logo
মঙ্গলবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০১৬
 
 
কয়রায় এডিপির কাজে অনিয়মের অভিযোগ
কয়রায় এডিপির কাজে অনিয়মের অভিযোগ
কয়রা (খুলনা), ০৫ আগস্ট, এবিনিউজ : খুলনার কয়রায় বার্ষিক উন্নয়ন তহবিল (এডিপি) প্রকল্পের কাজে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। কাজের গুনগত মান ভলো না হওয়া, রাস্তায় নিম্নামানের ইট ব্যবহার, পরিমাণে বালু কম দেয়ায় ২০১৫-২০১৬ অর্থ বছরের এডিপি’র কাজে বিস্তর অনিয়ম পরিলক্ষিত হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে কয়রা উপজেলায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) অফিসের মাধ্যমে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচীর আওতায় বিভিন্ন উন্নয়ন মূলক কাজের জন্য ১৯টি প্রকল্পের মাধ্যমে ৬৯ লাখ ৭১ হাজার টাকা ও বিশেষ স্কীমের ২টি প্যাকেজের ৪ লাখ টাকা বরাদ্দ আসে। বরাদ্দকৃত কাজের মধ্যে রয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আংশিক ভবন ও প্রাচীর নির্মাণ, কালভার্ট নির্মাণ, দুস্থদের মাঝে রিংস্লাব সরবরাহ, খেয়াঘাট সংস্কার, ইটের সোলিং দ্বারা উন্নয়ন, নলকুপ স্থাপন, মসজিদের ল্যাট্রিন নির্মাণকাজ। এর মধ্যে ৪ লাখ টাকার ২টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করে দু’জন জনপ্রতিনিধিসহ ৭ সদস্যের পিআইসি কমিটি। অবশিষ্ট ১৯টি প্রকল্প ৬৯ লাখ ৭১ হাজার টাকায় বাস্তবায়িত হয় টেন্ডারের মাধ্যমে। এছাড়া বিশেষ বরাদ্দের আরো ২০ লাখ টাকার কাজের টেন্ডার গত জুন মাসের শেষে দিকে তড়িঘড়ি করে করা হলেও ঠিকাদার এখনো কাজ শুরু করেনি। ৪টি প্যাকেজের এ কাজে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের নামে ২০ লাখ টাকার পে-অর্ডার করে রাখা হয়েছে বলে একটি সূত্র জানিয়েছে। 
কবে নাগাদ কাজ শুরু হবে জানতে চাইলে উপজেলা প্রকৌশলী দপ্তরের একজন কর্মকর্তা জানান, কবে নাগাদ ঠিকাদার কাজ শুরু করবে তা তিনি বলতে পারেন না। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে,  পিআইসি কমিটির মাধ্যমে করা দু’টি ইটের সোলিং রাস্তার কাজের গুনগত মান ভাল হয়নি।  রাস্তায় দুটিতে বালুর পরিমান কম দেয়া এবং ইটের মান খারাপ হওয়ায় স্থানীয় লোকজনের মধ্যে চাপা ক্ষোভ রয়েছে। এছাড়া টেন্ডারের মাধ্যমে সম্পন্ন হওয়া কয়েকটি রাস্তায় নিয়মিত নসিমন ভ্যান চলাচল করায় ইট দেবে গিয়ে রাস্তার যে অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তা পুণরায় সংস্কার করা হয়নি। ফলে লোকজন যাতায়াতে ভোগান্তি পোহাচ্ছে।
সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, আমাদি ইউনিয়নের চান্নিরচক আমজাদ সরদারের বাড়ি হতে কাঁঠলতলা অভিমুখী রাস্তার উন্নয়ন, হরিকাটি শিবপদ মন্ডলের বাড়ি হতে কৃষ্ণ সরদারের বাড়ি অভিমুখী ইটের সোলিং রাস্তায় নিম্নমানের ইট বিছানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ট্যাগ কর্মকর্তার নিকট বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি জানান, চান্নিরচক-কাঁঠালতালা রাস্তার কাজের মান খুব একটা ভাল হয়নি। এ ইউনিয়নে এডিপি’র বেশ কয়েকটি রাস্তার কাজ হয়েছে কিন্তুু সময়ের অভাবে সবগুলো রাস্তার কাজ দেখভাল করা সম্ভব হয়নি। উত্তর বেদকাশির বতুল বাজার রেজাউল শেখের বাড়ি হতে মাঝেরপাড়া ভায়া আজিজুল মোল্লার বাড়ি অভিমুখী রাস্তার উন্নয়নে বরাদ্দ ৪ লাখ ৫৪ হাজার ৭শ ৪০ টাকা। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান উৎসব ক্যাবল ভিশন রাস্তাটির কাজ করেছে। এ রাস্তায় বালুর পরিমান এত কম যে মোটর সাইকেল চলাচলে পুরো রাস্তার ইট নড়বড় করে। স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ ঠিকাদার ভালো ইট দিয়ে রাস্তা করেনি এবং বালুর পরিমাণ কম দেয়ায় রাস্তার মান মোটেও ভাল হয়নি। এ ধরনের দায়সাারা গোছের কাজ করে ঠিকাদার আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছে বলে স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ। 
বাগালী ইউনিয়নের ৮টি কাজের ব্যাপারে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট ট্যাগ কর্মকর্তা সহকারী পল্লী উন্নয়ন অফিসার জুলফিকার আলী বলেন, ৪টি রাস্তার কাজ মোটামুটি ভালো দেখেছি অন্যগুলোর কাজ ভাল না হওয়ায় প্রথমে প্রত্যায়ন দেয়নি। পরবর্তীতে কাজ ভালো করায় প্রত্যয়ন দেয়া দিয়েছি। 
এ ব্যাপারে উপজেলা চেয়ারম্যান আ.খ.ম তমিজ উদ্দিন বলেন, দাপ্তরিক অনেক কাজ থাকায় সময়ের অভাবে এবার এডিপি’র কাজ ঠিকমতো দেখভাল করতে পারেনি। তবে কাজের মান ভালো হওয়া উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন। 
 
এবিএন/শুক্র-২য়/সারাদেশ/ডেস্ক/শহীদুল্যাহ/মুস্তাফিজ/ইতি

প্রধান শিরোনাম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত