logo
রবিবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৬
 
ekattor
  • হোম
  • সারাদেশ
  • ভোলার লক্ষধিক মানুষ পানিবন্ধি : তীর সংরক্ষন বাঁধে ধ্বস
ভোলার লক্ষধিক মানুষ পানিবন্ধি : তীর সংরক্ষন বাঁধে ধ্বস
ভোলার লক্ষধিক মানুষ পানিবন্ধি : তীর সংরক্ষন বাঁধে ধ্বস

ভোলা, ০৫ আগস্ট, এবিনিউজ : উজান থেকে নেমে আসা মেঘনার জোয়ারের অতি পানিতে ভোলার ৭ উপজেলা দিয়ে শুক্রবার বিকালে ৪/৫ ফুট পানিতে প্লাবিত হয়েছে। জেলার অন্তত ২১টি ইউনিয়নের ৪০টি গ্রামে লক্ষাধিক লোক পানি বন্ধি হয়ে পড়েছে। এলাকায় দেখা দিয়েছে জলচ্ছাসের আতংক। সকাল বিকাল ২ বেলা জোয়ারের পানিতে ভাসছে অসহায় পরিবার গুলো। অনেকেই জীবন বাঁচাতে আশ্রয় কেন্দ্রে গবাদি পশু সহ আশ্রয় নিয়েছে। এসব এলাকায় দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ খাবার পানিসহ শুকনো খাবারের সংকট। অপর দিকে  বোরহানউদ্দিন উপজেলার বড়মানিকা ইউনিয়ন সংলগ্ন মেঘনা  তীর সংরক্ষণ বাঁধের প্রায় ১ কিলোমিটার এলাকায়  ধ্বস দেখা দিয়েছে।ভোলার লক্ষধিক মানুষ পানিবন্ধি : তীর সংরক্ষন বাঁধে ধ্বস
গত দুই দিনে দমকা বাতাস সহ অমাবশ্যার জো’র প্রভাবে অতি জোয়ারের পানি বাঁধের উপর প্রবল বেগে আছড়ে পড়ায় ওই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে বড়মানিকা ইউনিয়ের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আ’লীগ সভাপতি জসিমউদ্দিন হায়দার সহ এলাকাবাসী জানান। এদিকে শুক্রবার বিকালে ভোলা ইলিশা ইউনিয়ন পরিষদে পানি বন্ধি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার গুলোর মাঝে বাণিজ্য মন্ত্রী তোফায়েল আহমে ত্রান সামগ্রী বিতরন করেন। এছাড়া ইলিশা জংসন বাজারে এক ইলিশা রাজাপুর বাচাও কমিটির আয়োজনে সমবাবেশে বক্তব্য রাখেন বাণিজ্য মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। এসময় স্থানীয়রা ,ইলিশা জংসন,রাজাপুর বাজার মেঘনার কড়াল গ্রাস থেকে বাঁচানোর জন্য জিও ব্যাগ বরাদ্ধ বাড়ানোসহ দ্রুত ব্লকের কাজ শুরু দাবী জানান।
স্থানীয়রা জানিয়েছে,ভোলা সদরের রাজাপুর ইউনিয়নে বেড়ি বাঁধ ভেঙ্গে প্রায় ২০টি গ্রাম গত এক সপ্তাহ ধরে সকাল বিকাল জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হচ্ছে। এলাকার প্রায় ২০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জোয়ারের পানিতে ডুয়েছে। এতে করে কয়েক হাজার শিক্ষার্থীদের লেখা পড়া বন্ধ। অন্য দিকে এলাকার টিউবওয়েল গুলো ডুবে থাকায় দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট। শুক্রবার দুপুরে  বড়মানিকা সহ পাশ্ববর্তী পক্ষিয়া ইউনিয়ন সংলগ্ন বাঁধে অন্তত: ১০ টি স্থানে ছোট বড় ফাঁটল দেখা যায়। কোন কোন স্থান দিয়ে মাত্র ২-৩ ফুট বাঁধ অবশিষ্ট আছে, বাকি অংশ নদীগর্ভে চলে গেছে।
এলাকাবাসী জানান, শুক্রবারও একই পরিমান পানির চাপ থাকলে যে কোন মুহূর্তে বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে উপজেলা সদর পর্যন্ত প্লাবিত হওয়া সময়ের ব্যাপার মাত্র। প্লাবনের আশঙ্কায় পৌর শহর সহ ৫ ইউনিয়নের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। এদিকে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কায় বাঁধের আশ-পাশের  কিছু পরিবার অন্যত্র চলে গেছে। তবে নি¤œ আয়ের লোকজন বাড়ি ঘরেই অবস্থান করতে দেখা গেছে।ভোলার লক্ষধিক মানুষ পানিবন্ধি : তীর সংরক্ষন বাঁধে ধ্বস
আজ শুক্রবার বড়মানিকা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জসিমউদ্দিন হায়দারের তদারকিতে কয়েক শত শ্রমিককে বাঁধ মেরামত করতে দেখা গেছে। স্থানীয় বাসিন্দা আ. হক,  মো. বাবুল , হোসেন হাওলাদার, ইদ্রিস মাঝি, লোকমান মিয়া জানান, বৃহস্পতিবার জোয়ার কমার সাথে সাথে দিন-রাত এখন পর্যন্ত মেরামত কাজ চলছে। অপরদিকে লালমোহনে লডহাডিঞ্জ, পশ্চিম চর উমেদ এলাকায় বাধ ভেঙ্গে ৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। তজুমদ্দিনে চাঁদপুর,মলংচড়া,সোনাপুর ইউনিয়নের ৪/৫ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। চরফ্যাসনে ঢাল চর কুকরি মুকরি,মুজিব নগর এলাকায় প্লাবিত হয়েছে। দৌলতখানে মদপুর ,হাজিপুর,সৈয়দপুর ইউনিয়নের ভাঙ্গন কবলিত এলাকা প্লাবিত হয়েছে। মনপুরায় উত্তর সাকুচিয়া,দক্ষিন সাকুচিয়া ইউনিয়নের বিচ্ছিন্ন চর গুলো ৪/৫ ফুট পানিতে প্লাবিত হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আ. কুদদূস জানান, ভোলা পানি উন্নয়ন বোর্ডকে এ ব্যাপারে অবহিত করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে ভোলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহি প্রকৌশলী মো. বাবুল আকতার সাংবাদিকদের বলেন, ৬ শত মিটার বাঁধ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।  বাঁধ মেরামতের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।    

এবিএন/শুক্র-২য়/সারাদেশ/আদিল হোসেন তপু/মুস্তাফিজ/রাজ্জাক

Like us on Facebook

প্রধান শিরোনাম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত