logo
রবিবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০১৬
 
 
  • হোম
  • অর্থ ও বাণিজ্য
  • কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশ অমান্য করলো মার্কেন্টাইল কো-অপারেটিভ ব্যাংকের চেয়ারম্যান
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশ অমান্য করলো মার্কেন্টাইল কো-অপারেটিভ ব্যাংকের চেয়ারম্যান
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশ অমান্য করলো মার্কেন্টাইল কো-অপারেটিভ ব্যাংকের চেয়ারম্যান

ঢাকা, ০৪ আগস্ট, এবিনিউজ : সমবায় আইন অনুযায়ী কো-অপারেটিভ সোসাইটি ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে না। অবৈধ ব্যাংকিং বন্ধ করতে মার্কেন্টাইল কো-অপারেটিভ ব্যাংকে প্রশাসক নিয়োগ দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। কিন্তু কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশ অমান্য করার মত দৃষ্টতা দেখালেন মার্কেন্টাইল কো-অপারেটিভ ব্যাংকের চেয়ারম্যান আবু জাফর চৌধুরী।
জানা গেছে গত সোমবার (১আগষ্ট) প্রশাসক হিসাবে মার্কেন্টাইল কো-অপারেটিভে যোগ দিতে যান সমবায় অধিদপ্তরের যুগ্ন নিবন্ধক মোঃ নুরুজ্জামান। কিন্তু তার যোগদানপত্র গ্রহণ করা হয়নি। সমিতির চেয়ারম্যান আবু জাফর চৌধুরী যোগদান পত্রের উপর ‘প্রশাসক হিসাবে গ্রহন করা যাচ্ছে না’ এমন কথা লিখে তা ফেরত দেন। এ ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশ সরাসরি অমান্য করার পাশাপাশি কর্তৃপক্ষকে চ্যালেঞ্জ করার মত দৃষ্টতা করা হয়েছে বলে মনে করেছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দায়িত্বশীলরা।
এ প্রসঙ্গে মঙ্গলবার (২ আগষ্ট) প্রশাসক মোঃ নুরুজ্জামান বলেন ‘আমি সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী প্রশাসক হিসাবে যোগদানপত্র দিয়েছি মার্কেন্টাইল কো-অপারেটিভ ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে। কিন্তু আমার যোগদানপত্রের উপর প্রশাসক হিসাবে গ্রহন করতে পারছেনা তা লিখে দেওয়া হয়’। প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে এর কারন হিসাবে আদালতে এব্যাপারে একটি রিট পিটিশান দায়ের করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
তিনি বলেন, বিষয়টি সমবায় অধিদপ্তর থেকে আইনিভাবে মোকাবেলা করা হবে।  এব্যাপারে মঙ্গলবার টেলিফোনে যোগাযোগ করা হলে ‘দি ঢাকা মার্কেন্টাইল কো-অপারেটিভ ব্যাংক’ এর চেয়ারম্যান আবু জাফর চৌধুরী কোন মন্তব্য না করে উচ্চবাচ্য ও অকথ্য ভাষা ব্যবহার করে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
আরো জানা গেছে, অবৈধ ব্যাংকিং এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি এপর্যন্ত নয়শত একাশি কোটি টাকার আমানত সংগ্রহ করে। বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে অতি মুনাফার লোভে আমানতের অতিরিক্ত সুদ দিতে গিয়ে প্রতিষ্ঠানটি ব্যাংক ঋণের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। ফলে দুই লাখের বেশী গ্রাহকের এই আমানতের অর্থ চাহিবামাত্র ফেরত দেওয়ার বিষয়টি ঝুঁকিপূর্ন হয়ে উঠেছে।
অধিক লাভের প্রলোভন দেখিয়ে আমানত সংগ্রহ করে রাতের অন্ধকারে অনেক প্রতিষ্ঠানের উধাও হয়ে যাওয়ার উদাহরন অনেক আছে আমাদের দেশে। আবার নিয়ম বহির্ভুতভাবে ব্যবসা করার উদাহরনও তৈরী করেছে অনেক প্রতিষ্ঠান, যাদেরকে এখন আর খুঁজে পাওয়া যায়না। আবার অনেক প্রতিষ্ঠান দেওলিয়া হয়ে গেছে। নিয়ম বহির্ভুতভাবে চলা এসব প্রতিষ্ঠানে সঞ্চয় করে সর্বস্ব হারিয়েছে অনেকে।সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হচ্ছে ‘দি ঢাকা মার্কেন্টাইল কো-অপারেটিভ ব্যাংক’ নামক এই প্রতিষ্ঠানটি একটি পারিবারিক প্রতিষ্ঠান যার শীর্ষ দুই পদ স্বামী স্ত্রীর দখলে। স্বাভাবিকভাবেই নিরাপত্তার ঝুঁকি এই প্রতিষ্ঠানে বড় হয়ে দেখা যাচ্ছে।
এদিকে, এই প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে অর্থ পাচার ও জঙ্গী অর্থায়নের সাথে সম্পৃক্ততা আছে বলে জানা যায়। এব্যাপারে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় পরিচালক মোঃ মোখলেছুর রহমান সরকারের স্বাক্ষরিত একটি নির্দেশনা পাঠানো হয় অর্থ মন্ত্রনালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিবকে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশে সমবায় অধিদপ্তর, দুর্নীতি দমন কমিশন ও বাংলাদেশ ব্যাংক এবিষয়ে পৃথকভাবে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।


এবিএন/বৃহস্পতি-২য়/অর্থনীতি/ডেস্ক/মুস্তাফিজ/রাজ্জাক

প্রধান শিরোনাম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত