logo
রবিবার, ২৫ জুন ২০১৭
 

সেহরি ও ইফতার | রমজান-২৯

সেহরির শেষ সময় : ভোর ৩:৩৯

ইফতার : সন্ধ্যা ৬:৫৩

অভয়নগরে সমবায় করে স্বাবলম্বি ৪০ বেকার যুবক

অভয়নগরে সমবায় করে স্বাবলম্বি ৪০ বেকার যুবক
অভয়নগর (যশোর), ০৪ আগস্ট, এবিনিউজ : চাকরির জন্য ওদের আর খবরের কাগজ উল্টাতে হয়না। কাজ দাও বলে দ্বারে দ্বাারে ঘুরতেও হয় না, ওরা এখন স্বাবলম্বি। নিজেরাই অন্যের কর্ম সংস্থান করছে। 
মাত্র দেড় বছরের মধ্যে যশোরের অভয়নগর উপজেলার প্রেমবাগ ফ্রেন্ডস সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতি লিমিটেড নামে ৪০ জন বেকার যুবকদের একটি সমবায় সমিতি ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেছে। তারা প্রত্যেকে ৪৫ হাজার টাকা বিনিয়োগ করে ৯ লাখ টাকার মুলধন করে গরু মোটাতাজাকরণের একটি খামার গড়ে তোলে। এখন তাদের বিনিয়োগকৃত মুলধনের পরিমাণ দাড়িয়েছে ৩৮ লাখ টাকায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানাগেছে, লেখাপাড়া শিখে চাকরি না পেয়ে ওরা কয়েক বন্ধু মিলে গত বছরের এপ্রিল মাসে সমিতি করার উদ্যোগ নেয়। তারা ২০ জন মিলে প্রথমে ২০ হাজার টাকা মুলধন বিনিয়োগ করে। এতে তাদের মুলধনের পরিমান দাড়ায় চার লাখে। তারা ওই ৪ লাখ টাকা দিয়ে ১০টি গরু মোটাতাজা করনের খামার করে। ছয় মাস পরে ওই গরু বিক্রি করে তাদের নীট লাভ হয় দেড় লাখ টাকা। তারা এর পাশাপশি বিভিন্নভাবে আরো ছয় লাখ টাকা পুজি যোগাড় করে। যুবকেরা ওই টাকা দিয়ে চার হাজার ধারন ক্ষমতা সম্পন্ন একটি মুরগীর খামার করে। খামারে বয়লার ও লেয়ার দুই ধরনের মুরগীর চাষ হয়। মুরগীর চাষে এক বছরে প্রায় দুই লাখ টাকা লাভ হয়। এ বছর জমি লিজ নিয়ে ১০ বিঘা জমিতে ধান চাষ করে প্রায় তিন’শ মন ধান উৎপাদন করেছে। এছাড়া তারা ৪২ শতকের ১৫ বিঘা জমিতে মাছ চাষ করেছে। মাছের খামারে আছে রুই মৃগেল সহ স্থানীয় জাতের মাছ। ধানের খড়, কুড়া ও চাল গরু, মরগী ও মাছের খাবার হিসাবে ব্যাবহার করা হচ্ছে।  তারা আশা করছেন মাছের খামার থেকে ১০ লাখ টাকা লাভ হবে। সব কিছু মিলিয়ে বর্তমানে তাদের বিনিয়োগ কৃত মুলধনের পরিমান দাড়িয়েছে ৩৮ লাখে। 
সমিতির প্রধান উদ্যোক্তা ও সভাপতি মিন্টু কুমার দত্ত জানান, আমি ১৯৯৬ সালে এইচ এস সি পাশ করেছি। চাকরির জন্য অনেকের কাছে ধন্না দিয়েছি। কোন চাকরি না পেয়ে আমার মতো কয়েকজন বেকার বন্ধু মিলে সমবায় সমিতি করার উদ্যোগ গ্রহন করি। আমার ডাকে ২০ জন সদস্য সংগ্রহ হয়। প্রত্যেক সদস্য ২০ হাজার টাকা চাঁদা দিয়ে চার লাখ টাকা পুজি করি। ওই চার লাখ টাকার সাথে অন্যের কাছ থেকে আরো এক লাখ টাকা ধার করি। মোট পাঁচ লাখ টাকা দিয়ে ১০টি গরু নিয়ে একটি খামার করি। এতে ভালই লাভ হয়। পরে আমাদের সাথে আরো ২০ জন বেকার যুবক যোগ দেয়। আমরা মুরগী ও মাছের খামার করার সিদ্ধান্ত করি। এ জন্য সবাই আরো ২৫ হাজার টাকা চাঁদা দেই। এছাড়া ধার করে আরো পুজি সংগ্রহ করি। সবকিছু মিলিয়ে আমাদের এখন পুজ দাড়িয়েছে ৩৮ লাখে। তিনি বলেন, বর্তমানে তাদের খামারে ৫/৬ জন লোকের থাকা খাওয়া বাদে ৭ হাজার টাকা করে বেতন দেয়া হচ্ছে। পুজি বেশি হলে প্রকল্প আরো বড় করা হবে। আরো অনেক লোকের কর্মসংস্থান হবে। 
সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস হোসেন জানান, ৪০ জন সদস্য পালা করে খামারগুলো দেখা শুনা করি। সকলের মধ্যে ঐক্য আছে। কেউ সদস্য পদ প্রত্যাহার করতে চাইলে তার সমুদয় টাকা ফেরৎ দেয়া হবে। 
উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা আসলাম হোসেন জানান, আমি নতুন আসছি ওদের প্রকল্পগুলো পরিদর্শনের সুযোগ হয়নি। তবে আমার কর্মীরা প্রকল্প পরিদর্শন করে ভাল রিপোর্ট দিয়েছে। আগামী মাসে ওদের সমিতির অডিট হবে। অডিটের পর বিস্তারিত জানাযাবে।
 
এবিএন/বৃহস্পতি-২য়/সারাদেশ/ডেস্ক/সেলিম হোসেন/মুস্তাফিজ/ইতি

প্রধান শিরোনাম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত