি। হতভাগা রাজু মিয়া সাঘাটা উপজেলার কচুয়াহাট গ্রামের মৃত রহমত আলীর পুত্র। মাতার নাম মনিরা বেগম। পিতা-মাতার অভাব অনটনের সংসারে বেড়ে ওঠে রাজু মিয়া। পিতার মৃত্যুর পর মা মনিরা বেগম অন্যত্র বিয়ে করে ঘর-সংসার করছেন। নিরুপায় হয়ে রাজু মিয়া বাউল গান রপ্ত করে হাতে লাঠি ও তবলা নিয়ে পথে বেরিয়ে গান গাওয়া শুরু করে দেয়। 
রাজু মিয়া জানান, প্রায় ১১ বছর ধরে উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার, পথ-ঘাট, হোটেল-রেস্তোরায় গান গেয়ে যাই আর একটা বয়ামে করে সন্দেশ বিক্রি করি। আমার গান শুনে মানুষজন আমার প্রতি সদয় হয়ে একটি করে সন্দেশ খেয়ে ৫ টাকা করে দেয়। সে আরো জানায়, ভিক্ষা বৃত্তি একটা অভিশাপ তাই ওপথে যাইনি। প্রতিদিন গান গেয়ে আর সন্দেশ বিক্রি করে ১ থেকে দেড়শ টাকা উপার্জন করে সংসার চালান। উপজেলার কচুয়া হাটে ছোট্ট একটি কুড়েঘরে সবেমাত্র বিয়ে করে ঘর সংসারও করছেন রাজু মিয়া। 
সদাহাস্যজ্জল রাজু মিয়া আরো জানায়, গত বছর এটিএন বাংলা টেলিভিশনে কুড়িয়ে পাওয়া সুর অনুষ্ঠানে বাছাই পর্বে ৫৬ জন বাউল শিল্পীর মধ্যে প্রথম হয়েছিলাম। কিন্তু পরবর্তীতে বিচারক মন্ডলীদের রায়ে আর গান গাওয়ার সুযোগ হয়নি। সদালাপী, সুকন্ঠি রাজু মিয়ার ভাগ্যে এখনো সরকারি কোন সহায়তা বিশেষ করে প্রতিবন্ধি ভাতার কার্ডও হয়নি। সাঘাটা ইউপি চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন সুইট জানান, প্রতিবন্ধি ভাতা যাতে পায় সে ব্যবস্থা করা হবে। 
 
এবিএন/শনি-২য়/সারাদেশ/ডেস্ক/আসাদ খন্দকার/মুস্তাফিজ/ইতি

প্রধান শিরোনাম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত