logo
শনিবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০১৬
 
 
  • হোম
  • সারাদেশ
  • প্রধান শিক্ষকের সেচ্ছাচারিতাই অতিষ্ঠ শার্শার রেলবাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীরা
প্রধান শিক্ষকের সেচ্ছাচারিতাই অতিষ্ঠ শার্শার রেলবাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীরা
প্রধান শিক্ষকের সেচ্ছাচারিতাই অতিষ্ঠ শার্শার রেলবাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীরা
যশোর, ০৫ আগস্ট, এবিনিউজ : প্রধান শিক্ষকের সেচ্ছাচারিতাই অতিষ্ঠ শার্শার রেল বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক কর্মচারীরা। বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করলেও প্রধান শিক্ষক রয়েছে বহাল তবিয়তে। বিভিন্ন মহলে অভিযোগ করে কোন প্রতিকার হয়নি বলে শিক্ষক কর্মচারীদের অভিযোগ। ক্লাশ না নিয়ে বিশেষ রুমে খাট পেতে শুয়ে থাকারও অভিােগ রয়েছে।
বিভিন্ন দপ্তরে দেয় লিখিত অভিযোগে জানা যায়, শার্শার রেল বাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জেসমিনারা খাতুন ২০০২ সালের ২৪ জানুয়ারী ওই প্রতিষ্ঠানে যোগদান করেন। যোগদানের পরপরই তিনি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক কর্মচারিদের সাথে দুর্ব্যবহার সহ অবৈধভাবে অনৈতিক সুবিধা নিতে শুরু করে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধির নাম অপব্যবহার করে শিক্ষক কর্মচারীদের জিম্মি করা সহ বিভিন্ন ভয়ভিতি দেখিয়ে প্রতিষ্ঠানের সম্পদ নিজ বাড়িতে রাখার অভিযোগ উঠেছে।
এলাকাবাসীসহ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক কর্মচারিদের অভিযোগের ভিত্তিতে গত ৩১ জুলাই শার্শার রেল বাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরজমিনে গিয়ে ছাত্রছাত্রীসহ অভিযোগকারীদের সাথে কথা বললে বেরিয়ে আসে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির প্রমান এবং প্রধান শিক্ষক জেসমিনারা খাতুনের অনৈতিক সুবিধা নেয়াসহ শিক্ষক কর্মচারিদের সাথে দুর্ব্যবহার ও প্রতিষ্ঠানের সম্পদ নিজ হেফাজতে রাখার সত্যতা মেলে। 
প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল হাই ও পারভিনা খাতুন জানান, প্রধান শিক্ষক জেসমিনারা খাতুন নিজের ইচ্ছা মত স্কুলে আসেন। তার কোন সময়ের জ্ঞান ছিলেন না। কোনদিন সময় মতো প্রতিষ্ঠানে আসতেন না। প্রতিষ্ঠানের পিয়ন দিয়ে বাড়িতে হাজিরা খাতা নিয়ে সাক্ষর করারও অভিযোগ করেন তারা। অন্যান্য দিনের মত গত ১৯ জুলাই প্রতিষ্ঠানের পিয়নকে ডেকে নিয়ে রাস্তায় দাড়িয়ে হাজিরা খাতায় সাক্ষর করে। 
তারা আরো বলেন, নাম প্রকাশ করলে ওই প্রধান শিক্ষক বিশেষ মহলকে লেলিয়ে দিবেন আমাদের বিরুদ্ধে। তবে তারা অনুরোধ করে বলেন, ধংস হতে বসেছে এ প্রতিষ্ঠান। আপনারা প্রতিষ্ঠানকে বাচাঁন।
শিক্ষিকা রেহেনা খাতুন জানান, গত ২২বছর ধরে এ প্রধান শিক্ষককে দেখছি। যেখানেই তিনি চাকুরি করেছেন সেখানেই নিয়ম বহির্ভুতভাবেই কর্মকান্ড চালিয়েছেন। এখন তার পরিবর্তন হয়নি। এর জন্য আগের প্রষ্ঠিানে চাকুরি করা অবস্থায় লাঞ্চিতও হতে হয়েছে।
শিক্ষিকা নিগার সুলতানা রোজি জানান, উপবৃত্তির অর্থের সঠিক তথ্য না দেয়ায় প্রথিষ্ঠান থেকে লক্ষাধিক টাকা ফিরে গেছে। যার ফলে শিক্ষার্থীর অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের এখানে না রাখারওি হুমকি দিয়েছে। উপবৃত্তির টাকার ন্যায্য দাবি করায় এক শিক্ষার্থীর টিসি দেয়ারও ঘটনা ঘটেছে। যা প্রতিষ্ঠানের জন্য হুমকি সরুপ। তিনি আরো জানান, সরকারের দেয়া প্রতিষ্ঠানের ল্যাপটপ প্রধান শিক্ষক জেসমিনারা খাতুন বাড়িতে নিয়ে রেখেছে। নিজ সম্পত্তি হিসাবে ব্যবহার করে চলেছে। যা সম্পূর্ণ অনৈতিক।
শিক্ষক কর্মচারিরা আরো জানান, প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন সংস্কার কাজের জন্য কয়েক দফা অর্থ বরাদ্ধ হলেও তার কোন হদিস মেলেনি। কিভাবে সে অর্থ ব্যয় করা হয়েছে তা জানা যায়নি। সরকারের বরাদ্ধকৃত সোলার বিদ্যুৎ প্রতিষ্ঠানে পৌছালেও তিনি তার ব্যবহার যোগ্য না করে ফেলে রেখেছেন বলে অভিযোগ করেছেন তারা। মাল্টিমিডিয়া প্রযুক্তিতে ক্লাস নেয়া এবং তার ব্যবস্থা থাকলেও তিনি সেগুলো ফেলে রেখেছেন। যা পড়ে থাকায় নষ্ট হতে চলেছে।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মমতাজ বেগম সহ অন্যান্যরা জানান, তিনি খুব বদ মেজাজি। কারো সাথে তিনি ভাল ব্যবহার করেন না। সকলে সাথে হালের বলদের মত ব্যবহার করেন বলে জানান। তিনি অধিকাংশ সময় ক্লাশ না নিয়ে স্টোর রুমে খাট পেতে শুধুই ঘুমান। যার সত্যতা মেলে সেখানে সরজমিনে গিয়ে।
প্রতিষ্ঠানে পরিচালনা পর্ষদের সভাপতির মিনহাজ উদ্দিনের কাছে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে এ সকল অভিযোগ আমার জানা নেই। যা আজই শুনেছি। তবে সে বিশ্রামের জন্য খাট পেতেছে প্রতিষ্ঠানে তা গতকাল শুনেছি। অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা নেয়া হবে।
উপজেলা চেয়ারম্যান সিরাজুল হক মঞ্জুর কাছে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে কিছুদিন যাবদ অভিযোগ শুনছি। তবে গতকাল লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। সংশ্লিষ্ট দপ্তরে বিষয়টি জানানো হবে এবং তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
শার্শার রেল বাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জেসমিনারা খাতুনের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি। তিনি সিএল-এ ১৫দিনের ছুটিতে ঢাকা গেছে বলে জানা যায়। সিএল-এ ১৫দিনের ছুটি নেয়া যায় না বলে অন্যান্য শিক্ষকরা জানান। পরে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্ঠা করেও অপর প্রান্ত থেকে কোন রিসিভ হযনি।  
 
এবিএন/শুক্র-২য়/সারাদেশ/ডেস্ক/ইয়ানুর রহমান/মুস্তাফিজ/ইতি

প্রধান শিরোনাম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত