logo
রবিবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০১৬
 
 
  • হোম
  • সারাদেশ
  • পানির নিচে চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ, ২ দিনে ক্ষতি ১২ কোটি টাকা!
পানির নিচে চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ, ২ দিনে ক্ষতি ১২ কোটি টাকা!
পানির নিচে চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ, ২ দিনে ক্ষতি ১২ কোটি টাকা!

টেকনাফ, ০৬ আগস্ট, এবিনিউজ : দিন দিন হুমকির মুখে পড়ছে দেশের ভোগ্যপণ্যের বৃহত্তম পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জ। একদিকে বৃষ্টি; অন্যদিকে জোয়ারের পানি। আর এতেই কিছুদিন পর পর জলাবদ্ধতা দেখা দেয় ওই বাজারে। সর্বশেষ জলাবদ্ধতার ১ মাস পেরুবার আগেই গত বুধবার আবারও বৃহত্তম পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জ ও চাক্তাই। এবার জোয়ারের পানি।
জোয়ারের পানিতে গত ২ দিন ধরে চাক্তাই, খাতুনগঞ্জ, আছাদগঞ্জ, রাজাখালী, তক্তারপুল, মিয়াখান নগর, বউবাজারসহ বিশাল এলাকা ডুবে রয়েছে। এই ২ দিনে প্রায় ১২ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ব্যবসায়ীরা। সরেজমিন দেখা গেছে, খাতুনগঞ্জ ও চাক্তাইয়ের অনেকগুলো গলিতে পানি। শুধু গলিতে নয়; আড়ৎও পানিতে ভর্তি। কেনাকাটা নয়; আড়তের পানি সরাতে ব্যস্ত কর্মচারীরা।
আড়ৎদাররা জানান, গত ২ দিন বৃষ্টি হয়নি। তবে জোয়ারের পানির কারণে এই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। ফলে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন চাক্তাই এলাকার রাজাখালী, অলি মিয়ার গলি, পোস্ট অফিস লেন, খাতুনগঞ্জ এলাকার চান মিয়া লেন, হামিদুল্লাহ খাঁ বাজার, আছাদগঞ্জ এলাকার ব্যবসায়ীরা। এছাড়া তক্তার পুল, মিয়াখান নগর, খেজুরতলা, বউবাজারসহ অপেক্ষাকৃত নিচু এলাকায় জোয়ারের কারণে অনেক আড়তে নোনা পানি প্রবেশ করে।
ব্যবসায়ীরা জানান, মাটির স্তুপ ও পলি জমে ভরাট হয়ে গেছে কর্ণফুলী নদীর শাহ আমানত সেতু সংলগ্ন এলাকা। খাতুনগঞ্জের প্রধান খাল চাক্তাই ও রাজাখালী খালের মোহনাও ভরাট হয়েছে।
তারা জানান, নগরীর পানি প্রবাহের প্রধান মাধ্যম এই দুটি খালের মোহনায় প্রতিনিয়ত অবৈধ স্থাপনা তৈরি হচ্ছে। দখল আর ভরাটে মোহনা সংকুচিত হয়ে পানি প্রবাহ মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। প্রশাসনের নজরদারির অভাবে নদীতেও অবৈধ দখলদারদের রাজত্ব বেড়েই চলেছে। ফলে জোয়ারের পানিতে ডুবে যাচ্ছে দেশের বৃহত্তম পাইকারি বাজার চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ।
সাবেক কাউন্সিলর ও খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি এসোসিয়েশনের সাংগঠনিক সম্পাদক হাজী জামাল হোসেন বলেন, ২০০০ সালের পর থেকে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তির জন্যে ব্যবসায়ী সমিতির নেতারা দাবি জানিয়েছে আসছেন। মেয়র আ.জ.ম. নাছির উদ্দীন ও স্থানীয় সংসদ সদস্য জিয়াউদ্দিন আহমদ বাবলুকেও বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। চাক্তাই খালসহ মদুনাঘাট থেকে পতেঙ্গা নেভাল পর্যন্ত নদীর পাড়ে বেড়িবাঁধ ও ২৬টি খালের মুখে সুইসগেট করার আশ্বাস দিয়েছিলেন পানি সম্পদ মন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ।
চট্টগ্রাম চাক্তাই শিল্প ও ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি হারুনুর রশিদ বলেন, চাক্তাই-খাতুনগঞ্জের প্রতিটি দোকানেই দুই থেকে চার ফুট উচ্চতায় পানি ঢুকছে। এতে প্রচুর মালামাল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এনিয়ে রীতিমতো আতঙ্কে দিন কাটাতে হয় ব্যবসায়ীদের। জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তির জন্য ১৫ বছর ধরেআন্দোলন-সংগ্রাম-আবেদন-নিবেদন করেও কোনো ফল পাওয়া যায়নি। এখান থেকে প্রতি বছর কোটি কোটি টাকার রাজস্ব আদায় করলেও জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি ও এলাকায় উন্নয়নে উদ্যোগ নেয়নি কোনো সরকার।
খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ ছগির আহমদ জানান, জোয়ারের পানিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় ২ দিনে ক্ষতি হয়েছে প্রায় ১২ কোটি টাকার সম্পদ। এখানকার ব্যবসা-বাণিজ্য স্থবির হয়ে পড়ছে। চাক্তাই-রাজাখালী খালের মোহনায় জমা পলি অপসারণ না করলে এখানকার দুঃখ গুছবে না।
কর্ণফুলী নদীর ক্যাপিটাল ড্রেজিং সম্পন্ন করে নাব্যতা ফিরিয়ে আনা, নদীর পাড়ে প্রতিরক্ষাবাঁধ নির্মাণ ও সুইসগেট নির্মাণের দাবিতে গতকাল শুক্রবার মানববন্ধন কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে বলে জানান খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীরা।

এবিএন/শনি-১ম/সারাদেশ/শংকর রায়/মুস্তাফিজ/এস আর

প্রধান শিরোনাম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত