logo
শনিবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০১৬
 
 
  • হোম
  • সারাদেশ
  • সিরাজগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও কাটেনি দুর্ভোগ
সিরাজগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও কাটেনি দুর্ভোগ
সিরাজগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও কাটেনি দুর্ভোগ
সিরাজগঞ্জ, ০৫ আগস্ট, এবিনিউজ : যমুনা নদীর পানি কমতে থাকায় জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও বানভাসি মানুষের দুর্ভোগ কাটেনি। এবারের বন্যায় আবাদি জমির চলতি মৌসুমের ফসল ও শাকশব্জির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। গোখাদ্যের অভাবে বাথান মালিকরা গবাদি পশু নিয়ে পরেছেন বিপাকে। দুর্গম চর এলাকায় বিশুদ্ধ পানির সঙ্কট দেখা দিয়েছে। ব্যহত হচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের লেখা পড়া। চাহিদার তুলনায় ত্রাণ সামগ্রী না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে উঠছে বানভাসিরা। 
বর্তমানে যমুনা নদির পানি বিপদসীমার ৯ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এবারের বন্যায় জেলার নিম্নাঞ্চলের ৫টি উপজেলাসহ ৭টি উপজেলা বন্যা কবলিত হয়ে পড়ে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে কৃষি ক্ষেত্রে। বন্যায় ২হাজার হেক্টর জমির রোপা আমন ধান বন্যার পানিতে নিমজ্জিত হয়ে সম্পূর্ণ বিনষ্ট হয়েছে। কৃষকদের জন্য প্রনোদনা দেয়া হয়েছিলো ১হাজার বিঘার আউশ। তার মধ্যে ৫শ’২৫ বিঘাই তলিয়ে গেছে। এছাড়া বাড়ন্ত পাটের জমি নিমজ্জিত হয়েছে ৪হাজার ৬শ’ ৯২ হেক্টর। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বোনা আমনের। ১১হাজার ১শ’ হেক্টর বোনা আমন ক্ষেত তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকগণ হতাশাগ্রস্ত হয়ে পরেছেন। এছাড়া ৮শ’ ৯০ হেক্টর জমির সবজি, ১শ’ ৫ হেক্টর জমির আখ, ৬শ’ ৭৩ হেক্টর জমির রোপা আমনের বীজতলা পানিতে ডুবে বিনষ্ট হয়েছে। কাজিপুরে ৯ হেক্টর কলা চাষের জমি নিমজ্জিত হওয়ায় কলাচাষীদের মাথায় হাত। 
কৃষি বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানান, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকা তৈরীর কাজ শুরু হয়েছে। এদিকে যমুনা নদীর তীরবর্তী চৌহালী, বেলকুচি, শাহজাদপুর, কাজিপুর ও সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার লক্ষাধিক বানভাসি এখনও ঘরে ফেরেনি। এসব উপজেলার চরাঞ্চলে চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করায় বহু পরিবার মানবেতর জীবন যাপন করছেন। এতে বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠছেন তারা। বিশেষ করে বাঘাবাড়ি মিল্ক ভিটার নিয়ন্ত্রনে গরুর বাথানে গোখাদ্যের সংকট দেখা দেয়ায় দুগ্ধ উৎপাদন কম হচ্ছে বলে বাথান মালিকরা জানান। বন্যা কবলিত এলাকায় জ্বালানী ও বিশুদ্ধ পানি সংকটসহ বিভিন্ন রোগের প্রার্দুভাব দেখা দিয়েছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তরা নৌকার শব্দ পেলেই ত্রাণের আশায় ছুটে যান। ত্রাণ অপ্রতুল হওয়ায় তা ফুরিয়ে যাওয়ার ভয়ে সাবার আগে নেয়ার জন্য শুরু হয় প্রতিযোগিতা। এসময় প্রতিযোগিতায় হেরে অনেকেই খালি হাতে ফিরে আসেন বিষন্ন হয়ে। 
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বেলকুচি উপজেলা সদরের রতনকান্দী গ্রামের জমিরা খাতুন, আব্দুস সবুর ও আমিনুল ইসলাম তাদের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, এ পর্যন্ত যে পরিমান ত্রাণ সহায়তা দেয়া হয়েছে তা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল। দ্রুত পর্যাপ্ত ত্রাণ সহায়তা বাড়ানোর দাবি জানান তারা। এদিকে বানভাসী মানুষের জন্য আজ শুক্রবার পর্যন্ত যমুনা নদীর তীরবর্তী চৌহালী, কাজীপুর, শাহজাদপুর, বেলকুচি ও সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলাসহ ৩টি পৌরসভার বন্যার্তদের জন্য ৭শ’ ৮৮ মেট্রিকটন চাল এবং ২৭ লক্ষ ৮৮ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়ার পর তা বিতরণ কাজ চলছে বলে জেলা বন্যা নিয়ন্ত্রণ কক্ষ জানিয়েছে।
 
এবিএন/শুক্র-২য়/সারাদেশ/ডেস্ক/তফিজ উদ্দিন/মুস্তাফিজ/ইতি

প্রধান শিরোনাম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত